ডুমুরিয়া বরাতিয়া গ্রামে অফসিজনে শীতের সবজি ফুলকপির আগমন

জাহাঙ্গীর আলম (মুকুল), ডুমুরিয়া খুলনা প্রতিনিধি :খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার বরাতিয়া গ্রামের প্রান্তিক কৃষক তাপস সরকার, তিনি প্রায় ১৫-২০ বছর ধরে বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ করে আসছেন। কখনও বা ফসল করে অধিক মূল্য পেয়ে আনন্দিত হন বা কখনও মূল্য না পেয়ে হতাশ হন।

হাসি আনন্দের দোলায় দোদুল্যমান তার জীবন কাহিনি। করোনার শুরুতে বিভিন্ন সবজি লাগিয়ে কাঙ্ক্ষিত মূল্য না পেয়ে হতাশ হন কৃষক তাপস মল্লিক। পরবর্তীতে কৃষি বিভাগের পরামর্শে এবং সলিডারড এর সহযোগিতায় ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যায় নিয়ে প্রথম বারের মত তার এক বিঘা জমিতে চাষ করেন অফসিজন ফুলকপি, ফলনও বাম্পার। বর্তমান কেজি প্রতি মূল্য ১০০ টাকা।

কৃষক তাপস সরকার তার এক বিঘা জমিতে আগাম আর্লি স্নোবল জাতের ফুলকপি চাষ করে ১.২০০০০ টাকা আশা করছেন। এই ফুলকপি উঠানোর পর অনায়াসেই তিনি আগাম রবিশস্য করতে পারবেন। তিনি উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতায় সলিডারড এনজিও এর মাধ্যমে যশোর থেকে চারা এনে জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে লাগান। এটি মূলত শীতকালীন সবজি এবং এর রোপন পদ্ধতি ও অন্যান্য পরিচর্যা শীতকালীন ফুলকপির মত।

তবে অসময়ে হওয়ায় কৃষক চারগুণ বেশিমূল্য পাচ্ছেন। তার পাশাপাশি মিঠুন মল্লিক এবং আরও অনেকে প্রথম বারের মত এ ফসলের চাষ করেছেন এবং ফলন ও মূল্য পাচ্ছেন তাপস সরকারের মত। অধিক ফলন, ঝুঁকি কম এবং বাজারমূল্য বেশি হওয়ায় আগামীতে এর ফলন অনেক বৃদ্ধি পাবে। ফুলকপির ইংরেজি নাম Cauliflower ও এর বৈজ্ঞানিক নাম B. oleracea var. botrytis.। আগাম ফুলকপির জন্য বর্ষা শেষ হওয়ার আগেই চারা উৎপাদন করতে হয়।

ওই সময়ে ঘরের বারান্দায়, টবে বা গামলায় কোকোপিটে বীজতলা তৈরি করা হয় এবং চারার বয়স ৩০-৩৫ দিন হলে মুল জমিতে লাগান হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ মোছাদ্দেক হোসেন বলেন, ফুলকপি একটি উচ্চ মূল্যের ফসল। এটি অফসিজনে হওয়ায় কৃষক প্রায় ৪ গুন বেশি মূল্য পাচ্ছে।

এটি সম্প্রসারণের জন্য কৃষককে সলিডারড এর মাধ্যমে প্রশিক্ষন এবং প্রদর্শনী দেওয়া হয়েছে এবং মাঠে গিয়ে বিভিন্ন সময় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অল্প খরচে বেশি মূল্য পাওয়ায় আগামীতে এর উৎপাদন আরও অনেক বৃদ্ধি পাবে।