ডুমুরিয়ায় এলাকাবাসীর সহযোগীতায় গরীব কৃষাণীর ক্রয়কুত জমিতে টিনের ঘর নির্মান ও সম্পত্তি পুনরুদ্বার

জাহাঙ্গীর আলম (মুকুল), ডুমুরিয়া খুলনা প্রতিনিধি: খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার বরাতিয়া গ্রামের হতদরিদ্র কৃষাণী গৃহবধু খাদিজা বেগম প্রায় তিন বছর পর নিজের ক্রয়কৃত জমি প্রভাবশালীদের কবল হতে দখলমুক্ত করলেন।

এলাকাবাসীর সার্বিক সহযোগীতায় গতকাল বুধবার তিনি তার জমিতে মাথা গোঁজার ঠাই হিসেবে একটি টিনের ঘর নির্মানের মাধ্যমে তার সম্পত্তি পুনরুদ্বার করলেন। এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বরাতিয়া গ্রামের হতদরিদ্র কৃষক আব্দুল কুদ্দুস শেখ প্রায় তিন বছর আগে বসবাসের জন্যে অনেক কষ্ট করে স্ত্রী খাদিজা বেগমের নামে একই গ্রামের রুহুল আমিন বিশ্বাস,

ফারুক হোসেন বিশ্বাস ও ছকিনা খাতুনের কাছ থেকে কুলবাড়িয়া বরাতিয়া মৌজার হাল দাগ নং ২৮৭৬ দাগে ০.১৭৩২ শতাংশ ও হাল দাগ নং ৩০৪৮ দগের ০.৬১৮ শাতাংশ করে মোট ০.২৩৫০ একর জমি ০৭/১০/১৭ ইং এবং ০১/০৪/১৮ তারিখে রেজিষ্ট্রি কবলা মূলে খরিদ করত, নিজ নামে নামপত্তন ও খাজনা পরিশোধ করে ভোগ দখলে যান। কিন্ত এলাকার প্রভাবশালী হায়দার আলী গোলদার ও আতিয়ার গোলদার খাদিজা বেগমের ক্রয়কৃত সম্পত্তি ভোগ দখলে নানান ভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে থাকে।

বিষয়টি নিয়ে তারা এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের স্মরোণাপন্ন হন। কিন্ত হায়দার আলী ও তার সহযোগীরা চেয়ারম্যানের অনুরোধ উপেক্ষা করেন। এক পর্যায়ে চলতি মাসের গত ৪ সেপ্টেম্বর কুদ্দুস শেখ জমিতে বেগুনের চারা রোপন করতে গেলে হায়দার আলী ও আতিয়ার রহমানের সহযোগীরা কুদ্দুস শেখ এবং তার শ্রমিকদের উপর হামলা করে বেদম মারপিট করে।

ওই মারামারির ঘটনায় উভয় পক্ষ ডুমুরিয়ায় থানায় দু’টি পৃথক মামলা দায়ের করেন। বাদী হায়দার আলীর দায়ের করা মামলার ঘটনায় কুদ্দুস শেখ ও তার অন্যান্য সহযোগীরা আদালত হতে জামিনে মুক্ত থাকলেও বাদী কুদ্দুস শেখের দায়েরকৃত মামলায় হায়দার গোলদার ও আতিয়ার গোলদার বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছেন। গতকাল বুধবার সরেজমিন দেখা যায়,

কৃষক কুদ্দুস শেখ ও তার স্ত্রী খাদিজা বেগমের পক্ষে গ্রামের অন্তত অর্ধশত লোক স্বতঃস্পূর্তভাবে ঘর নির্মানের কাজে সহযোগীতা করছেন। কথা হয় ঘর নির্মান কাজে অংশ গ্রহণকারী লিটন সরদার, জবেদ আলী গাজী, মোঃ জুয়েলসহ আরো অনেকের সাথে। তারা জানান, ক্রয় সূত্রে এই জমির রেকর্ডীয় মালিক খাদিজা বেগম। অথচ কোন প্রকার বৈধ কাগজপত্র না থাকা সত্বেও হায়দার আলী ও তার সহযোগীরা সম্পূর্ণ গায়ের জোরে অন্যায়ভাবে জমি ভোগ দখলের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন।

এ বিষয়ে জমির পূর্বের মালিক রুহুল আমিন বিশ্বাস জানান, আমাদের নামীয় বিক্রয়কৃত এই জমিটা মৌখিক ভাবে হায়াদার আলী গং দের সাথে এওয়াজ বদলের বিনিময়ে ভোগ দখল করে আসছিলাম। কিন্ত আমাদের ভোগ দখলীয় জমি হায়দার আলী গংরা অন্যত্র বিক্রি করে দেয়ায় জমির ক্রেতা দাগ খতিয়ান অনুযায়ী জমি দখলে নেয়ায় আমারও আমাদের মূল জমি দখলে নিয়ে পরে বিক্রি করে দিয়েছি।

এ বিষয়ে থানায় দায়ের হওয়া মামলা দু’টির তদন্ত কারী পুলিশ কর্মকর্তা এস আই মোঃ ইউসুফ আলী বলেন, উভয় পক্ষকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বলা হয়েছে। কোন প্রকার আইন-শৃঙ্খলার অবন্নতি বরদাস্ত করা হবে না