ডুমুরিয়ায় সালতা নদী থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন

জাহাঙ্গীর আলম (মুকুল), ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধিঃ খুলনার ডুমুরিয়ার প্রবাহমান সালতা নদীর তলদেশে বোরিং করে পাম্প মেশিনের সাহায্যে বালু উত্তোলন করছে বিশ্বজিৎ দে নামের এক ঠিকাদার। নদীর তলদেশ থেকে বালু উত্তেলন করায় আশপাশের বসবাসকারীরা তাদের বসতঘর নদীতে বিলীন হওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন। এছাড়া স্যালো মেশিনের প্রকট শব্দ ও কালোধোযায় তাদের বসবাস করা দুরহ হয়ে পড়েছে।

জানা যায়, ডুমুুরয়া উপজেলা সদরে নির্মানাধীন শিল্পকলা একাডেমি ভবনের সামনে নীচু জমি মাটি বা বালু দ্বারা ভরাটের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের মাধ্যমে ১৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছেন। যার মূল্যমান প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা। নীচু জমি ভরাটের জন্য মাটি ভরাটকাজ প্রকল্প কমিটি সবচেয়ে কম মূল্যে বালি ভরাটকরতে আগ্রহী বিশ্বজিত দে কে কন্টাক্ট দেয়। বিশ্বজিত আইনের তোয়াক্কা না করে উপজেলা সদরের পাশ দিয়ে বয়ে চলা সালতা নদীতে স্যালো মেশিন বসিয়ে বালি উত্তোলন করে ওই নীচু জমি ভরাট করছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার খালের পাড়ে নিম্নমানের বাঁশের খুটি নামমাত্র বসিয়ে বালি ফেলছে। ওই বাঁশে নেট বা বালুরোধী কোন আবরন না দিয়ে বালি ফেলায় পাশের খালটিও ভরাট হয়ে যেতে পারে। যাতে উপজেলা প্রশাসনসহ ডুমুরিয়া বাজারের পানি নিষ্কাশনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতে পারে।

এদিকে নদীর পাড়ে বসবাসরতরা শুক্রবার সকালে সরেজমিনে গেলে অভিযোগ করে বলেন বিকট শব্দে মেশিন চলা ও নদীর তলদেশ থেকে বালি উঠানো বন্ধ করতে নিষেধ করা হয়। এতে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা আমাদেরকে হুমকি দিয়ে এসেছে। তিনি বলেছেন বেশি বাড়াবাড়ি করলে পুলিশ দিয়ে শায়েস্তা করা হবে।
এ বিষয়ে বালি ভরাটের কন্টাক্ট নেয়া বিশ্বজিত দে বলেন নদী থেকে বালি নিয়ে সরকারী জায়গা ভরাট করছি। তার আবার কিসের অনুমতি লাগবে।

শিল্পকলা একাডেমির নীচু জমি ভরাট প্রকল্পের চেয়ারম্যান নিতীশ রায় বলেন, আমরা উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ৩ লাখ টাকায় (কম মূল্যদাতা ) বিশ্বজিত দে-কে কন্টাক্ট দিয়েছি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো: আশরাফ হোসেন বলেন, শিল্প কলা একাডেমির নীচু মাঠ ভরাটের জন্য ১৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বালি বা মাটি দিয়ে সে স্থান ভরাট করতে হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা: শাহনাজ বেগম বলেন, নদীর তলদেশ থেকে বালি তোলা হচ্ছে কিনা আমার জানা নেই। যদি কেউ নদীর তলদেশ বোরিং করে বালি উত্তোলন করে সেটি বেআইনী।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ডুমুরিয়া ডিভিশনের উপ- বিভাগীয় প্রকৌশলী মো: মিজানুর রহমান বলেন, নদ-নদী থেকে বালি উত্তোলনের জন্য নির্দিষ্ট বালুমহল চিহ্নিত করা রয়েছে। চিহ্নিত স্থান ছাড়া অন্য কোন স্থান থেকে বালু উত্তোলন করা আইননত: দন্ডনীয়। সালতা নদী থেকে বালু উত্তোলনের জন্য কেউ অনুমতি নেয়নি।