ঝিকরগাছার পল্লীতে ৮ বছরের শিশুকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ

জসিম উদ্দিন, বেনাপোল প্রতিনিধি: যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামে সুমাইয়া খাতুন (০৮) নামে এক শিশুকে শ্লীতাহানীর অভিযোগ উঠেছে। সে ওই গ্রামের মজনু মিয়ার মেয়ে এবং চান্দেরপোল সরকারি প্রাথমিক ২য় শ্রেণির ছাত্রী।

এ ঘটনায় শ্লীতাহানীর অভিযোগে একই গ্রামের নূর মোহাম্মদ (৫২) নামে এক ব্যক্তির নামে থানায় এজাহার দাখিল করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার। অভিযুক্ত নূর মোহাম্মদ রামচন্দ্রপুর গ্রামের মৃত নবিছুদ্দিন মোড়লের ছেলে। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ০৯/১২/২০২০ ইং তারিখ সকালে রামচন্দ্রপুর গ্রামস্ত মিজানের মোড়ের জিয়াউরের দোকান থেকে চা বিস্কুট খাই ভিকটিম বাবা ও মেয়ে।

খাওয়া শেষে মেয়েকে বাড়িতে যেতে বলে কাজে চলে যায় শিশুটির পিতা মজনু মিয়া। সকাল আনুমানিক ৯টার সময় লম্পট নূর মোহাম্মদ কলা খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে ঈদগাহ মাঠস্ত মিজানের কলা বাগানে নিয়ে গিয়ে শিশুটিকে বিবস্ত্র করে উপযোপরি ধর্ষণ চেষ্টা চালায়। শিশুটির আত্মচিৎকারে ভয় পেয়ে পালিয়ে যায় নূর মোহাম্মদ। এবং যাবার সময় হুমকি দেন কাউকে ঘটনার বিষয় বললে তার ও পরিবারের লোকজনের ক্ষতি করবে সে।

মানষিক ভাবে ভয় পেয়ে কাঁদতে কাঁদতে শিশু সুমাইয়া বাড়িতে এসে মায়ের কাছে ঘটনার বিবরণ তুলে ধরলে তাত্ক্ষণিক ফোন করে সুমাইয়ার পিতা মজনুকে অবহিত করলে তিনি কাজ ছেড়ে বাড়িতে চলে আসেন এবং মেয়েকে ধর্ষণ চেষ্টার কথা শুনে হতবাক হয়ে পড়েন। সময় কালক্ষেপণ না করে গ্রামের মোড়ল মাতবর, মহিলা ইউপি সদস্য ডলি বেগম সহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে বিষয়টি খুলে বলেন এবং যথাযথ বিচার দাবী করেন মজনু মিয়া। শিশু সুমাইয়ার পিতা মজনু মিয়া বলেন,

নূর মোহাম্মদ একটি দুষচরিত্রা প্রকৃতির লোক। আমার ছোট্ট নিষ্পাপ মেয়েকে যেভাবে শ্লীতাহানীর চেষ্টা করেছে আমি প্রশাসনের কাছে ন্যায্য বিচার কামনা করছি। পাশাপাশি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমার একান্ত প্রার্থনা শিশুদেরকে যারা লালসার শীকার বানায় তাদেরকে কঠিন থেকে কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করেন। রামচন্দ্রপুর গ্রামের মহিলা ইউপি সদস্য ডলি বেগম বলেন, নূর মোহাম্মদ এর আগেও এমন ঘটনা ঘটিয়েছে। গ্রামে তাকে এমন ঘটনার জন্য বিচার হয়েছে।

যেখানে তিনি এমন ঘটনা আর ঘটাবেন না বলে নাকে খত দেন। সে আবারও সেই নেক্কারজনক ঘটনা ঘটানোর ক্ষমতা দেখিয়েছে। যা ক্ষমার অযোগ্য বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। এখন আইনই তার শাস্তি দিবে। এদিকে উক্ত ঘটনার জন্য ঝিকরগাছা থানায় এজাহার দাখিল করার পরপরই ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেছেন থানা পুলিশ।

ভিকটিমের পরিবার এবং এলাকার সকল শ্রেণির মানুষের কাছে জবানবন্দি নিয়েছেন প্রশাসন। ঘটনা স্থল পরিদর্শনে আসা এসআই আনিস জানান, শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনাটি আমরা পরোক্ষভাবে তদন্ত করে দেখেছি। এ বিষয়ে থানায় একটি মামলা হয়েছে। আসামী নূর মোহাম্মদ পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।