চাক্তাই খালের দুই পাড় মাঝি-মাল্লাদের হাঁক-ডাকে সরগরম

মোঃরাশেদ, চট্রগ্রাম প্রতিনিধিঃ করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ থাকায় চাক্তাই খালের বাণিজ্যিক গুরুত্ব বেড়েছে। ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও মাঝি-মাল্লাদের হাঁক-ডাকে এখন সরগরম খালের দুই পাড়। যদিও বর্তমানে খালের অবস্থা বেহাল। দুই পাশে অবৈধ দখল ও ভরাট হয়ে সরু হয়ে গেছে। জোয়ারের সময় ছোট ছোট নৌযান খালের মোহনায় ঢুকে পণ্য বোঝাই করে নিয়ে যায় বিভিন্ন এলাকায়। তবে ভাটার সময় পড়তে হয় দুর্ভোগে। জমে থাকা পলি মাটিতে আটকে যায় এসব নৌযান।

কমতে কমতে এখন চাক্তাই খালের দৈর্ঘ্য এসে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ কিলোমিটার। চামড়ার গুদাম এলাকায় খালের মোহনা থেকে বহদ্দারহাট পর্যন্ত বিস্তৃতি। এক সময় খালের বিভিন্ন স্থানে দুই পাশ থেকে পণ্য ওঠা-নামা হতো। বর্তমানে খালের খাতুনগঞ্জ ও চাক্তাই এলাকার অংশ বেশি ব্যবহার হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, খালের মোহনা থেকে ভেতরের তিন কিলোমিটার অংশে পণ্য ওঠা-নামা চলছে। পণ্য পরিবহনের সুবিধার্থে খালের দুই পাশে গড়ে ওঠা পাইকারি মুদির দোকান, চালের আড়ত, শুঁটকির আড়ত, ঢেউটিন, আটা-ময়দার মিল, ডালের মিলসহ নানা রকম ভোগ্যপণ্যের প্রতিষ্ঠানে ভিড় জমাচ্ছেন খুচরা পাইকাররা। তারা পণ্য কিনে নৌযানে করে নিয়ে যাচ্ছেন। ব্যবসায়ীরা জানান, একসময় শহরে পণ্য আনা নেওয়ার জন্য চাক্তাই খাল ব্যবহার করা হতো। রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, আনোয়ারা, পটিয়া, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, বোয়ালখালী, বাঁশখালী, সন্দ্বীপ ও কুতুবদিয়া থেকে বিভিন্ন মৌসুমি সবজিসহ অন্যান্য পণ্য চট্টগ্রামে বিক্রির জন্য আনা হতো। আর খাতুনগঞ্জ থেকে নিয়ে যাওয়া হতো ভোগ্যপণ্য। পণ্যসামগ্রী লোড করা নৌকা।

সোহেল সরওয়ার২০০০ সাল থেকে এ পথে পণ্য পরিবহন কমে যায়, এখন গণপরিবহন চলাচল কমে যাওয়ায় চাক্তাই খাল দিয়ে পণ্য পরিবহন বেড়েছে। শহরের আশপাশে উপজেলাগুলোতে নৌপথে পণ্য পরিবহনে খরচ তুলনামূলক কম। তাই চাক্তাই খালের বাণিজ্যিক ব্যবহার বাড়াতে পারলে ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা লাভবান হবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। খাতুনগঞ্জ এবং চাক্তাইয়ে পণ্য গাড়ি ও নৌযানে বোঝাই করার জন্য কাজ করছে কয়েকশ শ্রমিক। এসব শ্রমিকরা ‘মাঝিদের’ নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন।

শ্রমিকদের মধ্যে অধিকাংশই চট্টগ্রামের বাইরের জেলার। বর্তমানে অনেক শ্রমিক বাড়িতে চলে গেছেন। পেটের দায়ে যারা রয়ে গেছেন, তাদের দম ফেলার ফুরসত নেই। স্থানীয় বশির মাঝি জানান, আমি ৩৬ বছর ধরে খাতুনগঞ্জে কাজ করছি। একসময় এখানে ছিল রমরমা অবস্থা। নৌকা-সাম্পান আর ট্রলারে অধিকাংশ পণ্য বোঝাই করে দিতো কিংবা খালাস করতো শ্রমিকরা। এখন সড়কপথেই বেশি পণ্য পরিবহন হয়। তবে গত একমাস ধরে পণ্যের গাড়ি কমে যাওয়ায় নৌপথে মালামাল আনা-নেওয়া বেড়েছে। এদিকে শুধু চাক্তাই খাল নয়, কর্ণফুলীর বিভিন্ন ঘাটে আসন্ন রমজান উপলক্ষে আসা ভোগ্যপণ্য খালাসের ধুম পড়েছে।

নগরের স্ট্র্যান্ড রোডের বাংলাবাজার, আসাম বেঙ্গল, জুট রেলি, এভারগ্রিন ও আনু মাঝির ঘাটে ছোলা, সাদা মটর, মশুর ডাল, গম ইত্যাদি খালাস হচ্ছে। ঘাট গুদাম শ্রমিকরা জানান, বিদেশ থেকে পণ্যবাহী বড় কার্গো জাহাজ বহির্নোঙরে এসেছে। সেখান থেকে লাইটার জাহাজে এসব পণ্য খালাস করে বিভিন্ন নদীবন্দর ও ঘাটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ঘাট থেকে পণ্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে গুদামে।