চাঁদপুর শহরে সাহসী নৈশ প্রহরি রোমন মিয়া

মোহাম্মদ বিপ্লব সরকার, চাঁদপুর প্রতিনিধিঃ চাঁদপুর শহরে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে নৈশ প্রহরি রোমন মিয়া। গত ২৭ আগস্ট সকালে রোমন মিয়া জীবনের ঝুকি নিয়ে সংঘবদ্ধ চোর চক্রের ৫ সদস্যের মধ্যে একজন কে ধরতে স্বক্ষম হয়েছে।তার এ সাহসিতকা দেখে অন্য নৈশ প্রহরিদের বুকে সাহস জম্মানুর কথা।
রোমন মিয়া টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর থানার সলিমনগর গ্রামের মাহমুদুল হোসেনের ছেলে। বর্তমানে তিনি চাঁদপুর শহরের গুনরাজদি এলাকায় বিয়ে করে বসবাস করছেন।

রোমন মিয়া জানান,১৯৯০সালের আগে বড় ভাইয়ের সাথে তিনি চাঁদপুরে আসেন।বোনকে চাঁদপুরে বিয়ে দেন। সেই সুবাদে চাঁদপুরে আসা যাওয়া তার বেশি। ২০১১সালে বিয়ে করে বসবাস শুরু তার। ১৯৯৯সালে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করেন।২০০৪সালে কুয়েত চলে যান। ৩/৪বছর প্রবাশে থেকে দেশে ফিরে আসেন।বিয়ের পর থেকে রোমন মিয়া চাঁদপুর শহরে কাপড়ের দোকানে চাকুরি করাবস্হায় করোনার জন্য তা বন্ধ হয়ে যায়। কিছুদিন চেয়ারম্যান ঘাট এলাকায় ফটোকপির দোকানে চাকুরি করেন।

চলতি বছরের ১ জুন তারিখে চাঁদপুর মেডিক্যালের মালিক কবির হোসেনের মাধ্যমে এ মার্কেটের নৈশ প্রহরির চাকুরি নেন। নকিয়া টেলি কমের চুরির বিষয়ে রোমন মিয়া বলেন, সকাল হলে আমি প্রতিদিনের মতো জাতীয় ও স্হানীয় পত্রিকা কিনতে কোট স্টেশনে যাই ৫/৭ মিনিট পর ফিরে আসি, দেখি ৫/৬ জন অপরিচিত লোক মার্কেটের ভেতর থেকে বের হয়ে যাচ্ছে।এমন সময় কাজী মহিবুল্লা আসেন। তখন তাকে বিষয়টি বলি, তিনি সহ মার্কেটের দোকানের তালা চেক করি। তখন দেখি মোবারক ভাইয়ের দোকানের একটি সাটারের তালা নেই। তখন সাটার উঠাতেই খোলা দেখি। আমি তখন সাধনা ওষধালয়ের সামনে গিয়ে দাড়াই দেখি চোরের দল পালবাজার এলাকা থেকে ফিরে আসছে। তারা নতুন বাজারের দিকে যাচ্ছে, আমি হাটা শুরু করি।

বি এন পি অফিসের সামনে গেলে ডাকাত বলে চিৎকার দিলে ও কোনো লোক সহায়তার জন্য এগিয়ে আসেনি।২জন দৌড়ে নতুন বাজারের দিকে, ২ জন দৌড়ে মেথা রোডের দিকে ১ জন আদালত পাড়ার দিকে চলে যায়।আমি একা ভাবলাম মেথা রোডে যারা গেছে রাস্তা একটা। আমি ও তাদের পিছন দৌড়াতে থাকি ডাকাত বলতে বলতে। আল আমিন স্কুলের সামনে গিয়ে একজন কে ধরে ফেলি।

ধরার আগে সে ও আমার সাথে ডাকাত বলে চিৎকার করতে থাকে। তখন তাকে কৌশল করে আয়ত্বে নিয়ে আসি। শাটের কলারে ধরে ফেলি। সে শাটের বুতাম খুলে পালানোর প্রস্তুতি নিল গলা চেপে ধরি। এর মধ্যে কবির ভাইকে মোবাইলে চোরধরার বিষয়টি অবগত করি। তিনি চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সামনে ছুটে আসেন। তখন তাবে ধরে মার্কেটের সামনে নিয়ে আসি। নৈশ প্রহরি রোমন যে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে সে জন্য তাকে পুরস্কৃত করা হোক।রোমন মিয়া ব্যাক্তিগত জীবনে দু ‘পুত্র সন্তানের জনক। তাছাড়া ৪ ভাই ৪ বোনের মধ্যে সে সবার ছোট।