চাঁদপুর লঞ্চ ঘাটে যাত্রীদের নিরাপত্তা দিতে বন্দর সমন্বয় কমিটির কর্মতৎপরতা

মোহাম্মদ বিপ্লব সরকার, চাঁদপুর প্রতিনিধি: রাত পোহালেই পবিত্র ঈদুর আজহা। তাই পরিবারের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে নাড়ির টানে ফিরছে রাজধানীবাসী। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই চাঁদপুর লঞ্চ টার্মিনালে যাত্রীদের ভিড় লক্ষ করা গেছে।

এই দিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেলে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত যে কয়েকটি লঞ্চ রাজধানী সদরঘাট থেকে চাঁদপুরের উদ্দেশে ছেড়ে আসে, মহামারী করোনাভাইরাসের ভয়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এসব লঞ্চগুলো অনেকটাই যাত্রীতে ঠাঁসা ছিলো। তবে কষ্ট হলেও এই নিয়ে যাত্রীরা তাদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। শুধু রাজধানী থেকেই নয়, দেশের অন্যান্য স্থান হতেও লঞ্চ, স্টিমার, রেল ও সড়কপথে মানুষজন গ্রামের বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছে।

এতে বাড়তি যাত্রীর চাপে কিছুটা দুর্ভোগ হলেও চাঁদপুরে পৌঁছে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন তারা। এদিকে চাঁদপুর লঞ্চ টার্মিনালে যাত্রীদের নিরাপত্তা দিতে বন্দর সমন্বয় কমিটির কর্মতৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। ঈদে যাত্রীদের সেবা প্রদানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে একাধিক ভার্চুয়াল সভা করা হয়েছে। এতে জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, নৌ-পুলিশ, কোস্ট গার্ড, আনসার, রোভার স্টাউট, পৌরসভা, বিআইডাব্লিউটিএ এবং লঞ্চ মালিক প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি যৌথ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে নৌ পরিবহন মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র সচিব মো.নজরুল ইসলাম, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছামিউল ইসলাম, বন্দর কর্মকর্তা কায়সারুল ইসলাম চাঁদপুর লঞ্চ টার্মিনাল পরিদর্শন করেন। এসময় তারা যাত্রী, লঞ্চ মালিক প্রতিনিধি, স্কাউট সদস্য এবং সিএনজি অটোরিকশা চালকদের সাথে কথা বলেন। এসময় নৌ থানার ওসি মো. জাহেদুল ইসলাম, মডেল থানার এসআই পলাশ বড়ুয়াসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

নৌ পরিবহন মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র সচিব মো.নজরুল ইসলাম বলেন, লঞ্চঘাটে সবাইকে স্বাস্থবিধী মেনে চলতে হবে। মাস্ক ছাড়া কাউকে লঞ্চঘাটে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না। ঘাটে যাত্রীদের হয়রানি করতে দেয়া হবে না। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছামিউল ইসলাম লঞ্চ চালক ও মালিক প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে বলেন, লঞ্চগুলোতে স্বাস্থবিধী মেনে যাত্রি উঠাতে হবে।

কোনো অবস্থাতেই অতিরিক্ত যাত্রী নিতে দেয়া হবে না। মাস্কাছাড়া যাত্রি লঞ্চে তুলবেন না। যাত্রীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরো বলেন, যেকোনো ধরনের হয়রানি, চাঁদাবাজি এবং বাড়তি ভাড়ার অভিযোগ উঠলে আমাদের জানাবেন, আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।

চাঁদপুর বন্দর কর্মকর্তা কায়সারুল ইসলাম বলেন, কোনো অবস্থাতেই লঞ্চঘাটে অনিয়ম মেনে নেয়া হবে না। টার্মিনালে কোনো ভ্রাম্যমাণ হকার বসতে পারবে না। অবৈধ ব্যবস্যা প্রতিষ্ঠান চলতে দেয়া হবে না। তিনি আরো বলেন, যাত্রী এবং লঞ্চ চালকদের নিজেদের প্রয়োজনেই স্বাস্থবিধী মেনে চলা উচিত।