ডুমুরিয়ায় বৈদেশিক কর্মসংস্থানের জন্য দক্ষতা ও জনসচেতনতা মুলক সেমিনার

মোঃ জাহাঙ্গীর আলম (মুকুল), ডুমুরিয়া প্রতিনিধি: ডুমুরিয়ায় বৈদেশিক কর্মসংস্থানের জন্য দক্ষতা ও সচেতনতা শীর্ষক জনসচেতনতা মূলক প্রচার,প্রেস ব্রিফিং ও সেমিনার । অর্থায়নে প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়,আয়োজনে ডুমুরিয়া উপজেলা প্রশাসন, ৯/৭/২০ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার সময় ডুমুরিয়া উপজেলা অফিসার্স ক্লাবে অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত প্রেস ব্রিফিং ও সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ শাহনাজ বেগম, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডুমুরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গাজী ‌এজাজ আহম্মেদ, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, খুলনা জেলা পরিষদের সদস্য শোভা রানী হালদার, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান গাজী আব্দুল হালিম, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শারমিন আক্তার রুমা, উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ মোছাদ্দেক হোসেন, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এস এম ফিরোজ আহমেদ, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিক, ‌উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল হাই সিদ্দিক, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা এস এম কামরুজ্জামান, দারিদ্র্য বিমোচন অফিসার প্রতাপ চন্দ্র দাস,

সমাজ সেবা কর্মকর্তা সুব্রত কুমার, ডুমুরিয়া মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রন্জন কুমার তরফদার, মহিলা সৃম্তি মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ শেখ শহিদুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার বিদ্যুৎ কুমার দাস, চেয়ারম্যান গাজী হুমায়ূন কবির বুলু, শেখ দিদার হোসেন,শাকুর আলি খান, হিমাংশু বিশ্বাস,সরকারী মহিলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকা সালমান রহমান, শিক্ষক আয়ুব হুসাইন, বিআর ডি বি অফিসার মিসেস নিসা, সাংবাদিক জি এম আব্দুস সালাম, শেখ মাহতাব হোসেন, রুহুল আমিন,অরুন দেবনাথ, শেখ সিরাজুল ইসলাম, সাব্বির খান ডালিম, সুজিত মল্লিক,সেলিম আবেদীন প্রমুখ। নির্বাচনী ইশতেহার ২০১৮ ঘােষণাকালে গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘােষণা করেছিলেন  নির্বাচনে বিজয়ী হলে আগামী ৫ বছরে ১ কোটি ২৮ লক্ষ কর্মসংস্থান সৃজনের পরিকল্পণা আমাদের আছে এবং প্রতি উপজেলা হতে গড়ে ১০০০ জন যুব বা যুব মহিলাকে বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়ােজন নিরাপদ, সুশৃঙ্খল, নিয়মিত ও দায়িত্বশীল অভিবাসন নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় হতে কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তবে আগে প্রয়ােজন জনসচেতনতা সৃজন করা। জনগণকে সম্প্রক্ত না করলে কোন উদ্যোগই সফল হয় না। আপনারা আরাে জানেন, জনবলের অভাবে বিশ্বের অনেক দেশের অর্থনীতির চাকা অচল হয়ে পড়েছে। সে সব দেশ অন্য দেশ হতে জনশক্তি নিয়ে তাদের অর্থনীতিকে সচল রেখেছে। এ সুযােগ কাজে লাগিয়ে ১৯৭৬ সাল হতে বাংলাদেশ বিদেশে জনশক্তি প্রেরণ শুরু করেছে। বর্তমানে বিশ্বের ১৭৩ টি দেশে ১ কোটি ২০ লক্ষ্যের অধিক বাংলাদেশী কর্মী বিভিন্ন কাজে নিয়ােজিত আছেন।

