ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নাকি ভোগান্তি

২০১৫ সালে ফেসবুকে ‘মিথ্যা গুজব’ ছড়ানোর অভিযোগে দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করে ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ কর্তৃপক্ষ। যার ফলে ভোগান্তি যেন তাদের পিছু ছাড়েনি আর।

২৭ দিন কারাভোগের পর তারা জামিনে মুক্ত হন। তদন্ত শেষে ২০১৭ সালে ওই দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দেয়া হয়।

এরপর ট্রাইব্যুনাল চার্জশিট আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ (অভিযোগ) গঠন করেন।

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।

রায়ে ট্রাইব্যুনাল শিক্ষক মো. ফারুক হোসেনকে বেকসুর খালাস দেন। আর রায় ঘোষণার আগেই ২০১৮ সালে ‘মামলার কলঙ্ক’ মাথায় নিয়ে অপর শিক্ষক আনোয়ার সাহাদাত মারা যান।

শুধু এ মামলাটিই নয়, সাইবার ক্রাইমের অভিযোগে করা অধিকাংশ মামলায়ই আসামিরা খালাস পেয়ে যাচ্ছেন।

ট্রাইব্যুনালের নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, সাক্ষ্য-প্রমাণ না থাকায় মোট ৪ ভাগের ৩ ভাগ মামলার রায়েই আসামিরা খালাস পেয়েছেন।

গত ৮ বছরে ঢাকা সাইবার ট্রাইব্যুনালে ১২৮টি মামলার রায় হয়েছে। এর মধ্যে সাজা হয়েছে ৩০টি মামলায়। বাকি ৯৮টি মামলায় আসামিরা খালাস পেয়েছেন।

ডিজিটাল স্পেসে সংঘটিত অপরাধের জের ধরে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা করছেন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলা।

যার সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। সর্বনিম্ন শাস্তি এক বছরের জেল।

অথচ অনেকেই নিজের অজান্তেই মোবাইল স্ক্রল করতে করতে অবহেলা, অবলীলায় এ আইনের অপরাধ করে ফেলছেন। মামলার পরিসংখ্যান ও তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এসব তথ্য।

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, এ আইনের সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হচ্ছে- আসামির অপরাধ অজামিনযোগ্য।

ফলে যাচাই-বাছাই ছাড়া মামলা নিয়ে পুলিশ কার্টুনিস্ট কিশোরের মত আসামিকে গ্রেফতার করে লম্বা সময়ের জন্য তাকে কারাবাসে পাঠায়।

বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জোরালো দাবির পরও প্রায় ৯ মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান তিনি।

এদিকে আইনটি বাতিলের আন্দোলন জোরদার হওয়ার মধ্যেই সাইবার অপরাধীদের সামাল দিতে পুলিশি কার্যক্রমেও আনা হয়েছে ব্যাপক পরিবর্তন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম বলেন,

সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ হিমশিম খাচ্ছে। এ কারণে নতুন ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) রয়েছে সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ।

এ বিভাগে এখন তদন্তাধীন মামলার সংখ্যা ৬৫। এ ইউনিটের জন্য অত্যাধুনিক ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে।

ডিবির সাইবার ক্রাইম বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মনিরুল ইসলাম তার অভিজ্ঞতা বর্ননা করেন

”অনেকেই মনের অজান্তেই ফেসবুকের অনেক ফিডে ক্লিক করে সাইবার অপরাধে পা রাখেন।”