ঢাকা সিটির ভোটের লড়াই চলছে

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।

আজ শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এর আগে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে শেষ হয়েছে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা। নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার ৩২ ঘণ্টা আগে প্রার্থীদের প্রচারণা শেষ করতে হয়। এদিকে প্রথমবারের মতো ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে এবার ব্যালট পেপারের পরিবর্তে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইভিএম সম্পর্কে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা বলেন, প্রথমবারের মতো ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি নির্বাচনে ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নতুন এই পদ্ধতির জন্য ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের যথেষ্ট প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এখন ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে পারবেন তারা। তিনি বলেন, ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণে কোনও ধরনের কারচুপির সুযোগ নেই। সে হিসেবে শনিবারের নির্বাচন অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক হবে। ঢাকার দুই সিটির ভোটগ্রহণ উপলক্ষে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। শুক্রবার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২ হাজার ৪৬৮টি ভোটকেন্দ্রে ভোটের সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে। দুই সিটির রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাশেম ও আব্দুল বাতেন সকাল থেকে এসব বিষয় তদারকি করছেন। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর জানিয়েছেন, ভোটার, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা, ভোট কেন্দ্রে প্রার্থীদের পোলিং এজেন্টসহ সংশ্লিষ্ট সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ভোটগ্রহণের সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ৫০ হাজার সদস্য মোতায়েন করেছে ইসি। ইসির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুই সিটিতে ২ হাজার ৪৬৮ কেন্দ্রের মধ্যে ১ হাজার ৫৯৭টি কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ। আর সাধারণ কেন্দ্র রয়েছে ৮৭১টি। গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে ৬ জন অস্ত্রসহ পুলিশ (একজন এসআই, একজন এএসআই ও চারজন কনস্টেবল), ২ জন অস্ত্রসহ অঙ্গীভূত আনসার এবং ১০ জন লাঠিসহ অঙ্গীভূত আনসার/ভিডিপি সদস্য (চারজন নারী ও ছয়জন পুরুষ) মোতায়েন থাকবে। এছাড়া সাধারণ ভোটকেন্দ্রে অস্ত্রসহ ৪ জন পুলিশ (এসআই/এএসআই ১ জন ও ৩ জন কনস্টেবল), ২ জন অস্ত্রসহ অঙ্গীভূত আনসার, ১০ জন লাঠিসহ অঙ্গীভূত আনসার/ভিডিপি সদস্য মোতায়েন থাকবে। এ হিসেবে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়োজিত থাকবে আনসার ও পুলিশের ৪২ হাজার ৬৮২ জন সদস্য। আর ভোট কেন্দ্র এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জন্য ৭৫ প্লাটুন বিজিবির ২ হাজার ২৫০ জন জোয়ান নিয়োজিত রয়েছে।পুলিশ ও এপিবিএন সমন্বয়ে ১২৪টি ভ্রাম্যমাণ ও ৪৩টি স্ট্রাইকিং টিম ও র‌্যাবের ১২৯টিম নিয়োজিত থাকছে। অর্থাৎ র‌্যাব, পুলিশ, এপিবিএন স্ট্রাইকিং ও ভ্রাম্যমাণ টিম মিলিয়ে প্রায় ৪ হাজারের মতো ফোর্স মোতায়েন থাকছে। সব মিলিয়ে এ নির্বাচনে ৫০ হাজারের মতো আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিয়োজিত থাকবেন।নির্বাচনী আচরণ বিধি প্রতিপালন ও অপরাধের বিচার কাজের জন্য দুই সিটিতে ১২৯ জন নির্বাহী হাকিম ও ৬৪ জন বিচারিক হাকিম নিয়োগ করা হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটিতে ৫৪ জন ও দক্ষিণ সিটিতে ৭৫ জন নির্বাহী হাকিম ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে থাকবেন। এছাড়া উত্তর সিটিতে ২৭ জন ও দক্ষিণে ৩৭ জন বিচারিক হাকিম ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে একটি মেয়র পদে ছয়জন, সাধারণ কাউন্সিলরের ৫৪টি পদে ২৫১ জন এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর ১৮টি পদে ৭৭ জন লড়ছেন। এই সিটি করপোরেশনে ওয়ার্ড সংখ্যা ৫৪টি, সংরক্ষিত ওয়ার্ড সংখ্যা ১৮টি, ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১ হাজার ৩১৮টি, ভোট কক্ষের সংখ্যা ৭ হাজার ৮৪৬টি। এই সিটিতে ভোটার ৩০ লাখ ১০ হাজার ২৭৩। তার মধ্যে পুরুষ ভোটার সংখ্যা ১৫ লাখ ৪৯ হাজার ৫৬৭ এবং নারী ভোটার সংখ্যা ১৪ লাখ ৬০ হাজার ৭০৬।ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে একটি মেয়র পদে সাতজন, সাধারণ কাউন্সিলরের ৭৫টি পদে ৩২৬ জন এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরের ২৫টি পদে ৮২ জন প্রার্থী। সাধারণ ওয়ার্ড সংখ্যা ৭৫টি, সংরক্ষিত ওয়ার্ড সংখ্যা ২৫টি, ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১ হাজার ১৫০টি, ভোট কক্ষের সংখ্যা ৬ হাজার ৫৮৮টি। এই সিটিতে ভোটার ২৪ লাখ ৫৩ হাজার ১৯৪। তার মধ্যে পুরুষ ১২ লাখ ৯৩ হাজার ৪৪১ এবং নারী ১১ লাখ ৫৯ হাজার ৭৫৩।