চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স চালকদের দৌরাত্ম

 মোহাম্মদ বিপ্লব সরকার, চাঁদপুর প্রতিনিধি: চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স চালকদের দৌরাত্ম দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এদের দালালির কারণে সাধারণ রোগীরা চরমভাবে ভোগান্তির শিকার পেহাতে হচ্ছে। ব্যক্তিগত অ্যাম্বুলেন্স চালকদের কারণে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সটি ভাড়া না পেয়ে পড়ে থাকতে হচ্ছে। আর তাতে করে সরকার প্রতি মাসে বিপুল অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে। চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে সামনে যে সব ব্যক্তিগত অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে এদের বেশিরভাগই হলো কম দামে মাইক্রো বাস কিনে তার মধ্যে সাইলেন্ট অক্সিজেন সিলেন্ডার যুক্ত করে অ্যাম্বুলেন্স বানিয়ে তা দিয়ে চাঁদপুর থেকে ঢাকায় রোগী পরিবহন করা হচ্ছে।

চাঁদপুর থেকে ঢাকায় রোগী পরিবহনের জন্য ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা নির্ধারিত থাকলেও এরা নিচ্ছে সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা। প্রায় সময় দেখা যায় রোগীর অভিভাবকদের সাথে ভাড়া নিয়ে চালকদের মধ্যে বাকবিতন্ডা লেগেই রয়েছে। দেখা যায়, চাঁদপুর থেকে ঢাকায় রোগী নিয়ে যাওয়ার সময় এসব অ্যাম্বুলেন্স পথিমধ্যে ২/৩ বার বিকল পর্যন্ত হয়ে থাকে। এতে করে মুমুর্ষ রোগীরা আরও বেশি ঝুঁকিতে পড়ে। কিছু অ্যাম্বুলেন্স চালক রয়েছে তারা পথিমধ্যে রোগী বেচা বিক্রি করে থাকে।

তারা গাড়ির সমস্যা দেখিয়ে অন্য অ্যাম্বুলেন্সে সেই রোগী স্থানান্তর করে পুনরায় চাঁদপুর চলে আসে। চাঁদপুরে প্রায় শতাধিকের মতো ব্যক্তি মালিকানার অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। ইতিমধ্যে অ্যাম্বুলেন্স চালকদের মধ্যে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতি কমিটি গঠন করেছে। প্রথম কিছুদিন শঙ্খলার মধ্যে অ্যাম্বুলেন্স চলাচল করলেও গত ২ সপ্তাহ ধরে তাদের মধ্যে কোন শৃঙ্খলা মানা হচ্ছে না। যে যার মতো গাড়ি ভাড়া নিচ্ছে। এতে করে চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হচ্ছে রোগীদের লোকজনকে।

চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রোগীদের ভর্তির ওয়ার্ডগুলোতে অ্যাম্বুলেন্স চালকরা ঘুরে ঘুরে রোগীদেরকে ঢাকা নেওয়া যায় সেজন্য টানা হেচড়া করতে দেখা যায়। তবে দূর্ঘটনায় পতিত রোগীরা চিকিৎসার জন্য জরুরি বিভাগে আসলে কিছু সংখ্যক অসাধু অ্যাম্বুলেন্স চালকরা রোগীদের অভিভাবকদেরকে নাজেহাল করে থাকে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব দালাল মুক্তের লিফলেট হাসপাতালের দেওয়া দেখা গেলেও চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স চালক দালালদের রোধ করা এখনও সম্ভব হয়নি। প্রকৃত অ্যাম্বুলেন্স চালকরাও যেন তাদের কাছে জিম্মি হয়ে রয়েছে।