চিরারচরে পাওনা টাকা চাওয়ায় শশুর বাড়ির লোকদের হামলায় আহত ৫

মোহাম্মদ বিপ্লব সরকার: চাঁদপুর সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের লক্ষীরচর ও মতলব উত্তর উপজেলার চিরারচরে কনের শশুর বাড়ির লোকদের হামলায় ৫ জন মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে। এর মধ্যে গুরুতর আহত ২ জনকে ঢাকা রেফার করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে ১৮ মার্চ দুপুর আড়াইটায়। ঘটনা সূত্রে ও আহতরা জানায় বছর দশেক আগে সিদ্দিক প্রধানীয়ার মেয়ে রোকসানা আক্তার (২৭) কে পার্শ্ববর্তী রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের লক্ষীরচর এলাকার আব্দুল আজিজ বেপারীর ছেলে হাসান আলীর কাছে বিয়ে দেয়।

বিয়ের পর বছর খানিক সুখে শান্তিতে তাদের সংসার চলে। এরপর রোকাসানার স্বামী হাসান আলী বেপারী তাকে বিদেশে যাওয়ার জন্য যৌতুকের টাকা বাপের বাড়ি থেকে এনে দিতে রোকসানাকে চাপ সৃষ্টি করা হয়। এমনকি রোকসানার উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয় বলে রোকসানা সাংবাদিকদের জানায়।

রোকসানার উপর এ ধরনের নির্যাতন জানতে পেরে তার পরিবারের লোকজন হাসান আলী বেপারীকে প্রায় ৪ লাখ টাকা খরচ করে প্রবাস জীবনের লেবাননে পাঠিয়ে দেয়। হাসান আলী বিদেশ যাওয়ার পর থেকে স্ত্রী রোকসানা আক্তার ও তাদের একমাত্র পুত্র সন্তানের কোন খোঁজ খবর নেয়ন না।

এই নিয়ে ৭/৮ বার স্থাণীয়ভাবে শালিশ দরবার হয়েছে। রোকসানার ভাসুর খোকন রোকসানার পরিবারের কাছ থেকে টাকা পয়সা ধার নিলে তা পরিশোধ করে না। ১৭ মার্চ রোকসানা তার ভাসুরের কাছে পাওনা টাকা চাইতে গেলে ভাসুর খোকন ও তার স্ত্রী রোকসানাকে মারধর করে।

রোকসানা বিষয়টি বাপের বাড়িতে এসে তার ভাইদেরকে জানায়। গতকাল সকালে রোকাসানার বড় ভাই শুক্কুর আলী প্রধানীয়া (৩৬) খোকনকে বিষয়টি জিজ্ঞাসাবাদ করতে গেলে উভয়ের মধ্যে বাকবিতন্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

দুপুর আড়াইটায় খোকন প্রধানীয়া পরিবারের সদস্যদের নিয়ে খাবার খেতে বসলে লক্ষীরচর থেকে দেশীয় অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে খোকন, নবীর হোসেন, রাসেল, রফিক, এয়াকুব, খালেদা, দেলোয়ার সহ অজ্ঞাত ১০/১২ জন আচমকা হামলা চালায়।

দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে রোকসানার বাপের বাড়ির ৬ জন মারাত্মকভাবে আহত হয়। আহতরা হলো শুক্কুর আলী (৩৬), তাদের মা নুরুন্নাহার (৬৫), বোন রোকসানা (২৭), ফাতেমা বেগম (৩৬), সিদ্দিক প্রধানীয়া (৭০), নিজাম (৩০)। এর মধ্যে শুক্কুর প্রধানীয়া ও সিদ্দিক প্রধানীয়ার অবস্থা আশংকাজনক।

সন্ধ্যার পর এ দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। অপর আহতদেরকে চাঁদপুর ২৫০ শয্যার সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জানা যায়, হাসান বেপারীর পরিবারের সদস্যরা  ইতিপূর্বেও রোকসানার উপর নির্যাতন চালিয়েছিল।

এ ব্যাপারে রাজরাজেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হযরত আলী বেপারী ও ইউপি মেম্বার আলী বকাউল কমপক্ষে ৭/৮ বার শালিশ বৈঠক করেছিলেন।

সর্বশেষ শালিশ বৈঠকে হামলাকারী খোকন বেপারী ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রোকসানা ও ভাতিজার ভরন পোষন হিসেবে ভাইয়ের পাঠানো অর্থ থেকে তাদেরকে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছিল।

কিন্তু সেই অঙ্গীকারের অর্থ আর রোকসানা ও তার শিশু পুত্রকে দেওয়া হয় না বলে রোকসানা জানান।