জাপানে ভারী বৃষ্টিপাতে বন্যা-ভূমিধ, ১৫ জনের মৃত্যু

জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ কিউশুতে ভারী বৃষ্টিপাতে ভূমিধসের পাশাপাশি ব্যাপক বন্যায় বহু আবাসিক এলাকা ডুবে গেছে। বন্যার কারণে অন্তত ১৫ জন মারা গেছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ৯ জন।

শনিবার কিউশুর কুমামোতো প্রিফেকচারে ভারী বৃষ্টিপাত হয়। দিনের শেষ দিকে বৃষ্টি কমে আসে। স্থানীয় কুমা নদীতে বিপদসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় ডুবে গেছে বহু ঘরবাড়ি। এক লাখের বেশি বাসিন্দাকে নিরাপদে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে কুমা নদীর একটি সেতু ঢেউয়ের তোড়ে ভেসে গেছে। এছাড়া বহু গাড়ি ও বাড়ি তলিয়ে থাকতেও দেখা গেছে।

বন্যা কবলিত একটি নার্সিং হোম থেকেই ১৪ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আর ধসে পড়া মাটির নিচে থেকে অপর এক জনের মরদেহ পাওয়া গেছে।

জাপানের কুমামোটো ও কাগোশিমা প্রশাসনিক অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি আঘাত হেনেছে বৃষ্টিপাত ও বন্যা। কুমামোটো’র গভর্নর ইকুয়ো কাবাশিমা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, নার্সিং হোমে আক্রান্তদের মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি’র প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

দুর্গত এলাকায় জাপানের সেল্ফ-ডিফেন্স বাহিনীর ১০ হাজার সদস্যকে মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। আগামী বুধবার পর্যন্ত দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাপানের আবহাওয়া সংস্থা। বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবে।

জাপানের আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, এই ধরনের বৃষ্টিপাত ওই অঞ্চলে আগে কখনো দেখা যায়নি।

আশ্রয়প্রার্থী এক নারী বলেন, এই ধরনের শক্তিশালী বৃষ্টিপাতের কথা তিনি আগে কখনো কল্পনা করেননি দেখেননি।

কুমামাটো এলাকায় বসবাসকারী হারুকা ইয়ামাদা বলেন, আমি বড় বড় গাছ ও বাড়িঘর ভেসে যেতে দেখেছি এবং সেগুলো কোনও কিছুর সঙ্গে ধাক্কা খাওয়ার শব্দও শুনেছি। এলাকার বাতাসে লিক হওয়া গ্যাস ও সুয়ারেজের পানির গন্ধ।