চ্যানেল এস অনলাইন পোর্টালে সংবাদ প্রকাশ মিঠাপুকুরে এক ইউপি সদস্যে ত্রানের নামে টাকা আদায়ের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের তদন্ত শুরু

 আমিরুল কবির সুজন, মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিনিধি: চ্যানেল এস অনলাইন পোর্টালে মিঠাপুকুরে ত্রানের প্রলোভন দেখিয়ে এক ইউপি সদস্যের টাকা আদায় শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর ওই ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছেন মিঠাপুকুর উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন ভুঁইয়ার নির্দেশে উপজেলা সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা আবু মোত্তালেব মোহাম্মদ মতিন তদন্ত শুরু করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। উল্লেখ্য মিঠাপুকুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ছাত্তার মিয়া তার সহযোগীদের মাধ্যমে ত্রান ও রেশন কার্ড দেয়ার নামে ৬০জন হত দরিদ্র মানুষের নিকট থেকে ৫‘শ টাকা করে মোট ২৮হাজার ৫শত ৫০টাকা আদায় করেন।

বিষয়টি একপর্যায়ে জানাজানি হলে মিঠাপুকুর মানবাধিকার কমিশনের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে সত্যতা পান। মানবাধিকার টিম মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ঘটনাটি মুঠোফোনে অবগত করলে ইউএনওর নির্দেশে ভুক্তভোগীদের তালিকা করে ইউপি সদস্য ছাত্তার মিয়া ও তার সহযোগীদের আদায়কৃত টাকা উদ্ধার করে মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মামুন ভুঁইয়ার নিকট তাঁর কার্যালয়ে হস্তান্তর করে একটি লিখিত অভিযোগ করেন বলে জানান মিঠাপুকুর মানবাধিকার কমিশনের সভাপতি আজহারুল ইসলাম নওশাদ। অভিযোগ ও সরেজমিনে গিয়ে তথ্য সুত্রে জানা গেছে , উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ছাত্তার মিয়া তার সহযোগীদের মাধ্যমে ত্রান ও রেশন কার্ড দেয়ার নামে হতদরিদ্র মানুষের নিকট থেকে ৫‘শ টাকা করে আদায় করেন।

ভুক্তভোগী হতদরিদ্র অনেকে বলেন মুকুল,জাহিদুল ছাড়াও মেম্বর নিজেও আমাদের কাছে ত্রান/ কার্ড দেওয়ার নামে টাকা নিয়েছেন। টাকা নেওয়ার বিষয়ে মুকুলের নিকট জানতে চাইলে তিনি ইউপি সদস্য সাত্তার মিয়ার কথায় ৯ জন হতদরিদ্র মানুষের টাকা নেয়ার কথা স্বীকার করে আদায়কৃত টাকা মেম্বরকে দিয়েছেন বলে জানান। অভিযুক্ত ইউপি সদস্য ছাত্তার মিয়া বলেন, আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। আমি টাকা নেইনি। তবে আদায়কৃত টাকা উদ্ধারে সহযোগিতা করেছি মাত্র। আমি এর সঠিক তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।

এব্যাপারে সরেজমিনে তদন্ত করার জন্য উপজেলা সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা আবু মোত্তালেব মোহাম্মদ মতিন মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে ভুক্তভোগীদের বক্তব্য লিখিত ও মৌখিকভাবে গ্রহন করা ছাড়াও অভিযুক্ত ইউপি সদস্য ছাত্তার মিয়া এবং অভিযোগকারী মিঠাপুকুর মানবাধিকার কমিশনের সভাপতি আজহারুল ইসলাম নওশাদ-এর বক্তব্য গ্রহন করেছেন। তিনি জানান, তদন্তের স্বার্থে এখনই কোন কিছু বলা সম্ভব না। তবে চুড়ান্ত ফলাফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে। মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন ভুঁইয়া জানান, তদন্ত ফলাফলের ভিত্তিতে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমান করোনা প্রাদুর্ভাবে হতদরিদ্রদের নিকট থেকে ত্রাণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে টাকা নেওয়ার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সুশিল সমাজ।