টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প করোনার প্রভাবে চরম সংকটে

মোঃ রাশেদ খান মেনন (রাসেল), টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলের তাঁতশিল্প করোনার প্রভাবে চরম সংকটে পড়েছে। এ শিল্পের অস্তিত্ব নিয়ে দিশেহারা এ পেশার সাথে সম্পৃক্তরা। করোনার পরিস্থিতির শুরুর দিকে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকায় তাঁতে কাপড় বানানো বন্ধ ছিল।

পরে সীমিত পরিসরে শুরু হলেও বর্তমানে শাড়ি বিক্রি না হওয়ায় নতুন করে আর তাঁতের শাড়ি উৎপাদন করছেন না তাঁতীরা। ফলে প্রায় ৯০ শতাংশ তাঁত বন্ধ হয়ে গেছে। এদিকে উৎপাদন কাজ বন্ধ থাকায় তাঁতশিল্পীরা পেশা পরিবর্তন করে নতুন পেশা খুঁজছে। টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইলে শাড়ী উৎপাদনকারী পরেশ বসাকের বাড়িতে ১৮টি তাঁত ছিল। করোনায় এ সবগুলোই বন্ধ রয়েছে।

কোন তাঁতে এখনও সুঁতো (তানা) ঝুলছে। এর মধ্যেই মাকড়সার বাসায় ঘিরে ফেলেছে তাঁতগুলো। এমন চিত্র জেলার কালিহাতী, টাঙ্গাইল সদর, দেলদুয়ার উপজেলার চন্ডীর তাঁতপল্লীতেও। তাঁত বোর্ডের তথ্য মতে, টাঙ্গাইলে ৪১৫১ জনের মোট ৩৪৪০২টি তাঁত রয়েছে। এ পেশায় ১ লাখ ৩২০৬ জন তাঁত শ্রমিক সম্পৃক্ত। তাদের মধ্যে কেউ শাড়ি বুনেন, কেউ চরকায় সুঁতা কাটেন, কেউ কাপড়ের নকশার সুঁতা কাটেন। আবার সুঁতা রঙ করা, শুকানো, পাটিকরা, তানার সুঁতা কাটা, ড্রাম থেকে ভিমে সুতা পেঁচানো, তানা সাজানো, মালা বা নকশার ডিজাইন তোলা, কাপড় ভাঁজ করা, পেটি করা এবং বাজারজাত ও আনা নেওয়ার কাজ করে থাকেন।

গত পাঁচ মাসে তারা সকলেই কর্মহীন হয়ে পড়েছে। তাঁতপল্লী ঘুরে জানা গেছে, করোনার কারণে করটিয়া শাড়ি বিক্রির হাট বন্ধ আর শোরুমগুলোতে ক্রেতা না থাকায় শাড়ি উৎপাদন করেনি মালিক পক্ষ। এদিকে দীর্ঘ সময় তাঁত বন্ধ থাকায় পেশা পরিবর্তন করে অন্য পেশায় চলে যায় তাঁতশিল্পের শ্রমিকরা। পরবর্তীতে নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলেও এখনও একদিকে ক্রেতা শূণ্য অন্যদিকে শ্রমিকের অভাব থাকায় অধিকাংশ তাঁত বন্ধ করে দিয়েছে মালিক পক্ষ। এদিকে চন্ডী-পাথরাইল শাড়ি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রঘুনাথ বসাক জানান, টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকায় ১০০০০ হস্তচালিত তাঁত রয়েছে। এগুলোতে প্রায় ১৫০০০ তাঁতী কাজ করেন। এছাড়া পুরো জেলাতে লক্ষাধিক তাঁতী রয়েছে। করোনার কারণে তাঁতীরা এখন পুরোপুরি কর্মহীন।

শাড়ি ব্যবসার জন্য বৈশাখী ও ঈদুল ফিতর দুটি প্রধান মৌসুম। এবার এই দুই উৎসবে আগের মত শাড়ি বিক্রি হচ্ছে না। তাই নতুন শাড়ি বানানো হচ্ছে না। ফলে শ্রমিকরা কর্মহীন হয়ে পড়েছে। তাদের অনেকেই অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে। তিনি আরও জানান, তাঁতীদের ধরে রাখতে না পারলে পরবর্তীতে নতুন শ্রমিদের কাজ শিখিয়ে এ শিল্পকে ধরে রাখা যাবে না। এজন্য তাঁতশিল্প ও তাঁতীদের টিকিয়ে রাখতে সরকারি প্রণোদনাসহ সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার জোড় দাবি জানান তিনি। এ পেশার সাথে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন শুধুমাত্র সরকারিভাবে পদক্ষেপ নিলেই এই তাঁত শিল্প টিকিয়ে রাখা সম্ভব।