চাঁদপুর শহর রক্ষা বাঁধে ভাঙ্গনে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন

মোহাম্মদ বিপ্লব সরকার, চাঁদপুর প্রতিনিধি: চাঁদপুর শহর রক্ষা বাঁধের পুরান বাজারে হরিসভা এলাকায় মেঘনার ভাঙ্গনে বিদ্যুত সরবরাহ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। বুধবার মধ্যরাতে নদীতে ভাঙ্গন দেখা দেয়।

নদীর পারে থাকা বিদ্যুতের খুঁটি নদীতে তলিয়ে যাওয়ায় এবং সরবরাহ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ওই এলাকায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ লাইন সমরিক ভাবে বিচ্ছিন্ন করা হয়। বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিভাগের লোকজন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কাজ শুরু করেছে।

শহর রক্ষা বাঁধের পুরান বাজার হরিসভা মন্দির এলাকার লোকজন জানান, বুধবার রাত ১০টার পর ২৫ মিটার এলাকায় আবারো ফাটল দেখা দেয়। মুহূর্তেই ঐ এলাকার সিসি ব্লক নদীতে তলিয়ে যায়। ভাঙ্গনের মুখে রয়েছে আরো ২০মিটার এলাকা। আতঙ্কে স্থানীয় বাসিন্দারা বাসা বাড়ির মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নেন। স্থানীয়রা জানান, মেঘনা নদীর পানি প্রবল বেগে প্রবাহিত হওয়ার পাশাপাশি সৃষ্ট ঘূর্ণিপাকে হরিসভাসহ পুরান বাজার ব্যবসায়িক এলাকা ঝুঁকিতে রয়েছে।

শহর রক্ষা বাঁধের হরিসভা এলাকায় কয়েক মাস আগে ও ভাঙ্গন দেখা দেয় ।ওই সময় ভাঙ্গনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড বালি ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা করে। সরেজমিনে দেখা গেছে, আকস্মিক ভাঙ্গনে ওই এলাকার একটি বিদ্যুতের খুঁটি তারসহ নদীতে তলিয়ে গেছে। হরিসভা রোডের অর্ধেক অংশ মেঘনার গহিনে চলে গেছে।

গ্যাসের সরবরাহ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ কারণে পুরান বাজারের অধিকাংশ এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বিকেল পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বাখরাবাদ গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন সকাল থেকে কাজ শুরু করে। বিকেলে তা স্বাভাবিক হয় বলে স্হানীয়রা জানান। পাউবো কুমিল্লা অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী জহির উদ্দিন আহমেদ জানান,

২০০২ সালে চাঁদপুর শহর রক্ষা বাঁধের ৩৩শ’ মিটার এলাকায় সংরক্ষন কাজ করা হয়। এরপর আর সংস্কার করা হয়নি। এই কারণে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে অস্বাভাবিক পানির চাপ ও ঘূর্ণিপাকে শহর রক্ষা বাঁধে ভাঙ্গন দেখা দেয়। চাঁদপুর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী বাবুল আখতার জানান, প্রায় ৪৫ মিটার এলাকাজুড়ে শহর রক্ষা বাঁধের পুরানবাজার অংশে ফাটল দেখা দেয়।

ইতিমধ্যে ২৫মিটার এলাকার সিসি ব্লক দেবে গেছে। ভাঙ্গন প্রতিরোধে তাৎক্ষণিক জিও টেক্সটাইল ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। হরিসভা মন্দিরের দিকে যাতায়াতের রাস্তাটির যে অয়শে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছিল বৃহস্পতিবার সকালে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় রাস্তাটির নিচের অংশে সূড়ঙ্গ হয়ে গেছে।সেখান দিয়ে পানি প্রবেশ করছে।পানিউন্নয়ন বোর্ড বুধবার রাত থেকে সেখানে অবস্হান করে ভাঙ্গন রোধে কাজ শুরু করে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারি প্রকৌশলী মোঃ জুয়েল ভূইয়া জানান,ভাঙ্গন শুরু হলে শিক্ষা মন্ত্রী ডাঃ দিপুমনী,নৌ প্রতি মন্ত্রী জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রক্ষা করে যাচ্ছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে যাচ্ছে।দুপুর ২টা পর্যন্ত আড়াই হাজার জিও বালু ভর্তি ব্যাগ ভাঙ্গন এলাকায় ফেলা হয়।

বিকেলে হরিসভায় যাতায়াতের রাস্তাটি ভেঙ্গে নদীতে তলিয়ে যায়।সন্ধ্যা ৬টটা পর্যন্ত ভাঙ্গন এলাকায় ৩হাজার ৭শত ৪৭ টি বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তারা জানিয়েছে। ভাঙ্গন রোধের কাজে নিয়োজিত ঠিকাদার তাফাজ্জল হোসেন পাটোয়ারী এসডু জানান,চাঁদপুর শহর রক্ষা বাঁদ বড় স্টেশন মোল হেড ও পুরান বাজার শহর রক্ষা বাঁধ হরিসভা এলাকা আমি চাঁদপুরকে ভালবেসে কাজ করছি।

কেননা এটি আমার শহর।এখনো আমি হরিসভা এলাকার কাজের বিল পাইনি।প্রতিটি জিও ব্যাগে ২শ ৫০ কেজি বালু দেয়ার কথা থাকলে ও আমি বলেছি কম নয় বালু বেশি দেয়ার জন্য।প্রতিটি জিও ব্যাগে ২ শ৭০/৮০ কেজি বালু দেয়া হচ্ছে।