জামালপুরে ভ্যান চালক শিশু সম্পার অসুস্থ বাবার চিকিৎসা ও পরিবারের দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

মো: শামীম হোসেন, জামালপুর জেলা প্রতিনিধি: অভাবের সংসারের হাল ধরতে রাস্তায় ভ্যান চালাতে শুরু করেছে স্কুল পড়–য়া চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী শম্পা। অসুস্থ বাবার চিকিৎসা আর সংসারের খরচ মেটাতে লেখা পড়ার পাশাপাশি ভ্যান চালিয়ে ওই শিশু উর্পাজন করে আসছে ,খরচের টাকা তুলে দেয় মায়ের হাতে ।এইঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে ওই পরিবারের জন্য আবাসন সহ ভরণপোষণের দায়িত্ব নেয়। বুুধবার(২ডিসেম্বর) সকালে শিশু শম্পার বাড়িতে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হক ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদা ইয়াসমিন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানশেখ মো: মাহবুবুর রহমান মঞ্জু সহ হাজির হয়ে বাড়ি নির্মানের কাজ শুরুকরে। সেই সাথে শম্পার বাবাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয় ।
এসব ঘটনা গ্রাম বাসীর চোখের পলকে ঘটে যাচ্ছে । কেউ বিশ্বাস করতে পারছে না প্রধান মন্ত্রী এই গ্রামের আসহায় পরিবারে কাছে পৌছে গেছে । শতশত লোকের সামনে এই অসহায় পরিবারের এমন দৃশ্যদেখে মানুষের বুক ভরে গেছে । পরিবারের পক্ষ থেকে স্ব¯ির নিঃশ্বাস ফেলছে । উল্লেখ্য লেখা পড়া আর খেলাধূলার বয়স না পেরুতেই কাঁধে এসে পরে পরিবারের ভরণ পোষণের বোঝা। অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে যাত্রা শুরু করে এই শিশু কন্যা । বলছি জামালপুর সদর উপজেলার নাকাটি গ্রামের ভ্যান চালক মোহাম্মদ ভাসানীর শিশু কন্যা শম্পা খাতুনের কথা। ১০বছর বয়সী শম্পা পড়ছে নাকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণিতে। লেখা পড়ায় ভাল মনোযোগী থাকলেও অসুস্থ বাবার প্রতিদিন ঔষধের খরচ আর পরিবারের খাবারের টাকা জোগাতে এক রকম বাধ্য হয়েই। বাবার পরে থাকা ভ্যান নিয়ে রাস্তায় বের হতে হয়। সারা দিনে হাড় ভাঙ্গা খেটে যে টাকা আয় করে তাতে পঙ্গু বাবার ওষধ আর সংসারের খাবারের পিছনে ব্যয় করতে হচ্ছে। ক্লান্ত শরীর যে আর কোন ভাবেই অন্য কিছুর করার শক্তি হারিয়ে ফেলে।ফলে আস্তে আস্তে উজ্জল সম্ভাবনার আলো একটু একটু করে জীবন থেকে নিভে যেতে শুরু করেছে ।
সারা দিন হাড় ভাঙ্গা খাটুনি শেষে ক্লান্ত শিশু শম্পা শরীর ব্যাথা নিয়ে বাড়ি ফেরার পরে মমতাময়ী মা আদরের সোনামনিকে সারা শরীরে মালিশ করে দেয় আগামী কালের যুদ্ধজয়ের জন্য। ভাসানীর দুই কন্যার মধ্যে শম্পা ছোট। বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছে কয়েক বছর আগেই। ভ্যান চালক ভাসানী ৪বছর আগে শহর থেকে বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনায় এক পা ভেঙ্গে যায়।সব বিক্রি এবং ধার-দেনা নিয়ে ৭লাখ টাকা জোগার করে চিকিৎসার জন্য ব্যয় করেও পা ভাল করতে পারেনি। দেড় বছর ধরে বিছানায় পরে আছে। স্বামীর চিকিৎসার জন্য অন্তত ৩লাখ টাকা প্রয়োজন।এই অর্থ সংগ্রহ করতে মানুষের কাছে হাত বাড়াতে হয়েছে। বিভিন্ন রাস্তায় সবজি বিক্রী শুরু করেছেন শম্পার মা নেবুজা বেগম। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হক জানান,এই শিশু বাচ্চার খবরটি বিভ্ন্নি সামাজিক মাধ্যমে প্রচারের পরেই সরকারের উচ্চ মহলের দৃষ্টি গোচর হয়েছে। মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর দপ্তর থেকে ওই পরিবারকে সহায়তার জন্য খোজ খবর নেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে শিশু শম্পার বসতবাড়ী নির্মাণের জন্য মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর নির্দেনায় কাজ শুরু করা হয়েছে তার পাশাপাশি পরিবারের ভরণপোষন ও শম্পার লেখাপড়ার ,অসুস্থ বাবার চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে সরকার।