জুলাইতে সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্লান্টের আওতায় যাচ্ছে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতাল

মোহাম্মদ বিপ্লব সরকার, চাঁদপুর প্রতিনিধি:  সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্লান্টের আওতায় আসছে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতাল । জুলাই’র দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শ্বাসকষ্টজনিত রোগীরা হাই ফ্লু অক্সিজেন সুবিধা পাবেন। শনিবার বিকেলে ভার্চুয়াল সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য ও শিক্ষামন্ত্রী ডা দীপু মনি জেলাবাসীকে এমনই খবর জানান। তিনি আরো জানান, চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি জেনারেল হাসপাতালের জন্যে একটি সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্লান্ট সংগ্রহ করেছেন।
সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্লান্টের আপাতত হাসপাতালের ৩০ শয্যা কভার করার মতো ক্যাপাসিটি হবে। পরবর্তীতে এটিকে আরো বাড়ানো যাবে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমি চাঁদপুরের জন্যে এটি ম্যানেজ করেছি। তবে দেশের বাইরে থেকে এনে তা এখানে স্থাপন করা হবে। জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগবে। তিনি আরো বলেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ চলে গেলেও সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্লান্টটি সব সময়ের জন্যেই রোগীদের কাজে লাগবে। বিশেষ করে আইসিইউর জন্যে তো অবশ্যই এটি লাগবে। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ড করা হয়।
যেখানে প্রতিদিনই করোনা আক্রান্ত এবং উপসর্গ নিয়ে রোগী ভর্তি হচ্ছেন। অনেক সময় মুমূর্ষ রোগীও আসছে। যাদের শ্বাস প্রশ্বাসে খুবই সমস্যা হচ্ছে। সে সব রোগীদের সিলিন্ডার অক্সিজেনে কভার করে না। এতে করে বেশিরভাগ রোগী মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে। দেখা গেছে হাসপাতালে ভর্তি করার ১/২ ঘণ্টার মধ্যেই রোগী মারা যায়। অর্থাৎ মুমূর্ষ অবস্থায় রোগীর যে সাপোর্ট দরকার সেটি চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে নেই। চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে একটি সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্লান্ট স্থাপনের দাবি উঠে ডাক্তার এবং মিডিয়া কর্মীদের পক্ষ থেকে। তারই আলোকে শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি বিষয়টি আমলে নিয়ে তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
শনিবার বিকেলে জেলা প্রশাসক মোঃ মাজেদুর রহমান খানের সভাপ্রধানে ভার্চুয়াল সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, সিনিয়র সচিব মোঃ শাহ কামাল, পুলিশ সুপার মোঃ মাহবুবুর রহমান, সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ সাখাওয়াত উল্লাহ, এনএসআইয়ের যুগ্ম পরিচালক মোঃ আজিজুল হক, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ ওচমান গণি পাটওয়ারী, মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এমএ কুদ্দুস, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা ও চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এএইচএম আহসান উল্লাহ।
সভায় চাঁদপুরের করোনা ভাইরাসের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং এ বিষয়ে করণীয় কী হতে পারে সে ব্যাপারেও বিভিন্ন জনে নানা মতামত ব্যক্ত করেন। এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী চাঁদপুর শহরসহ পুরো জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বিষয়ে ম্যাপ তৈরি করার জন্যে নির্দেশ দেন। ম্যাপ দেখে আক্রান্তের হার অনুযায়ী এলাকা ভিত্তিক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান।