ডুমুরিয়ায় মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে ভ্রাম্যমান মাছ বাজার

জাহঙ্গীর আলম (মুকুল), চ্যানেল এস ডুমুরিয়া উপজেলা প্রতিনিধি: বৃহস্পতিবার ডুমুরিয়ায় করোনা ভাইরাস বিষয়ে সচেতনতা করার লক্ষ্যে এনএটিপি ২ মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে ডুমুরিয়া মৎস্য প্রডিউসার অর্গানাইজেশন, পিওকে বাড়ি বাড়ি যেয়ে মাছ বিক্রিয় করতে দেখা যায়।

সরেজমিনে দেখা যায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ডুমুরিয়া উপজেলা মৎস্য দপ্তর ও পিও যৌথ ভাবে মানুষের দোরগোড়ায় যেয়ে। তাজা রুই,কাতলা,টেংরা,ভেটকি,পূট, পাবদা, গলদা এবং বাগদা চিংড়ীসহ বিভিন্নরকম মাছ বিক্রিয় করছেন।

নিরাপদ মাছ খান, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ান এবং ভয় নয়, সচেতনতায় হবে জয়।

এই স্লোগানকে সামনে রেখে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে করােনা গৃহবন্ধী মানুষের দোরগােড়ায় মান সম্পন্ন নিরাপদ মাছ পৌঁছে দেওয়ার জন্য তারা মানুষের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন।

ভ্রাম্যমান বাজার পরিচালনা করছেন ডুমুরিয়া প্রডিউসার অর্গানাইজেশন (পিও)যার মােবাইল নং ০১৯১১-২৫৮৫৪৪, ০১৭৩৩-৯১৫৬৩৫ সার্বিক সহযােগিতা করছেন উপজেলা মৎস্য দপ্তর, ডুমুরিয়া, খুলনা। মাছ বিক্রির বাইরে তারা করোনা ভাইরাস কি ভাবে ছড়ায়, আক্রান্ত হলে তার লক্ষণ, প্রতিরোধের উপায় ও সর্ব সাধারনের করানীয়- যেমন সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, সাবান পানি দিয়ে ভালভাবে হাত ধােয়া বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার (অথবা এ ধরনের অন্য যে কোন স্যানিটাইজার/সাবান) ব্যবহার করা ও ব্যবহারের নিয়ম হাতে কলমে শেখাচ্ছেন এবং আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হতে বলছেন। প্রচুর পানি পান করা ও বিশ্রাম নেয়া, নিয়মিত মাছ, মাংস, দুধ, ডিম সহ প্রচুর শাক-সবজি ও ফলমুল খাওয়া। হাঁচি-কাশির সময় মুখে টিস্যু অথবা রুমাল ব্যবহার করা, টিস্যুকে নির্ধাতি স্থানে ফেলার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে ।

ভ্রাম্যমান বাজারে এ দিন খর্নিয়া, রুদাঘরা ও ডুমুরিয়া উপজেলা সদরে মাছ বিক্রি করেন পি ও সভাপতি খান চঞ্চল আহমেদ ও পিও ম্যানেজার মোঃ ইদ্রিস আলী জর্দ্দার। ভ্রাম্যমান বাজার টিমে উপস্থিত থেকে পিও সংশ্লিষ্টদের উৎসাহিত করেন ডুমুরিয়া উপজেলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: আবুবকর সিদ্দিক, সহকারি মৎস্য কর্মকর্তা চিত্তরঞ্জন পাল, দপ্তরের ক্ষেত্র সহকারি এস এম সাদ্দাম হোসাইন, আব্দুস সালাম বিশ্বাস ও শেখ ইভান আহমেদ।

সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বলেন করোনার ভয়ে মানুষ ঘর হতে বের হতে পারছেন না। ফলে বাজার হতে মাছ কেনা সম্ভব হচ্ছে না। সুস্থ্য থেকে করোনাকে মোকাবেলা করার জন্য বেশি বেশি মাছ খাওয়া খুবই জরুরী। অন্য দিকে বাজারে চাহিদা ও দাম কম থাকায় চাষিরা মাছ ধরতে ভয় পাচ্ছেন।

এতে মারাত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন চাষিরা। এ জন্য উপজেলা মৎস্য দপ্তর, ডুমুরিয়া, পিও, লিফ ও সিআইজি সদস্যদের সাথে সমন্বয় করে ভ্রাম্যমান মাছ বাজার চালু করা হয়। তিনি বলেন সিআইজি/নন সিআইজি চাষিদের কাছ থেকে মাছ ক্রয় করা হয় এবং সেই মাছ পিও সভাপতি, ম্যানেজার, লিফ বা পিও ফেসবুক পেইজে চাহিদার মাধ্যমে সাধারন মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া হয়। এতে একদিকে মাছ চাষি মাছ বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন অন্যদিকে মানুষ ঘরে বসে তাজা মাছ পাচ্ছেন।তিনি এ কার্যক্রমটি পুরো উপজেলায় সফলভাবে এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।