জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষনে গৌরনদীর যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল খান

খোকন আহম্মেদ,গৌরনদী প্রতিনিধি: বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সরিকল ইউনিয়নের সাকোকাঠী গ্রামের যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল খান নানারোগে আক্রান্ত হয়ে অর্থাভাবে বিনাচিকিৎসায় শষ্যাশয়ী রয়েছেন। এ যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার চিকিৎসা করাতে গিয়ে তার পরিবারের একমাত্র সম্ভল বসত ভিটেও বিক্রি করে আরো নিঃস্ব হয়ে পরেছেন। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন তার উন্নত চিকিৎসা করাতে আরো প্রায় পাঁচ লাখ টাকা প্রয়োজন। কিন্তু এ টাকা যোগার করা তার অসহায় পরিবারের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পরেছেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করা যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার একমাত্র পুত্র জামাল খান দিনমজুরের কাজ করে পরিবারের ভরন পোষন করছে।সম্মুখ যুদ্ধে গ্রেনেডের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত আঘাত নিয়ে শষ্যাশয়ী যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল খান আক্ষেপ করে বলেন, অর্থের অভাবে বেঁচে থাকতে যদি আমার সু-চিকিৎসা না হয় তাহলে মৃত্যুর পর যেন আমাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা না হয়। তিনি আরও জানান, ২০১৫ সালে স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তির দাবিকৃত দুই লাখ টাকা চাঁদা না দেয়ায় ওই প্রভাবশালী তাকে ভূয়া যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আখ্যায়িত করে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে মিথ্যে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এরপর মুক্তিযোদ্ধা কল্যান ট্রাষ্ট থেকে তার ভাতা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়। এরপর প্রতিটি দপ্তরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, যুদ্ধকালীন কমান্ডার, সহযোদ্ধা ও স্বাক্ষীদের স্বাক্ষ্যগ্রহণ করার পর যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল খানের পক্ষে রায় দেয়া হয়। এমনকি ইসমাইল খান নিজে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সাথে সাক্ষাত করেন। মন্ত্রী যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার সম্মানী ভাতা চালুর নির্দেশ দিলেও রহস্যজনক কারণে মুক্তিযোদ্ধা কল্যান ট্রাষ্ট থেকে আজো তার বন্ধ ভাতা চালু করা হয়নি।