চেক জালিয়াতি, ৩৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

১০৬টি চেক জালিয়াতি করে ৩৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদির পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের হিসাবরক্ষক মোহাম্মদ ফেরদৌস আজিজের বিরুদ্ধে।

২০১৭ থেকেই তিনি এই প্রতারণা করে আসছেন। এদিকে এ ঘটনায় একজন যুগ্ম সচিবকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তদন্তে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও চেক জালিয়াতির বিষয়টি প্রাথমিকভাবে প্রমানিত হওয়ায় ১৫ই ফেব্রুয়ারী হিসাবরক্ষক ফেরদৌস আজিজকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

তাছাড়া একটি সাধারন ডায়েরীও করা হয়েছে। সাথে আরও তিন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

স্বাক্ষর জাল করে উপজেলার অগ্রণী, কৃষি ও সোনালী ব্যাংকে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বেতন-ভাতা ও সমিতির সদস্যদের কাছ থেকে আদায় করা ঋনের জমানো টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করেন তিনি।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও বিআরডিবি’র যুগ্ম পরিচালক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।

এর সঙ্গে যেহেতু অনেক বিষয় জড়িত সে কারণে সবকিছু যাচাই বাছাই করে দেখতে হবে।’

প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেছে উল্লেখ করে জেলা বিআরডিবির উপ পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন,

‘এখানে কিছু অনিয়ম আমার কাছে পরিলক্ষিত হয়েছে। তদন্তের জন্য বোর্ডের মহাপরিচালক বরাবর চিঠিও দেয়া হয়েছে। তদন্তের পরেই আসলে প্রকৃত বিষয়টি বোঝা যাবে।’

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান অভিযুক্ত হিসাব রক্ষক মোহাম্মদ ফেরদৌস আজিজ বলেন,

‘উপজেলা পল্লি উন্নয়ন অফিসার বিভিন্ন সময় নানা খাতে খরচ দেখিয়ে আমার কাছ থেকে সাক্ষর নিয়েছেন।

পরবর্তী সময়ে তিনি আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন যে, আমি চেক জালিয়াতির মাধ্যমে টাকা নিয়েছি। কিন্তু আসলে ব্যাপারটা সেরকম না।’

উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা শ্যামল চন্দ্র দাস বলেন, ‘এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি আমাদের কয়েকজনের সাক্ষর নকল করে এই অপকর্মটি করেছেন।

এ বিষয়ে একটি তদন্ত দল কাজ করছে। সেই তদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’