ডুমুরিয়ায় ভ্রাম্যমান মৎস্য হাসপাতাল এর যাত্রা শুরু

জাহাঙ্গীর আলম (মুকুল), ডুমুরিয়া খুলনা প্রতিনিধি: মৎস্য চাষি বাঁচলে বাঁচবে দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ” এ স্লোগানকে সামনে রেখে গত ৩০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার থেকে চলমান মৎস্য অধিদপ্তর উদ্যোগে ডুমুরিয়া মৎস্য প্রডিউসার অর্গানাইজেশন পিও এর বাড়ি বাড়ি যেয়ে মাছ বিক্রয় কার্যক্রমের পর এবার ডুমুরিয়ার যোগ হলো ভ্রাম্যমান মৎস্য হাসপাতালের নানামুখী সেবা কার্যক্রম।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষনা এক ইঞ্চি জলাশয় ও পতিত রাখা যাবে না। এ ঘোষনার বাস্তবায়নে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ও সচিব মহোদয়ের নির্দেশনায় মৎস্য অধিদপ্তরের সম্মানীয় ডিজি স্যারের নির্দেশে মাছ ও চিংড়ি চাষির দোরগোড়ায় সেবা প্রদানের উদ্দেশ্যে ভ্রাম্যমান নিরাপদ মাছ বাজারের পর ডুমুরিয়ায় এবার “ভ্রাম্যমান মৎস্য হাসপাতাল” এর যাত্রা শুরু করেন সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা। যেখানে করোনা গৃহবন্ধী মাছ চাষিদের পুকুর ও ঘের প্রস্তুতকরন হাতে কলমে শেখানো হয়। এ হাসপাতালের মাধ্যমে বিনা মূল্যে মাটি ও পানি পরীক্ষা করে প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে প্রত্যান্ত অঞ্চলের চাষিদের মাছ ও চিংড়ি চাষ বিষয়ক বিজ্ঞান ভিত্তিক পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।
পরিবেশ বান্ধব নিরাপদ চাষ পদ্ধতি ও গুড একুয়াকালচার বিষয়ে চাষিদের সচেতনতা বৃদ্ধি করা সহ নানা ধরনের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা যায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ডুমুরিয়া উপজেলা মৎস্য দপ্তর ১৪ টি ইউনিয়নের প্রতি ইউনিয়নে ১০ জনের ১৪ টি টিম গঠন করেছেন যারা যৌথ ভাবে মানুষের দোরগোড়ায় যেয়ে নিরাপদ মাছ উৎপাদনের জন্য ঘের প্রস্তুতকরনে সহায়তা করছেন। ভ্রাম্যমান বাজার টিম ও মৎস্য হাসপাতাল টিমে উপস্থিত থেকে সংশ্লিষ্টদের উৎসাহিত করেন ডুমুরিয়া উপজেলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: আবুবকর সিদ্দিক, সহকারি মৎস্য কর্মকর্তা চিত্তরঞ্জন পাল, দপ্তরের ক্ষেত্র সহকারি এস এম সাদ্দাম হোসাইন, আব্দুস সালাম বিশ্বাস, শেখ ইভান আহমেদ, দপ্তরের সহায়ক মোঃ রায়হান সরদার ও পিও ম্যানেজার ইদ্রিস আলী জর্দ্দার।
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বলেন করোনার কারনে অফিসের কার্যক্রম সীমিত করা হয়েছে। বর্তমান ঘের প্রস্তুতকরনের পিক মৌসুম। চাষির সেবা প্রাপ্তি সহজীকরনের জন্য উপজেলা মৎস্য দপ্তর, ডুমুরিয়া, পিও, লিফ, আরডি চাষি, বন্ধু চাষি ও সিআইজি সমবায় সমিতি সদস্যদের সাথে সমন্বয় করে ভ্রাম্যমান মৎস্য হাসপাতাল চালু করা হয়।তিনি আরও বলেন নিরাপদ মাছ বাজার ও পিও ব্যবস্থাপনায় চলতি সপ্তাহে ২ লক্ষাধিক টাকা ক্রয়-বিক্রয় হয়েছে। নিরাপদ মাছ বাজারের মাধ্যমে বিক্রয়কৃত মাছ তাজা, নিরাপদ, দাম ক্রয় সীমার মধ্যে, হোম ডেলিভারি হওয়ায় সাধারন মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে পুকুর ও ঘেরের মাটি পানি পরীক্ষার মাধ্যমে সাধারন মানুষের দোরগোড়ায় বিজ্ঞান ভিত্তিক পরামর্শ প্রদান করায় ভ্রাম্যমান এ মৎস্য হাসপাতালটি এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।