জলসীমা নির্ধারণে জটিলতা: ঝুঁকিতে জেলেরা

মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর আগ্রাসী আচরণের পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরে জলসীমা নির্ধারণ চিহ্ন জটিলতায় চরম ঝুঁকি নিয়ে মাছ ধরছেন বাংলাদেশি জেলেরা। মাছ ধরার সময় সাগরের অথৈ পানিতে ভুলে জলসীমানা পার হলেই জেলেদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী। এ অবস্থায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় কাটাচ্ছেন সেন্টমার্টিন দ্বীপের জেলে এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা। 

দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। এই দ্বীপের স্থায়ী বাসিন্দাদের মানুষ বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
কিন্তু গভীর সাগরে বাংলাদেশ-মিয়ানমার জলসীমানায় চিহ্নিত দৃষ্টিসীমা না থাকায় ভুলে মিয়ানমারের জলসীমানায় ঢুকে পড়ছেন জেলেরা। এতে জেলেদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী। এছাড়া বাংলাদেশী জেলেদের লক্ষ্য করে গুলিও করছে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী। ফলে আতঙ্ক বিরাজ করছে জেলেদের মাঝে। বাংলাদেশের জলসীমার অপর প্রান্তে মিয়ানমারের অবস্থান।

প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এক বছরে বাংলাদেশ-মিয়ানমার জলসীমায় মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন বাংলাদেশি ১ জেলে ও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আরো ৪ জন। আর ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ৩২ জেলেকে। এর মধ্যে বিজিবির সাথে পতাকা বৈঠকের পর ২১ জনকে ফেরত দিয়েছে মিয়ানমার।

টেকনাফ সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর আহমদ বলেন, সাগরে একটা নির্দিষ্ট সীমানা নেই। সীমানা না থাকার কারণে আমরা ওইপারে চলে যাই। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী জেলেদের ধরে নিয়ে যায়।

বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলাম জানালেন, জলসীমার নির্দিষ্ট সীমানা থাকার পরও জেলেদের ভুলের কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটছে।

তিনি বলেন, আমরা যেমন তাদের জেলেদের ধরি তারাও ওদের সীমানায় চলে গেলে আমাদের জেলেদের ধরে। মিয়ানমার এবং বাংলাদেশর মধ্যে সুনির্দিষ্ট সীমানা রয়েছে।

দু’দেশের মধ্যে ১ লাখ ২১ হাজার ১১০ কিলোমিটার মোট সমুদ্র সীমার মধ্যে প্রায় ৭০ হাজার কিলোমিটার সীমানা আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে মিয়ানমার থেকে জয় করেছে বাংলাদেশ।