তারা বছরে গড়ে ১৬ বিলিয়নের অধিক মার্কিন ডলার রেমিটেন্স দেশে প্রেরণ করে থাকেন যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রতি বছর ২০ লাখের অধিক নতুন জণশক্তি শ্রমবাজারে যােগদান করছেন। দেশের অর্থনীতি বছরে ১০ লাখের মত কর্মসংস্থান করতে সক্ষম বাকি ১০ লাখের অধিক কর্মী বিদেশে কর্মলাভ করতে চান। তাদেরকেই বলা হয় অভিবাসী বা বিদেশ গমনেচ্ছুক কর্মী বর্তমানে বছরে প্রায় ৭ লক্ষ অভিবাসীর কর্মসংস্থান প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বিদেশে হয়ে থাকে। বিদেশে কর্মসংস্থান নিরাপদ, সুশৃঙ্খল , নিয়মিত রাখার লক্ষ্য সবাইকে সচেতন হয়ে একসাথে কাজ করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহারের ঘােষণা আমাদের জন্য এক আলােকবর্তিকা। ফলে আমাদের সবার দায়িত্ব আরাে বেড়ে গেছে।সম্প্রতি নতুন কয়েকটি শ্রমবাজার আমরা খুঁজে বের করেছি। কম্বােডিয়া , চীন ও সিসেলস আমাদের নতুন শ্রম বাজার। সেখানে কর্মী প্রেরণ শুরু হয়েছে। ইউরােপের কিছু দেশে আমদের নতুন শ্রম বাজার খােলার লক্ষ্যে কাজ চলছে মালেশিয়া ও মধ্য প্রাচ্যে নতুন পলিসির কারণে বাজার কিছুটা মস্তর হলেও নবসৃস্ট শ্রম বাজারসমূহ নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে। পূর্বের মত অদক্ষ কর্মীর চাহিদা এখন আর বিদেশের শ্রম বাজারে তেমন নেই। এখন চাহিদা আছে দক্ষ কর্মীর।

অসত্য তথ্যের ভিত্তিতে দালালের মাধ্যমে ফ্রি ভিসা বা ট্রেডিং ভিসার নামে বিদেশে গিয়ে কাজ পাওয়ার দিন শেষ হয়ে গেছে। দালালের কথায় কান না দিতে আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীকে অনুরােধ জানাচ্ছি। টিটিসি বা উপযুক্ত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হতে প্রশিক্ষণ নিয়ে বিদেশ যাওয়ার জন্য বিদেশ গমনেচ্ছুক যুব ও যুব মহিলা ভাই বােনদেরকে অনুরাধ জানাচ্ছি। এতে তাদের অধিক বেতন ভাতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। বর্তমানে দেশে ৬৪ টি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার ও ৬ টি ইন্সটিটিউট অব মেরিন টেকনােলজি মাধ্যমে বিদেশ গমনেচ্ছুক কর্মীদের ৫৫ টি ট্রেডে দক্ষতা প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। আরাে ৪০ টি নতুন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মানের কাজ চলমান আছে ।প্রতিটি উপজেলায় টিটিসি নির্মানের পরিকল্পণা সরকারের রয়েছে । এছাড়াও মন্ত্রণালয়ের অনুমােদনক্রমে বেসরকারী কিছু রিক্রুটিং এজেন্ট তাদের নিজস্ব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে উন্নত মানের দক্ষতা প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। প্রবাসীগণের মন্ত্রণালয়ের নাম প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। নামেই লিখা আছে কাজের ধরণ। আপনারা পূর্বেই জেনেছেন বর্তমানে বিশ্বের ১৭৩ টি দেশে ১ কোটি ২০ লক্ষ্যের অধিক বাংলাদেশী কর্মী বিভিন্ন কাজে নিয়ােজিত আছেন।

পৃথিবীর অনেক দেশের মোট জনসংখ্যা ও এর অনেক কম। এ বিপুল অভিবাসী কর্মীর দেখভাল সঠিকভাবে করা খুবই কঠিন কাজ। এ লক্ষ্যে সারা বিশ্বে আমাদের দূতাবাসসমূহ নিরলসভাবে কাজ করছে । ৩২টি দূতাবাসে আমাদের মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব শ্রম উইং আছে। দেশে প্রবাসীদের সন্তানের জন্য শিক্ষা বৃত্তি চালু আছে । প্রবাসে অসুস্থ হলে ১ জন বৈধভাবে গমনকারী কর্মীকে চিকিৎসা বাবদ ১ লক্ষ টাকা অনুদান প্রদান করা হয়।