ট্যানারি কারখানার বর্জ্যের উৎকট দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে সাভারের হেমায়েতপুরের এলাকাবাসী

 মৃদুল ধর ভাবন, আশুলিয়া প্রতিনিধি বাতাসের সঙ্গে গন্ধ ছড়িয়ে প্রতিনিয়ত দূষিত হচ্ছে সেখানকার পরিবেশ। এতে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকির পাশাপাশি ব্যাপক পরিবেশ বিপর্যয়েরও আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। চর্ম শ^াস কষ্টসহ মানুষের মাঝে দেখা দিয়েছে নানা রোগ বালাই।

এতে করে স্বাস্থ্যঝুঁকির এই হার দিন দিন বেড়েই চলছে। এলাকাবাসী জানায়,সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের হেমায়েতপুরের হরিণধরা এলাকায় বাংলাদেশ বিসিক শিল্পনগরী ট্যানারি অবস্থিত। এখানে রয়েছে এক’শ ৫৫ টি ট্যানারি কারখানা। কারখানাগুলোতে তরল, কঠিন ও বায়বীয় তিন ধরনের বর্জ্য উৎপন্ন হয়। প্রতিদিন যে পরিমাণ তরল বর্জ্য উৎপন্ন হয় সেগুলো পরিশোধনের ব্যবস্থা নেই।

এগুলো পরিশোধনের জন্য কমপক্ষে দুটি কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) স্থাপনের প্রয়াজন ছিল। কিন্তু একটি স্থাপন করা হয়েছে। তরল বর্জ্য শোধনাগার সিইটিপি সার্বক্ষণিক সচল থাকে না। এছাড়া নতুন নতুন কারখানা চালু হওয়ায় চামড়া প্রক্রিয়াজাত করার সক্ষমতা বেড়েছে। ফলে বর্জ্যরে পরিমাণও বেড়েছে। কিন্তু একটি সিইটিপি দিয়ে সব বর্জ্য পরিশোধন করা সম্ভব হচ্ছে না।

এসব কারখানার কঠিন বর্জ্যরে মধ্যে রয়েছে- চামড়ার ফেলনা অংশ। এছাড়া পশুর খুর, নখ, কান, লেজ, শিং, হাড়, লোম, মাংসের ঝিল্লি ইত্যাদি। ডাম্পিং ইয়ার্ডে এগুলো ফেলা হয়। মাত্র ছয় একর জমিতে ডাম্পিং ইয়ার্ড করা হয়েছে। সেখানে প্রতিনিয়ত ট্যানারির উৎকৃষ্ট বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। সেগুলোর দুর্গন্ধে ঝাউচর এলাকাবাসীর টিকে থাকা কষ্ট পড়ে পড়েছে। যার ফলে এলাকার মানুষ শ্বাসকষ্টসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। এসব কারণে ঝাউচর এলাকা থেকে ভাড়াটিয়ারাও চলে যাচ্ছে অন্যস্থানে।

এছাড়া চামড়া শিল্পনগরীর বর্জ্যে আশপাশের ছয় নদ-নদীর পানি মারাত্মক দূষিত হয়ে পড়ছে। ট্যানারির বর্জ্যে এসব নদ-নদীর পানিতে প্রচুর দুর্গন্ধ সৃষ্টি হচ্ছে। নদী পার ও আশপাশের মানুষজনের টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়ছে। চামড়া শিল্পনগরীর বর্জ্যে বংশী, ধলেশ্বরী, কালীগঙ্গা, বুড়িগঙ্গা, তুরাগ ও বালু নদের পানি দূষিত হচ্ছে। এর মধ্যে বংশী ও ধলেশ্বরীর পানি সবচেয়ে বেশি দূষিত হচ্ছে। এ দুই নদীর সঙ্গে অন্য চার নদ-নদীর সংযোগ থাকায় সেগুলোর পানিও দূষিত হচ্ছে।

এসব নদীতে মাছ নেই বললেই চলে, জলজ উদ্ভিদের অস্তিত্বও বিপন্ন। নদী পারের স্বল্প আয়ের মানুষের জীবিকা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বাতাসেও বর্জ্যরে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। চারপাশের পরিবেশ বিপন্ন হয়ে পড়েছে। দূষিত পানি ব্যবহার করে অনেকে চর্মরোগ ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হচ্ছেন। ভক্স পপ একজন এলাকাবাসী। এগুলো কারখানা থেকে বিভিন্ন নালা দিয়ে পাশের ধলেশ্বরীতে গিয়ে পড়ছে। এর মধ্যে আছে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর ক্রোমিয়াম, ক্লোরিন, নাইট্রিক অক্সসাইড, সালফিউরিক এসিড, কার্বনসহ নানা রাসায়নিক দ্রব্য। যা মানবদেহে শ্বাসকষ্ট, ক্যান্সার, চর্মরোগের সৃষ্টি করে।

সরেজমিনে দেখা যায় ঈদের দিন থেকে কারখানাগুলোতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কাঁচা চামড়া আসা শুরু হয়েছে। অনেক ট্যানারি মালিকরা কাঁচা চামড়া কিনলেও অনেকে কিনছে না কারণ ট্যানারির ক্যামিকেলের অনেক দাম। এছাড়া করোনা ভাইরাসের কারণে অনেক ঠিক মত লেদার বিভিন্ন দেশে শিফ মেন্ট ও যাচ্ছে না। যার ফলে তারা চরম সংকটে দিন কাটাচ্ছে। এছাড়া বিদেশ থেকে নানা কারণে ট্যানারিতে বায়ার আসছেন না বলেও জানান তারা।

চামড়া শিল্প নগরীর প্রকল্প পরিচালক জিতেন্দ্র নাথ পাল ট্যানারির দুর্গন্ধের কথা শিকার করে বলেন ড্যাম্পিং জোন অন্যস্থানে সরিয়ে নেওয়া হলে এলাকার মানুষের আর কষ্ট হবে না। জিতেন্দ্র নাথ পালন প্রকল্প পরিচালক ট্যানারি । এলাকাবাসীর কথা চিন্তা করে ট্যানারির ড্যাম্পিং জোন অন্যস্থানে সরিয়ে নেবে এমনটাই আশা প্রকাশ করেন ঝাউচরবাসী।