ঢাকা- সিলেট মহা সড়কের আউশকান্দিতে CRT টিম ও পুলিশের হাতে নারায়নগঞ্জের গাউসিয়া থেকে আসা ১৭ জন নারী পুরুষকে আটক করে হবিগঞ্জ আধুনিক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বুলবুল আহমদ, নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: মহামারি করোনা ভাইরাসের কারনে দেশের বিভিন্ন গার্মেস প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার কোম্পানীর কমকর্তা- কর্মচারীরা সারাদেশের ন্যায় হবিগঞ্জ, নবীগঞ্জ, আউশকান্দির আনাচে কানাচে ট্রাকযোগে দল বেঁধে আসতেছে।

এমন খবরে হবিগঞ্জ ও নবীগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করলেও তারা ভিন্ন কৌশলে আসতেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৭ জন নারী- পুরুষকে আটক করে হবিগঞ্জ আধুনিক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

জানাযায়, গত বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ২০ মিনিটের সময় ঢাকা-সিলেট মহা সড়কের নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি সিএনজি গ্যাস পাম্পের সামনে একটি মালবাহী ট্রাক দাড় করে। এসময় পাম্পে থাকা লোকজনকে দেখে গাড়িটি চলে যায় দেওতৈল ও মিঠাপুর সড়কের মধ্যবর্তী অন্ধকার স্থানে। সেখানে তাদের নামিয়ে দিয়ে ট্রাকটি চলে যায়।

এসময় গ্যাস পাম্পে আউশকান্দি এলাকার একটি সামাজিক সংঘটন “ক্রাইচেস রেস্পন্স টিম” (CRT) এর সদস্য সোয়েব আহমদ বিষয়টি আচ করতে পেরে উক্ত সংঘঠনের ফেইসবুক আইডিতে এ বিষয় নিয়ে ম্যাসেজ ও সাংবাদিকদের মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানিয়ে দৌড়ে ঐ আগত লোকজনের কাছে ছুটে আসেন।

এ খবর পেয়ে তাৎক্ষনিকভাবে CRT টিম এর সদস্য কামরুল হাসান বাবলু, সাংবাদিক বুলবুল আহমদ, শাহ আশরাফ আলী, মিলাদ হোসেন, ফরহাদ আহমদ, রায়হান চৌধুরী, নাঈম আহমদ, রকি পারভেজ, মুনসুর আহমদ সহ নবীগঞ্জ থানার পুলিশ এস.আই ফারুক আহমদ ঘটনাস্থলে এসে তাদেরকে জিঙ্গাসাবাদ করেন।

নারায়নগঞ্জ থেকে ছুটে আসা ১৭জন নারী-পুরুষ আটকের খবর পেয়ে তাাাৎক্ষনিকভা রাত ১২টা ৪০ মিনিটের সময় ঘটনাস্থলে চলে আসেন নবীগঞ্জ থানার অপারেশন ওসি আমিনুল ইসলাম সহ একদল পুলিশ। এবং মহা সড়ক সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অভিযান চালান।

সিলেটের দিরাই থানার ৯নং কুলইন ইউনিয়নের সুইপার পাড়া গ্রামের সুমন মিয়া (২২), সাইদুল হক (২০), মিলন (১৭), আলী নুর (২৩), রাহিম আহমদ (১৭), বায়জিদ (২০), আজিজুল (২৫), ফারজানা বেগম (২৩), পাপিয়া আক্তার (২০), ইমা বেগম (১৮), মৌসুমী আক্তার (১৭), সুলতানা বেগম (১৯), হালিমা বেগম (১৮), হেনা বেগম (২০), ফুলমতি (৩০)।

তাদের সাথে আলাপকালে তারা জানাযায়, নারায়নগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানাস্থ গাউসিয়া এনজিও এম.জেড টেডার্স মেইল ও আল রাজি সিনাংক মিলে তারা সবাই কাজ করতো। কোম্পানী বন্ধ হওয়ায় তারা ঢাকা থেকে একটি মাইক্রো যোগে সিলেটের দিরাইর উদ্দেশ্য আসলে পুলিশ মধ্য রাস্তায় গাড়িটি আটক করে। পরে আমাদের ফেলে গাড়ি চলে যায়। আমরাও আত্মগোপন করি। পরে আমার আরেকটি ট্রাকযোগে সেখান থেকে এ পর্যন্ত এসে পৌচ্ছি। এবং আমাদের নেওয়া জন্য তিনটি সিএনজি আসতেছে এখানে। কিন্তু সিএনজি চালকরা পুলিশ ও সাংবাদিকের খবর পেয়ে তারা দূরে গাড়ি রেখে শুধু মোবাইল ফোনে নারায়নগঞ্জ থেকে আগত লোকজনের সাথে কথা বলতে থাকে। আর বলে এখানে আমরা আসতে পারবনা। আমাদেরকে পুলিশ ধরবে। পরে সাংবাদিকরা ঐ সিএনজি চালকদের মোবাইল নাম্বার এনে কল দিয়ে পরিচয় দেওয়া মাত্রই তারা তাদের মোবাইল ফোনটি বন্ধ করে দেয়।

পরে CRT পিম এর সদস্যরা একটি কারযোগে মহা সড়কের আউশকান্দি শহীদ কিবরিয়া চত্ত্বর থেকে তাদেরকে কৌশলে আটক করে পুলিশের সামনে হাজির করা হয়। পরে পুলিশের ধমক খেয়ে তারাও পালিয়ে যায়। এর পর পরই রার ১টার দিকে প্রচন্ড ঝড় আর শীলা বৃষ্টির অতিক্রম করে রাত ৩টার দিকে ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টি কিছুটা কমে আসলে ওসি অপারেশন আমিনুল ইসলাম এর নেতৃত্বে ভোর রাত ৪টার দিকে একটি মাইক্রো আটক করে ঐ নারী- পুরুষ ১৭জনকে হবিগঞ্জ আধুনিক হাসপাতালে পাঠান।

এ ব্যাপারে ওসি অপারেশন আমিনুল ইসলাম এর সাথে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, CRT আউশকান্দি টিমের সহযোগীতায় আমার সারা রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে ভোরবেলা একটি মাইক্রোযোগে তাদেরকে হবিগঞ্জ আধুনিক হাসপাতালে প্রেরন করি।

সেখানের কর্তব্যরত ডাক্তারা বলেছেন, তাদের জ্বর, সর্দি ও কাশি রয়েছে। এবং করোনা ভাইরাস তাদের মধ্যে আছে কি না তা তারা পরিক্ষা নিরিক্ষা করে ব্যবস্থা নিয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে CRT সংগঠনকমর্মী কামরুল হাসান বাবুল সাথে কথা হলে তিনি বলেন, করোনা ভাইরাস সম্পর্কে আমাদের সবাইকে সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে।

যাতে করে বাহির থেকে কোন লোক আমাদের এলাকায় না ডুকতে পারে। যদিও ডুকে তাহলে সাথে সাথে প্রশাসনকে খবর দেওয়া অনুরোধ জানাচ্ছি তিনি। এবং সারা রাত প্রচন্ড ঝড় হাওয়া সহ বৃষ্টির মধ্যে পুলিশ, সাংবাদিক ও সংগঠনের সকল নেতৃবৃন্দকে তিনি ধন্যবাদ জানান।