চাঁদপুর হাইমচরে ৩য় শ্রেনির ছাত্রী শিশু ধর্ষন ও হত্যা মামলার আসামী সেলিম বেপারী গ্রেফতার

মোহাম্মদ বিপ্লব সরকার, চাঁদপুর প্রতিনিধি: চাঁদপুর জেলার হাইমচরে শিশু মারজান ধর্ষন ও হত্যা মামলার প্রধান আসামী কে আটক করেছে চাঁদপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। ৭ জুনদুপুর ২টায় ঢাকা টঙ্গি এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

২০১৭সালের ২২ ডিসেম্বর বিকাল অনুমান সাড়ে ৫ টায় স্থানীয় মুকশেদ হাওলাদারের ১ ছেলে ৩ মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ে স্থানীয় চর কোড়ালিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণীর ছাত্রী মারজানকে ১০০ টাকা দিয়ে ঈশান বালা বাজারে পাঠায় তার মা। বাজারে যাওয়ার পথে স্থানীয় চৌকিদার নান্নু মিয়া মারজানের মুখ চেপে ধরে জনৈক নাসির সর্দারের পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে সে সহ ৪ জন নর পশু জোড় পূর্বক পালা ক্রমে ধর্ষন করে। জ্ঞান হারায় মারজান। জ্ঞান ফিরলে ঘটনা প্রকাশ হয়ে যাবে এ কারনে ৪ পাষন্ড নরপশু গলা টিপে হত্যা করে মারজানকে।

সন্ধ্যা ঘনিয়ে রাত শুরু হলেও মারজান বাড়ী ফিরে না আসায় সবাই এদিক সেদিক খুঁজাখঁজি করতে থাকে। এক পর্যায়ে মৃত মারজানের প্রাণহীন দেহ পাওয়া যায় হাইমচরের ঈশানবালা এলাকায় মারজানদের বাড়ীর অদুরে নদীর পাড়ে। এলাকার সুবিধাবাদী মহলের যোগসাজসে সুকৌশলে মারজানকে জ্বীনে মেরেছে বলে প্রচার করে মারজানের মৃতদেহ দাফন করা হয় স্থানীয় কবর স্থানে।

মারজানের বাবা ২০১৮সালের ১০ জানুয়ারী ঈশানবালা দ্বীন ইসলাম হাওলাদারের ছেলে জালাল মিয়া হাওলাদার (২১) , কাদির বেপারীর ছেলে সিদ্দীক (২২) ও শফিক উল্লাহ বেপারীর ছেলে সেলিম গং দের আসামী করে মামলা করে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট চাঁদপুর এর আদালতে। আদালত হাইমচর থানাকে সরাসরি মামলা রজুর আদেশ দিলে হাইমচর থানার মামলা নং ০৪ তারিখ ১৬/০১/ ইংধার-৩০২/৩৭৬/২০১/৩৪/১০৯ দ: বি রজু হয়। তদন্ত ভার দেয়া হয় হাইমচর থানার এস আই সুমন মিয়াকে।১ বছরে ও মামলাটির তদন্তে উল্লেখ যোগ্য কোন অগ্রগতি না হওয়ায় পুলিশ সুপার চাঁদপুর মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করেন। আই ও নিয়োগ করা হয় ডিবির এস আই শামীম আহম্মদকে। এস আই শামীম বদলী সুত্রে অন্যত্র গেলে১০/০২/২০২০ ইং এস আই রেজাউলকে মামলার তদন্ত ভার দেয়া হয়। এক মাসের মাথায় এস আই রেজাউল মামলার ঘটনায় সম্পৃক্ত এজাহার বহির্ভূত আসামী নান্নু চৌকিদার কে গ্রেফতার করেন শরিয়তপুর থেকে। জিজ্ঞাসাবাদে নান্নু সে নিজে সহ এজাহার নামীয় ৩ আসামী মারজানকে নারকীয় ভাবে ধর্ষন ও হত্যার লোমহর্ষক বিবরন দেয় এবং বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী দেয়। ওসি রনজিত কুমার বড়ুয়া ডিবি চাঁদপুরের দায়িত্ব গ্রহনের পর এ মামলাটির তদন্তকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আই ও কে বিশেষ দিক নির্দেশনা দেন। ওসি রনজিত বড়ুয়া বলেন , পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান পিপি এম (বার) এর দিক নির্দেশনা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত) মিজানুর রহমান এর সার্বিক সহযোগীতায় আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ৭ জুন বেলা ২ টার সময় গাজীপুর মেট্রোপলিটন এর টঙ্গী পশ্চিম থানা এলাকায় এস আই রেজাউল করিম সহ সঙ্গীয় ফোর্স এজাহার নামীয় অন্যতম আসামী মোঃ সেলিম বেপারী (২২) , পিতা- শফিউল্লাহ বেপারী, গ্রেফতার করা হয়। ওসি ডিবি রনজিত কুমার বড়ুয়া জানান, আসামি সেলিমকে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন সহ আদালতে প্রেরণ হবে।