ছাত্রীর চুল কাটার ঘটনায় জড়িত নারী গ্রেপ্তার

নওগাঁর নিয়ামতপুরে কলেজ ছাত্রীর মাথার চুল কাটার ঘটনায় রুপা (২০) নামে আরেক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে ওই নারীকেই চুল কেটে ফেলতে দেখা যায়।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে জেলার মান্দা উপজেলায় ফুফুর বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রুপা এ ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি রায়হানের স্ত্রী। গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিকভাবে সে চুল কাটার কথা স্বীকার করেছে। রুপালীর দাবি, তার স্বামী রায়হানকে প্রায় বিরক্ত করতো ওই ছাত্রী। তাই ওই ছাত্রীকে শাস্তি দিতেই সে নিজে তার চুল কেটে ফেলে।

তাদের বাড়ি উপজেলার শ্রীমন্তপুর ইউনিয়নের ঝাজিরা গ্রামে হলেও উপজেলা সদরে বালাহৈর জামে মসজিদের কাছে ভাড়া বাসায় বসবাস করেন।
গেলো রোববার বিকেল পাঁচটার দিকে কলেজছাত্রী কম্পিউটার প্রশিক্ষণ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন।
বাড়ি যাওয়ার পথে বালাহৈর জামে মসজিদের কাছ থেকে রায়হান ও তার তিন বন্ধু তাকে জোর করে রাস্তা থেকে তুলে তার ভাড়া বাড়িতে নিয়ে যায়।

এরপর রায়হান ও তার স্ত্রী রূপা কলেজছাত্রীর মাথার চুল কেটে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন। সেখানে তাকে প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে নির্যাতন করা হয়। এরপর অশ্লীল ছবি তুলে কাউকে কিছু না বলার জন্য হুমকি দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়।
প্রায় দেড় ফুট লম্বা মাথার চুল কেটে ফেলা হয়। ওই কলেজছাত্রী বাড়ি যাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। পরে ঘটনার একটি ভিডিও ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। মামলার দিন প্রধান আসামি রায়হানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলার দুই দিন পর রায়হানের স্ত্রী রুপাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ন কবির আরটিভি নিউজকে বলেন, মাথার চুল কাটার ঘটনায় গেলো ২১ সেপ্টেম্বর কলেজছাত্রীর বাবা আমিরুল ইসলাম বাদী হয়ে রায়হানকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাত আরও দু’জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। মামলার পর রায়হানকে গ্রেপ্তার করে মঙ্গলবার জেলহাজতে পাঠানো হয়। এদিকে ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে থাকা আরও দুজনকেও খুঁজছে পুলিশ।