টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে নদী থেকে মাটি উত্তোলনে হুমকির মুখে সেতু

 মোঃ রাশেদ খান মেনন (রাসেল),টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে নদী থেকে মাটি উত্তোলনে হুমকির মুখে পড়েছে সেতু। ধসে গিয়ে যেকোনো সময় ঘটতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা। সারাদেশে মানুষ যখন করোনা ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে, সেখানে প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত ভেকু মেশিন দিয়ে গুনটিয়া এলাকায় দুটি পয়েন্টে অবৈধভাবে নদীর মাটি উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে।

 

এলাকাবাসীর কাছ থেকে জানা যায়, টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের গুনটিয়া এলাকায় লৌহজং নদীর মাটি ঐ এলাকার প্রভাবশালী কয়কজন ভেকু মেশিন দিয়ে উত্তোলন করছে। গুনটিয়া গ্রাম সংলগ্ন লৌহজং নদীর দুটি স্পটে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। এদিকে এলোপাথারি মাটি উত্তোলনের কারণে হুমকির মুখে পড়েছে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার একমাত্র গুনটিয়া সেতু ও আশপাশের বেশ কয়েকটি ঘর-বাড়ি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতিবছরের ন্যায় এলাকার প্রভাবশালী জামুর্কী ইউনিয়নের পাকুল্যা পূর্বপাড়া গ্রামের মন্টু মিয়ার ছেলে মোঃ মাসুদ মিয়া, চুকুরিয়া গ্রামের মোঃ রফে তালুকদারের ছেলে মোকাদ্দছ ও গুনটিয়া গ্রামের সিদ্দিক মিয়ার ছেলে রাজিব রাতের আঁধারে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।

 

এলাকাবাসী বাধা দিতে গেলেও প্রভাবশালীরা ভয়ভীতি দেখায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার লোকজন অভিযোগ করে বলেন, প্রত্যেক রাতের আধারেই এরা মাটিগুলা কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এতে ব্রিজ ও বাড়িঘর হুমকির মুখে পড়েছে। এই অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ করার জন্য তারা প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেন। মাটি ব্যবসায়ী রাজিবের সাথে ২৬ এপ্রিল রবিবার দুপুরে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ করেনি।

 

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোঃ জুবায়ের হোসেন এর সাথে কথা হয়, তিনি বলেন জনস্বার্থে আমাদের বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে জনগণকে সামাজিক দূরত্ব বজায়সহ নানা ধরণের সচেতনতামূলক কর্মকান্ড ও ত্রাণ বিতরণে প্রশাসন ব্যস্ত। এই সুযোগে যদি কেউ গোপনে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে মাটি কাটার মতো অপরাধে জড়িত থাকে, তবে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। আমরা আজও একটি এলাকায় অবৈধ কয়েকটি ড্রেজার অপসারণ করেছি। জনস্বার্থে আমাদের এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।