টাঙ্গাইলে বিভিন্ন কর্মসূচীতে ৭দিন ব্যাপী জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উদযাপন

মোঃ রাশেদ খান মেনন (রাসেল), টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধিঃ মাছ উৎপাদন বৃদ্ধি করি, সুখী-সমৃদ্ধ দেশ গড়ি” এই প্রতিপাদ্য নিয়ে সারা দেশের ন্যায় টাঙ্গাইলেও জেলা মৎস্য অধিদপ্তর কর্তৃক বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে ৭দিন ব্যাপী মৎস্য সপ্তাহ সমাপ্ত হয়েছে।

টাঙ্গাইল জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে ২৭ জুলাই সোমবার দুপুরে এই সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এসময় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে সপ্তাহব্যাপী উদযাপিত বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করা হয়। এসময় প্রধান অতিথি ছিলেন টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন খান।

সভাপতিত্ব করেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ গোলাম কিবরিয়া। সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. আব্দুল মোতালেব, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আবুল বাশার, জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মোঃ নজরুল ইসলাম, সদর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আইয়ুব আলী, টাঙ্গাইল মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারের ব্যবস্থাপক মোঃ মঞ্জুরুল হক, টাঙ্গাইল মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারের ব্যবস্থাপক মোঃ মনজুরুল হক, ক্ষেত্র সহকারী মোঃ সাইদুর রহমান খান, জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মোঃ উজ্জল হোসেন’ সহ অন্যান্য কর্মকর্তাগণ।

জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাগণ জানান ২১জুলাই থেকে শুরু হওয়া মৎস্য সপ্তাহের কার্যক্রম ২৭ জুলাই ২০২০ ইং পর্যন্ত উদযাপিত হয়। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২৩ জুলাই বৃহস্পতিবার দৃষ্টিনন্দন ডিসি লেকে ৪০ কেজি দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ১ হাজার ছয়শত মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। মৎস্য সপ্তাহে ১২ টি উপজেলায় মৎস্য চাষের উপকরন ১০৬০ কেজি চুন, ১০৫০ কেজি মাছের খাদ্য, ১ টা ঝাকি জাল, ২ সেট বের জাল, পানি মাপার পিএইচ মিটার ৯টা, অটো ভ্যান ২ টা, ওয়েট মেশিন ১২ টা, ফিশ ক্যালিপাশ ১২ কেজি, ভাইরেক্স ১২ কেজি, ৮ টি ৪ প্যাডেল হুইল এরেটর বিতরন করা হয়।

টাঙ্গাইল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ গোলাম কিবরিয়ার দিকনির্দেশনা অনুযায়ী মির্জাপুরের মৎস্য অফিসের উদ্যোগে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বিনা লাইসেন্সে খাদ্য বিক্রির অপরাধে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ধনবাড়ী উপজেলায় ১৭৮৪ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল পোড়ানো হয়, সেই সাথে সংশ্লিষ্টদের ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ভূঞাপুর উপজেলায় ১০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল পোড়ানো হয়, যার আনুমানিক মূল্য ১লক্ষ টাকা।সেইসাথে ১২ হাজার ৫শত টাকা জরিমানা করা হয়।

বাসাইলে এক হাজার মিটার কারেন্ট জাল ধংস করা হয়, সেই সাথে এক হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। মধুপুর উপজেলায় ৫০০ মিটার কারেন্ট জাল জব্ধ করে পোড়ানো হয়, যার আনুমানিক মূল্য ৫০ হাজার টাকা। সেই সাথে ১২ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। দেলদুয়ার উপজেলায় ৫ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্ধ করে পোড়ানো হয়।