টাঙ্গাইলে শিশু মাহিম হত্যার প্রতিবাদে এলাকাবাসীর মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

মোঃ রাশেদ খান মেনন (রাসেল), টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাতুলী ইউনিয়নের ডুবাইল গ্রামের পাঁচ বছরের শিশু মাহিমকে হত্যার প্রতিবাদে এলাকাবাসী ও মাদ্রাসার সহপাঠী শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে।

কাতুলী ইউনিয়নের ডুবাইল গ্রামের বাসিন্দা মহির উদ্দিন মন্ডল ও বন্যা খাতুনের শিশু পুত্র মাহিম ওই গ্রামের আতাউর রহমান নূরানী ও হাফিজিয়া মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণীর মেধাবী ছাত্র ছিল।

এলাকাবাসী ও শিশু মাহিনের সহপাঠী মাদ্রাসার শিশু শিক্ষার্থীরা মানববন্ধনের মাধ্যমে হত্যাকারী আব্দুল আলীমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করে।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন আতাউর রহমান নূরানী ও হাফিজিয়া মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মোঃ মাহবুবুর রহমান, মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল হাফেজ মোঃ নজরুল ইসলাম, মাহিমের পিতা মহির উদ্দিন মন্ডল, মাতা বন্যা খাতুন, মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ এলাকার সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ।

মানববন্ধন থেকে স্লোগানে স্লোগানে সবাই বলতে থাকে, শিশু মাহিম হত্যার বিচার চাই, হত্যাকারী আলীমের ফাঁসি চাই। মাদ্রাসার ছাত্র শিশু মাহিমের বাবা মার হৃদয় বিদারক কান্না ও আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। এলাকাবাসীরা বলেন, অভিযুক্ত আসামী আব্দুল আলীমের চলাফেরা ছিল সন্দেহজনক। শুকনো ডোবার পাশে যেভাবে মাটির নিচে গুহা তৈরি করে বাইরে থেকে জঙ্গল দিয়ে ঢেকে রেখেছিল, সেটা আমরা কখনই বুঝতে পারিনি। কি এমন শত্রুতা ছিল যে, ৫ বছরের একটি শিশু বাচ্চাকে একটি গুহায় নিয়ে হত্যা করতে হবে? আমরা এই ঘটনায় অভিযুক্ত আবদুল আলীমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

ঘটনার বিবরণে জানা যায় ৮ মে বিকাল থেকে শিশু মাহিম নিখোঁজ হয়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর পরের দিন ৯ মে সকাল আনুমানিক ছয়টার সময় বসত বাড়ির কাছে ঝোপের নিচে শুকনো ডোবার পশ্চিম পার্শ্বে একটি গুহার অভ্যন্তরে শিশু মাহিমের লাশ পাওয়া যায়।

হত্যার অভিযোগে আব্দুল আলীম (৫০)কে এলাকাবাসী খুঁজে বের করে গণধোলাই দেয়। মুমূর্ষু অবস্থায় স্থানীয় ইউপি সদস্য তাকে টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। মাহিমের পরিবার থেকে বাদী হয়ে ১০ মে সদর থানায় ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নং ০৫-২০/০৫/২০।

পুলিশের পাহারায় চিকিৎসা শেষে টাঙ্গাইল সদর থানার পুলিশ আসামি আব্দুল আলীমকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করেন। বিজ্ঞ আদালত আসামি আবদুল আলীমকে জেলহাজতে প্রেরণ করেন। বিচার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।