চাঁদপুর শহরে একের পর এক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চুরি

মোহাম্মদ বিপ্লব সরকার, চাঁদপুর প্রতিনিধিঃ  চাঁদপুর শহরে ইদানিং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনা ঘটেই চলছে।চলতি মাসে শহরের কালি বাড়ি মোড় এলাকায় ৩ টি প্রতিষ্ঠানে দুধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে।আর এসব চুরির ঘটনা যারাই ঘটাচ্ছে তারা আন্তঃ জেলা চোর চক্রের সদস্য।

২৭আগস্ট বৃহস্পতিবার ভোর রাত ৫টায় চাঁদপুর শহরের কালিবাড়ি মোড় এলাকার চাঁদপুর হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টের পেছনের মোবারক সিকদারের মালিকানাধীন নকিয়া টেলিকম নামক মোবাইল রিচার্জ দোকানে অভিনব কায়দায় সাটারের তালা ভেঙ্গে দুধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে।মার্কেটের নৈশ প্রহরি চুরির বিষয়টি আচ করতে পেরে চোরের দলের নকিয়া টেলিকমের সত্ত্বাধিকারি মোবারক হোসেন শিকদার জানান, সকালে বিভিন্ন কোম্পানীর প্রতিনিধিদের এজেন্সির টাকা দেয়ার জন্য দোকানে রাখা নগদ প্রায় ৬০ হাজার টাকা, ২টি ফিঙ্গার প্রিন্টের ডিভাইডেড মেশিন ও প্রায় ৩০ হাজার টাকার বিভিন্ন ধরনের রিচার্জ ও এম বি কার্ড নিয়ে যায়।তিনি আরো জানান,২০১৯ সালের ১৮ নভেম্বর একই ভাবে চোরের দল কাপড় দিয়ে দেয়াল সৃস্টি করে সাটারের তালা কেটে চোর দোকানের ভেতর প্রকেশ করে। বৃহস্পতিবার ভোর ৫ টা ১০মিনিটে ভেতরে প্রবেশ করে ৫/৬ মিনিটের মধ্যেই ওয়াড্রপের ও ক্যাশের তালা ভেঙ্গে মালামাল ও নগদ অর্থ লুটে নেয়।একই রাতে শহরের শহিদ মুক্তিযুদ্ধা সড়কের মুক্তিযুদ্ধা মার্কেটের সু কর্ণারের পাশের এন্ডডুয়েড মোবাইল সেন্টার নামক দোকানের সাটারের তালা ভেঙ্গে নগদ ২০ হাজার টাকা ও বেশ কয়েকটি দামী মোবাইল সেট নিয়ে যায়।

কালিবাড়ি মোড় এলাকার চাঁদপুর মেডিক্যাল হলের গলিটিতে নিজস্ব উদ্যোগে নৈশ প্রহরি রাখা হয়। সকালে ঐ নৈশ প্রহরি দেখতে পান অপরিচিত কয়েকজন ব্যাক্তি গলি থেকে বের হয়ে যাচ্ছে।তিনি নকিয়া টেলিকমের সাটারের তালা নেই। তখন বিষয়টি সার্কেটের লোকদের জানান।পরে সে জে এম সেন গুপ্ত রোডস্হ জেলা বি এন পি কার্যালয়ের সামনে গিয়ে ডাকাত বলে চিৎকার করে এক জনবে ধরে ফেলেন। এটা নৈশ প্রহরির সাহসিকতার বহিঃ প্রকাশ।নকিয়া টেলিকম ও চাঁদপুর মেডিক্যালের সি সি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে দেখা যায় চাঁদর দিয়ে দেয়াল তৈরি করে চোরের দল দোকানের সাটারের তালা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে। কি ভাবে ক্যাশ ও ওয়াড্রপ ভেঙ্গে টাকা ও অন্যান্য মালামাল নিয়ে যাচ্ছে।মাত্র ৫/৬ মিনিটের মতো চুরির ঘটনা শেষ করে চলে যাচ্ছে।

আটক কচুয়া উপজেলার সাচারের হাতির পুল গ্রামের পিতা মৃতঃ ফপন মিয়া ছেলে জনি মিয়া (২৮) কে নৈশ প্রহরি আটক করেন। চাঁপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ নাসিম উদ্দিন কে অবগত করা হলে তাৎক্ষনিক উপ পরিদর্শক রাশেদুজ্জামান ঘটনা স্হলে নৈশ প্রহরি কতৃক আটক চোর জনিকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
আটক জনি জানায়, তারা সংখ্যায় ছিল ৫ জন। বাকী ৪ জন কুমিল্লার সাশনগাছা রেলওয়ে স্টেশন এলাকার। এরা হলোঃ জনি, আজাদ,কামাল,আকাশ ওসুমন। চুরির সময় চাঁদর দিয়ে দেয়াল সৃস্টি করে সুমন নামের চোর চক্রের সদস্য।নকিয়া টেলিকমের ভেতরে প্রবেশ করে আজাদ।বাইরে পাহাড়ায় ছিল জনি, কামাল ও আকাশ। কিন্তু সি সি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায় বাইরে আরো ৭ জন ঘুরা ঘুরি করে। জনি বাকিদের চিনে না বলে জানায়।
চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ নাসিম উদ্দিন ঘটনাস্হল সরজমিনে পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, আটক চোর জনি কে আহতবস্হায় চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।এরা আন্তঃ জেলা চোর চক্রের সদস্য। এরা দেশের বিভিন্ন জেলায় এ ধরনের চুরি করে থাকে।এরা বৃহত্তর কুমিল্লার আন্তঃ জেলা চোর। আমরা এদের কে আইনের আওয়তায় আনবো।

উপ পরিদর্শক রাশেদুজ্জামান বলেন, তারা সংখ্যায় ৫ জন ছিল বলে প্রাথমিক জিঞ্জাসাবাদে বলেছে।তারা বুধবার রাত ১১টায় কুমিল্লার বিশ্ব রোড এলাকা থেকে হলুদ রং এর বাস যোগে রাত ২টায় চাঁদপুর এসে পৌছায়।ভোর রাত ৫টা থেকে শহরে চুরির ঘটনা ঘটায়। আমরা আটক জনির মাধ্যমে বাকী আসামীদের ধরে আইনের আওয়তায় আনবো।

উল্লেখ্য, চলতি মাসের ৯ আগস্ট রাত আড়াইটায় কালিবাড়ি চার রাস্তা মোড়ের দুদু মিয়ার মালিকানাধীন দোলা ফার্মেসীর টিনের চাল কেটে চোর দোকানে প্রবেশ করে।প্রায় আড়াই লাখ টাকার মূল্যের দামী ওষধ নিয়ে যায়। ঐ চুরির ঘটনার রেশ না কাটতেই মাত্র ১৮ দিনের মাথায় একই এলাকায় নকিয়া মোবাইলের দোকানে এ ধরনের দুধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটলো।