জনশুমারির জনবল নিয়োগ, দরপত্রে অনিয়মের অভিযোগ

প্রকল্প পরিচালকের বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ কাজ না পাওয়া ঠিকাদারের

থমকে গেছে ৬ষ্ঠ জনশুমারির ৬৬১ জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়া। দরপত্রে বিজয়ী হওয়া প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়ম করে কাজ বাগিয়ে নেয়ার অভিযোগ তুলেছে দ্বিতীয় হওয়া ঠিকাদার। আবার ঐ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও আছে অন্যায় তদবিরের অভিযোগ। আর প্রাথমিক যাচাইয়ে বাদ পড়া আরেক ঠিকাদার কাজ না পাওয়ায় অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেছেন জনশুমারির প্রকল্প পরিচালককে। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি গেছে আদালতে। আর তাই নির্দিষ্ট সময়ে জনশুমারি শুরু নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

দেশে এখন জনসংখ্যা কত, তা জানতে পরিচালিত হবে ৬ষ্ঠ জনশুমারি। মুল গণনা চলবে আগামী বছর ২ থেকে ৮ই জানুয়ারি। তথ্য সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য নেয়া হবে ৬৫০ জন ডাটা এন্ট্রি অপারেটর, ৭ গাড়ি চালক ও ৪ অফিস সহকারি।

জনবল যোগানে ঠিকাদার নিয়োগে গত ১৫ জানুয়ারি দরপত্র আহ্বান করে পরিসংখ্যান ব্যুরো। অংশ নেয় ১৫টি প্রতিষ্ঠান। প্রাথমিক যাচাইয়ে বাদ পড়ে ১০টি। তাদের একটি হোমল্যান্ড সিকিউরিটিজ। যদিও কাজ পেতে শুরু থেকেই প্রতিষ্ঠানটির তদবির ছিলো।

তদবির চলে হোয়াটসঅ্যাপের খুদে বার্তায়ও। হোমল্যান্ডকে নাকি কাজ দিতে বলেছেন স্বয়ং অর্থমন্ত্রী ও সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান। পরিকল্পনামন্ত্রীরও নাম ভাঙ্গানো হয়।

এ বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘আমি যে কাজ করি তা লিখিত, মৌখিক কোনো কাজ করিনা। আমি আমার সহকর্মীদের জানিয়েছি আমি যা লিখিত দিব সেটাই আমার কথা। আমি নোটে যা লিখব সেটাই আমার শেষ কথা।’

কাজ না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২১ এর প্রকল্প পরিচালক মো. জাহিদুল হককে খুদেবার্তাও পাঠান হোমল্যান্ডের এমডি। এজন্য থানায় জিডিও করেন প্রকল্প পরিচালক।

অন্যদিকে, দরপত্রের আর্থিক প্রস্তাবে ৫টি কোম্পানি উত্তীর্ণ হয়। আর্থিক মূল্যায়নে সবার স্কোরই সমান।  তাই কারিগরী মূল্যায়নের সর্বোচ্চ নাম্বার পাওয়া প্রতিষ্ঠান আল আরাফাত সিকিউরটিজকে বেছে নেয় দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি। কিন্তু, অনিয়মের অভিযোগ করে দ্বিতীয় হওয়া প্রতিষ্ঠান গালফ সিকিউরিটি সার্ভিসেস। আপিল করে সরকারের সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিট-সিপিটিইউতে। আবার এই গালফের বিরুদ্ধে অবৈধ তদবিরের অভিযোগ করেছে মূল্যায়ন কমিটি।

সিপিটিউর রায় দেয় মূল্যায়নে প্রথম তিন প্রতিষ্ঠানকে ৩৬ কোটি টাকার কাজ সমান ভাগে ভাগ করে দেয়ার জন্য। কিন্তু এই রায় নিয়ে আপত্তি জানায় প্রাথমিক যাচাইয়ে বাদ হওয়া হোমল্যান্ড।

শেষ পর্যন্ত জনশুমারিতে জনবল সরবরাহ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা দূর করতে আল আরাফাত ও গাল্ফ সিকিউরিটিজ দু’পক্ষই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে।