ডাক্তার নেই নার্স নেই টেকনিশিয়ান নেই তবুও—– হাসপাতাল

নূরুল আমিন দুলাল ভূঁইয়া,লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি: বাংলাদেশে সরকারি স্বাস্থ্য সেবার অপ্রতুলতা ও অব্যবস্থার সুযোগ নিচ্ছে বেসরকারি ক্লিনিক এবং ডায়াগনিস্টিক সেন্টারের মালিকরা। এতে নাগরিকরা স্বাস্থ্য সেবার পিছনে অর্থ ব্যয় করছেন ঠিকই , কিন্তু পাচ্ছেনা মানসম্মত সেবা। বাংলাদেশে সরকারি হাসপাতালের সংখ্যা ৬৮০টি আর তথ্য সূত্র মতে বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিক আছে ৭,২৩৫টি। রোগ নির্ণয়ের জন্য বেসরকারি ডায়াগনিস্টিক সেন্টার আছে ১০,০০০ (দশ হাজার) এর অধিক এসব হাসপাতাল বা ক্লিনিককে ঘিরেই বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সেবা ও চিকিৎসার কাজ চলে। বলা হয়ে থাকে, ১০ হাজার লোকের জন্য আছে ৪টি বেড। সরকারি হাসপাতালের অব্যবস্থাপনার চিত্রতো সবার জানা। তাহলে দ্রুত বেড়ে ওঠা বেসরকারি খাতে স্বাস্থ্য সেবার চিত্রটি কেমন হতে পারে।

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে প্রাইভেট হাসপাতাল গুলির বিভিন্ন অনিয়ম বন্ধের নির্দেশনা থাকলেও মানছেননা মালিক কতৃপক্ষ। লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নানা রকম অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার মধ্যে দিয়ে চলছে প্রতি নিয়ত স্বাস্থসেবা। তদন্তে দেখা গেছে লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি এমন অভিযোগের ভিত্তিতে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ৬ টি প্রাইভেট হাসপাতালে কে বন্ধ ঘোষনা করেন। রায়পুরের অধিকাংশ হাসপাতালের নবায়ন না থাকায় ডাক্তার ও অভিজ্ঞ ডিপ্লোমা নার্স না থাকাসহ একাধিক অনিয়মের সত্যতা পাওয়ায় যায়। এরি পরিপ্রেক্ষিতে লক্ষ্মীপুর সিভিল সার্জন কর্তৃপক্ষ গত ১৫/১১/২০২০ইং তারিখে লিখিত পত্রের মাধ্যেমে হাসপাতাল বন্ধের নোটিশ প্রদান করেন। যার অনুলিপি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও রায়পুরঅফিসার ইসচার্জ কে প্রদান করা হয়।

 

এদিকে হাসপাতাল বন্ধের সরকারী নির্দেশনা থাকলেও মানছেন না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সরেজমিনে গিয়ে দেখাযায় সেবা হাসপাতাল প্রাইভেট, মেহেরুননেছা হাসপাতাল, মর্ডান প্রাইভেট হাসপাতাল, মা ও শিশু ডায়াগনিষ্ট্রিক সেন্টার, এস.কে.আর ডায়াগনিষ্ট্রিক সেন্টার, হেল্থ কেয়ার ডায়াগনিষ্ট্রিক সেন্টার, ফরিদ এক্স-রে ও মেক্সকেয়ার হাসপাতাল সহ এই প্রতিষ্ঠান গুলো সরকারী নিদ্দেশনা উপেক্ষা করে বন্ধ না রেখে খোলা রেখে তাদের কর্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। হাসপাতাল খোলা রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার আব্দুর গফ্ফার বলেন,হাসপাতাল বন্ধের বিষয়ে লিখিত পত্রের অনুলিপি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও রায়পুর থানা অফিসার ইনচার্জ কে দেওয়া হয়েছে। তাহারা হাসপাতাল খোলা রাখার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।

তিনি আরো বলেন, কোনো সেবা মুলক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা বা সিলগালা করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। আমরা চাচ্ছি, আমাদের সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলো সুষ্ঠু নিয়মে চলুক। এবং আইনের মধ্যে থেকে স্বাস্থ সেবা নিশ্চিত করুক। এই দিকে হাসপাতাল খোলা রাখার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবরীন চৌধুরী এর কাছে যানতে চাইলে তিনি বলেন আমি হাসপাতাল বন্ধের একটি চিঠির অনুলিপি পেয়েছি। হাসপাতাল খোলা রাখার বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন এই ব্যাপারে প্রয়োজনীও পদক্ষেপ নিবেন। রায়পুর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল আজিজ বলেন হাসপাতাল বন্ধে লক্ষ্মীপুর সিভিল সার্জন প্রয়োজনীয় প্রদক্ষে নিলে আমরা উনাকে সহযোগিতা করবো রায়পুর সরকারি হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার বাহারুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি হাসপাতালগুলোর লাইসেন্সের বিষয়ে উল্লেখ করে এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

লক্ষ্মীপুর প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিক এসোসিশনের সাধারন সম্পাদক আবদুর রহমান তুহিন বলেন, প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকরা গত ২০১৮-২০১৯ বর্ষ থেকে নানা বিড়ম্বনার মধ্যে সময় অতিক্রম করছে। ২০১৮-২০১৯ বর্ষ থেকে প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স ফি বহুগুণে বৃদ্ধি করার সাথে সাথে লাইসেন্স নবায়ন ও আবেদন সম্পূর্ন অনলাইন বিত্তিক সপ্টওয়ারের মাধ্যমে করা হয়। একই সাথে একটি লাইসেন্স এর জন্য অনেকগুলো সাপোর্টিং লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা হয়। যেমন ট্রেড লাইসেন্স, ফায়ার লাইসেন্স,ভ্যাট লাইসেন্স, ইনকামটেক্স লাইসেন্স ও পরিবেস লাইসেন্স সহ ইত্যাদি সকল পক্রিয়া সম্পন্ন করেও সরকারের নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে লাইসেন্স এর আবেদন করেও দেখাগেছে অনেক হাসপাতাল ল্যাব মালিক মাসের পর মাস হয়রানির শিকার হচ্ছেন। রায়পুরে নবায়ন না করায় ৪টি ছাড়া ৭ টি হাসপাতালকে লিখিতভাবে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানতে পেরেছি। তবে বন্ধ করে দেওয়া হাসপাতালগুলির ডাক্তার ও ডিপ্লোমা নার্স না থাকার বিষয়ে আমি অবগত নয়।