চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজের বার্ষিক ক্রিড়া ও পুরস্কার বিতরণ

মোহাম্মদ বিপ্লবসরকার : চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজের বার্ষিক ক্রিড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৫ মার্চ বৃহস্পতিবার দুপুর ১ টায় কলেজ প্রাঙ্গনে তা অনুষ্ঠিত হয়। চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ মাসুদুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত মন্ত্রী ডা. দিপু মনি এমপি।

এ সময় তিনি বলেন মুজিব বর্ষ শুরু হচ্ছে। ক্ষণ গণনা চলছে। আমরা মুজিবকে জানবার ও বুঝবার চেষ্টা করব। এই একটা বছর মুরাল তৈরি আর ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার নয়।

আমরা এই একটা বছর বুঝতে ও চিনতে চাই। হাজার বছরের লালিত স্বপ্ন স্বাধীনতা ধারনা করছেন। সবাইকে প্রস্তুত করেছেন বঙ্গবন্ধু। ৯ মাসের যুদ্ধে স্বাধীনতা অর্জন। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুকে জাতি পেয়েছে। স্বাধীনতার পরাজিত শত্রুরা তাকে স্বপরিবারে হত্যা করে। ইউনেস্কো ৪২৭টি আইটেম তালিকাভুক্ত করেছে। তার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ ছিল ১ নাম্বার।

তাই জাতিসংঘ সেই ভাষণকে স্বিকৃতি দিয়েছে। ২১ বছর জাতির পিতাকে প্রজন্মের কাছে জানতে দেয়া হয়নি। সেই জাতির পিতাকে আমরা নতুন ভাবে আবিষ্কার করছি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে সরকার তার নেতৃত্বে জাতির পিতাকে জানতে ও বুঝতে পারছি। আমাদের সোনার বাংলার কথা প্রতিষ্ঠার জন্য জানতে ও বুঝতে হবে। বড়দের কাছ থেকে শুনে শিখতে হয়েছে বঙ্গবন্ধুর কথা। এখন তার ৩টি বই বাজারে রয়েছে। তা পড়লে মনে হয় জাতির পিতার সামনে বসে আছি।

তিনি অনরগল বলে যাচ্ছেন। এই বই গুলো তোমরা পড়বে। শেখ হাসিনা ২০০৮ সালে রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসে স্বপ্ন দেখিয়েছেন ২০২১ সালের মধ্যে আমরা মধ্যম আয়ের দেশে উন্নত হব। ২০৩০ সালে লক্ষ রয়েছে টেকসই ও উন্নয়নশীল দেশ গড়ার। ২০৪১ সালে আরো উন্নত ও সমৃদ্ধশালী দেশ করার প্রজ্ঞা দেখাচ্ছেন। খেলাদুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে।

অর্থনৈতিক ভাবেও আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। বিশ্ব এখন বলে বাংলাদেশে এখন বিশ্বায়নের সঠিক নেতৃত্ব থাকার কারনে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। ২০৪১ সাল বেশি দূরে নয়। মাত্র ২১ বছর। তোমাদের জন্য এই ২১ বছর কিছুই না। তোমাদের সামনে পরে আছে সেই দিন। তোমরা সাহিত্যিক, দার্শনিক ও শিক্ষামন্ত্রী হবে। তোমাদের জন্য সেই দিনও সব স্বপ্নগুলো পড়ে আছে। ১৯৭০ সালে বঙ্গবন্ধু বলেছেন শিক্ষার চেয়ে বড় বিনিয়োগ আর নেই। বর্তমান সরকার শিক্ষার উপর বিনিয়োগ করছে।

আমরা শিক্ষাকে বিশ্বমানের কাছে নিয়ে যাবো। বিশ্বমানের শিক্ষার মান হবে শিক্ষার্থীরা ভালোভাবে জ্ঞান অর্জন করবে। চিন্তা করতে শিখতে হবে। একের সাথে অন্যের বন্ধুত্ব সৃষ্টি করতে হবে। আমাদের দক্ষতা ও মূল্যবোধ গুলো শিক্ষার মাধ্যমে গড়ে উঠবে। বিশ্বমানের শিক্ষা বিশ্বমানের মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে। বর্তমান সরকার তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার শিক্ষার মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছে। আমরা উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষায় ব্যাপক পরিবর্তন এনেছি। বিশ্বমানের শিক্ষার ক্রিড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত থাকতে হবে।

উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ ইকবাল হোসেন খান, বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাহমিনা ফেরদৌস, পদার্থবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক মোঃ ওমর ফারুক, ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মোঃ জহিরল ইসলাম ও সমাজকর্ম বিভাগের প্রভাষক মোঃ আল-আমিনের যৌথ পরিচালনায় আরো বক্তব্য রাখেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. সৈয়দ মোঃ গোলাম ফারুক। এ সময় মঞ্চে আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা মেজিস্ট্রেট মোঃ জামাল হোসেন, ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান, ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এড. জাহিদুল ইসলাম রোমান।

অথিতিগণ কলেজ প্রঙ্গনে প্রবেশ করলে শিক্ষার্থীরা ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে বরণ করে নেন। তাছাড়া শিক্ষার্থীরা প্রধান অতিথি ডা. দিপু মনিকে কাছে পেয়ে জাতির পিতার উপর রচিত গানের সাথে নৃত্য পরিবেশন করে। এ সময় প্রধান অতিথি নৃত্য শিল্পিদেরকে ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে শুভেচ্ছা জানান। অনুষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতায় ছিলেন কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর আবুল খায়ের খান। আলোচনা সভা শেষে প্রধান অতিথি ডা. দিপু মনি এমপি বিভিন্ন ইভেন্টে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। বার্ষিক ক্রিড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানকে সার্থক করতে ১২টি কমিটি গঠন করা হয়।