জয়পুরহাটে স্বাস্থ্যকর্মী ও সাংবাদিকসহ ৫৭জন করোনায় আক্রান্ত

ওমর আলী বাবু, জয়পুরহাট প্রতিনিধিঃ  জয়পুরহাটে স্বাস্থ্যকর্মী ও সাংবাদিকসহ নতুন করে আরও ৫৭ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৫১১ জনে। সিভিল সার্জন ডাঃ সেলিম মিঞা মঙ্গলবার সকালে এ তথ্য জানান।

এদিকে, একই ব্যক্তির সোমবারে নমুনা পরিক্ষার রিপোর্ট পজেটিভ আবার একদিন পরে বুধবারের পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ আসায় সঠিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জেলা সিভিল সার্জন অফিসের কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা যায়, ঢাকায় পাঠানো ৩৯২ জনের নমুনার পরীক্ষার ফলাফল আসে মঙ্গলবার সকালে। এর মধ্যে ৫৭ জনের রিপোর্ট পজেটিভ বলে জানা গেছে।

আক্রান্তদের মধ্যে জেলা আধুনিক হাসপাতালে ৯ জন, জয়পুরহাট সদর উপজেলায় ৯ জন, আক্কেলপুরে ৭ জন, কালাইতে ২৫ জন ও পাঁচবিবি উপজেলায় ৭ জন । যার মধ্যে রয়েছেন স্বাস্থ্যকর্মী ও এক সাংবাদিক বলে জানানো হয়। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা শনাক্ত হলো ৫১১ জন। জয়পুরহাট প্রেসক্লাবের সদস্য সাংবাদিক ওম প্রকাশ আগরওয়ালা স্ত্রীসহ আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা প্রদান করেন সোমবার।

একদিন পরে প্রেসক্লাবের সৌজন্যে নমুনা পরীক্ষার আয়োজন করা হলে সেখানেও নমুনা প্রদান করেন বুধবার। সোমবারের রিপোর্টে স্বামী-স্ত্রী দুজনের করোনা পজেটিভ আসলেও বুধবারের রিপোর্টে আসে নেগেটিভ। এ ঘটনায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ নড়েচড়ে বসেছে। সিভিল সার্জন ডা: সেলিম মিয়া সোমবারের নমুনা পরিক্ষার রিপোর্ট পজেটিভকে সঠিক দাবী করে বলেন, বুধবারের নমুনা সংগ্রহ করায় কোন ত্রুটি হতে পারে। যার কারণে নেগেটিভ এসেছে।

করোনা পজেটিভ আসা ব্যক্তির কমপক্ষে ৮ দিনের আগে নেগেটিভ আসার কোন সুযোগ নাই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বর্তমানে সাংবাদিক ওম প্রকাশ আগরওয়ালা আক্কেলপুরের বাড়িতে থেকেই করোনার চিকিৎসা নিচ্ছেন। জেলা প্রশাসকের কন্ট্রোল রুম সূত্র জানায়, গত ১৬ এপ্রিল জয়পুরহাটে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত জেলায় করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছিল ৪৫৪ জন।

মঙ্গলবার সকালে নতুন করে আরও ৫৭ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হওয়ায় জেলায় মোট করোনা রোগী দাঁড়ালো ৫১১ জনে। করোনা এ পর্যন্ত জেলায় মুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে ২৩১ জনকে। আক্কেলপুর উপজেলার গোপিনাথপুর হেলথ এন্ড টেকনোলজি ইন্সটিটিউটে আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন করোনা আক্রান্তদের বর্তমানে শারীরিক অবস্থা ভাল বলে জানান, সিভিল সার্জন ডা: সেলিম মিঞা।