ঢাল আর তরোয়াল বিহীন চাঁদপুর নৌ-থানা

মোহাম্মদ বিপ্লব সরকার,  চাঁদপুর  প্রতিনিধি: চাঁদপুর নৌ থানা দীর্ঘদিন যাবত ঢাল আর তরোয়াল বিহীন চলছে। নেই কোনো অফিসার ইনচার্জ। অফিসার ইনচার্জ ছাড়াই অবিভাবকহীন অবস্হায় চলে আসছে চাঁদপুর নৌ থানা। ১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর মা ইলিশ রক্ষা অভিযানে বিশেষ দায়িত্ব নিয়ে মুন্সিগঞ্জের মুক্তারপুর থেকে কবির হোসেন নামে একজন অফিসার ইনচার্জ ২২ দিনের জন্য আসলেও অভিযান শেষে তিনিও তার পূর্বের স্হানে ফিরে যান। ফলে প্রায় ৬মাস ধরে ওসি ছাড়াই চলছে চাঁদপুর নৌ থানার কার্যক্রম।
এতে করে চাঁদপুরে নৌ- পথে চলাচল কারী যাত্রীরা পুলিশের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। নৌ পথের নিরাপত্তা, নদীর সম্পদ রক্ষাসহ নদী কেন্দ্রীক অপরাধ নিয়ন্ত্রন ও নদী পথে যাতায়াতকারী যাত্রীদের নিরাপত্তায় নৌ পুলিশ গঠনের উদ্যোগ নেয় সরকার। বর্তমান সরকার নৌ পথের নিরাপত্তায় ২০১৩ সালের ১২ নভেম্বর থেকে নৌ পুলিশের কার্যক্রম শুরু করে। চাঁদপুর অঞ্চলে ১০টি নৌ ফাঁড়ি ও একটি নৌ থানা গঠন করা হয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চাঁদপুর নৌ থানা গঠনের পর থেকে একজন অফিসার ইনচার্জ বা ওসি’র নেতৃত্বে কাজ শুরু করে বাংলাদেশ নৌ-পুলিশ।
এই নৌ থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে সর্বশেষ দায়িত্ব পালন করেন মো. জহিরুল হক। মা ইলিশ রক্ষার অভিযানে ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ হিসেবে বিশেষ দায়িত্ব দেন ২২ দিনের জন্য আসা মুন্সীগঞ্জের মুক্তারপুর নৌ থানার মো. কবির হোসেন খানকে। অত্যন্ত চৌকস এবং কর্মদক্ষ এই কর্মকতা একই সাথে চাঁদপুর এবং মুন্সীগঞ্জের মুক্তারপুর নৌ পুলিশ স্টেশনের দায়িত্ব পালন করেন। মা ইলিশ রক্ষা অভিযান শেষে তিনি তার পূর্বের দায়িত্বে ফিরে যান। মূলত এরপর থেকে একেবারেই ঢাল ও তরোয়াল হীন নিধিরাম সর্দার হয়ে পড়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ নৌ-বন্দরের নৌ থানাটি। চাঁদপুর নৌ থানা সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে অফিসার ইনচার্জের দায়িত্ব পালন করছেন সাব-ইন্সপেক্টর মো. জহিরুল হক।
বর্তমানে এই থানায় ২ জন এসআই, ৩জন এএসআই ও ১৫ জন পুলিশ সদস্য নিয়ে চলছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কার্যক্রম। এছাড়াও জনবল সঙ্কটের পাশাপাশি তাদের রয়েছে নৌ-পথকে শাসন করার অধুনিক জলযান-সরঞ্জামাদি। রাতে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া খুব একটা নদীতে নামেন না তারা । ফলে এ সুযোগ নিয়ে সম্প্রতিক সময়ে নদীতে ডাকাতির ঘটনা বেড়ে চলেছে। নৌ পুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার (এসপি) কামরুজ্জামান বলেন, চাঁদপুর নৌ অঞ্চলে ১০টি ফাড়ি ও একটি থানা রয়েছে। এই একমাত্র থানাটি হলো চাঁদপুর নৌ থানা। তাই এই নৌ-থানাটি আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
আমরা একজন দক্ষ পুলিশ অফিসার খুঁজছি। আশা করছি খুব শীঘ্রই একজন দক্ষ অফিসারকে এই থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হবে। সম্প্রতি চাঁদপুর নৌ-রুটে ডাকাতির ঘটনা বেড়ে যাবার বিষয়ে তিনি বলেন, ডাকাতরা সাধারণত চতুর প্রকৃতির হয়। শীতের সময় ঘন কুয়াশার কারনে ডাকাতরা সুযোগ পেয়ে থেকে। প্রতিটি যাত্রীবাহী লঞ্চে সাদা পোশাকে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী নিয়োজিত করার বিষয়ে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলছি।
আমরা এর আগে ডাকাডির ঘটনায় একজনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছি। সকলের ডাটা আমাদের কাছে চলে এসেছে। আমরা খুব সহসাই ডাকাতির সাথে সম্পৃক্তকারীদের সকলকে আটক করতে সক্ষম হবো। উল্লেখ্য, গত ১ম সাসে চাঁদপুর নৌ সীমানায় ৩টি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। যার মধ্যে নারায়নগঞ্জ থেকে মতলবের মধ্যে চলাচলকারী দু’টি এবং চাঁদপুর শরিয়তপুর সুরেশ্বর নৌ-রুটে চলচলরত এটি লঞ্চে ডাকাতির ঘটনা ঘটে।