জ্ঞান ফিরলেও শঙ্কামুক্ত নন ইউএনও ওয়াহিদা

অস্ত্রোপচার শেষে দুর্বৃত্তের হামলার শিকার ঘোড়াঘাটের ইউএনও ওয়াহিদা খানমের জ্ঞান ফিরেছে। জ্ঞান ফেরার পর ওয়াহিদা কথা বলেছেন বলে জানিয়েছেন তার স্বামী রংপুরের পীরগঞ্জে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেজবাহুল হোসেন।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতেই ইউএনও’র জ্ঞান ফিরে বলে জানিয়েছেন তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান ডা. মোহাম্মদ জাহেদ হোসেন। তবে ওয়াহিদা খানমের অবস্থা পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত নয় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তাকে ৭২ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

এর আগে, বৃহস্পতিবার রাত ৯টার পর শুরু হয় ইউএনও ওয়াহিদার অপারেশন। প্রায় আড়াই ঘণ্টা অপারেশন শেষে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসাইন্স হাসপাতালের উপ-পরিচালক অধ্যাপক ডা. দ্বীন মোহাম্মদ জানান, অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে। অস্ত্রোপচার শেষে তাকে আইসিইউতে অবজারভেসনে রাখা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানান, ওয়াহিদার খানমের মাথায় গুরুতর জখম ছিলো। মাথার খুলি ভেঙ্গে ভেতরে চলে যায়। ফলে সময়সাপেক্ষ এবং জটিল অপারেশন করতে হয়েছে।

এদিকে, ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা ওমর আলী শেখের ওপর হামলার ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি আসাদুল হককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ও র‌্যাবের যৌথ একটি দল। শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে হাকিমপুর থানাধীন হিলির কালিগঞ্জ এলাকা থেকে আসাদুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে ঘোড়াঘাট উপজেলার ওসমানপুরের আমজাদ হোসেনের ছেলে। আসাদুলই ইউএনওর মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

হাকিমপুর থানা পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাকিমপুর, বিরামপুর ও ঘোড়াঘাট থানা এবং রংপুরের র‌্যাবের একটি দল গ্রেপ্তার করে। এদিকে এ ঘটনায় জাহাঙ্গীর নামের সন্দেহভাজন আরও একজনকে আটক করেছে র‌্যাব। দুজনকেই রংপুর র‌্যাব কার্যালয়ে নেয়া হয়েছে ।

এর আগে, ইউএনওর ভাই শেখ ফরিদ বৃহস্পতিবার রাতে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে একটি মামলা করেন।

উল্লেখ্য, বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত ৩টার দিকে ইউএনও ওয়াহিদা খানমের বাসভবনের বাথরুমের ভেন্টিলেটর ভেঙে ঢুকে পড়ে দুর্বৃত্তরা। পরে দুর্বৃত্তরা ইউএনওকে ধাতব পদার্থ দিয়ে মাথায় আঘাত করে। এ সময় তার বাবা এগিয়ে আসলে, তাকেও আঘাত করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। গুরুতর আহত দু’জনকে উদ্ধার করে রংপুরে নেয়া হয়। এরপর, ওয়াহিদা খানমকে ডক্টরস মেডিক্যালের আইসিইউতে, আর তার বাবাকে ভর্তি করা হয় রংপুর মেডিক্যালে। তারপর উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় এনে ওয়াহিদা খানমকে রাজধানীর ইন্সটিটিউট অফ নিউরো সায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গঠন করা হয় দুটি মেডিক্যাল বোর্ড।