চাঁদপুর জেলা ও দায়রা জজের খাস কামরায় চুরি

মোহাম্মদ বিপ্লব সরকার, চাঁদপুর জেলা প্রতিনিধি: চাঁদপুরে জেলা ও দায়রা জজ ভবনের খাস কামরায় চুরির ঘটনায় ২ জনকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা আদালত ভবন এলাকায় রাতে নৈশ প্রহরীর দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।

৮ মে রোববার দুপুরে তাদেরকে জিঙ্গাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ। সরজমিনে আদালত প্রাঙ্গণে গিয়ে জানা যায়, জজের খাস কামরার এমলিফায়ার, সিসিটিভির মনিটর, কম্পিউটার সিপিইউ, টিসু বক্স, চমশা, মাইক সেট, ফ্লাক্স, গাড়ির কাগজসহ বেশ কয়েকটি মাল্টিফ্লাগ বস্তা ভর্তি অবস্থায় কোর্ট এলাকার পার্শ্ববর্তী একটি ডোবা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া জেলা জজের ব্যবহৃত ব্যক্তিগত আলমিরা ভেঙেও জামা-কাপড় ও কাগজপত্র ফ্লোরে পরেছিলো। ধারণা করা হচ্ছে, যে বা যারাই এই কাজ করেছে তারা দীর্ঘ সময় জেলা জজের খাস কামরায় ও এজলাসে অবস্থান করেছে। তবে আদালত এলাকায় দায়িত্বরত দুই নৈশ প্রহরী বিষয়টি টের পায়নি। পুলিশ তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।

চাঁদপুর জেলা জজ আদালতের নাজির নাদিম খান বলেন, সকাল ৮টার পরে জেলা জজের অফিস সহায়ক বাসু দরজা খুলতে এসে দেখে জজের খাস কামরার দরজার খোলা দেখেন। পরে তিনি দ্রুত আমাকে বিষয়টি অবগত করেন। পরবর্তীতে পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত রায়সহ চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশ, সিআইডি ও পিপিআইসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করেন।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা আদালতের ঊর্ধ্বতন এক কর্তকর্তা জানান, জজ সাহেবের খাস কামরা থেকে এমলিফায়ার, সিসিটিভির মনিটর, কম্পিউটার সিপিও, টিসু বক্স, চমশা, মাইক সেট, ফ্লাক্স, গাড়ির কাগজ, বেশ কয়েকটি মালটিফ্লাগ চোরের দল নিয়ে যায়। সে জিনিসপত্রগুলো দু’টো বস্তায় ভরে পাশে একটি ডোবায় ফেলে যায়। পরে পুলিশ, সিআইডি ও পিপিআই এর টিম ঘটনাস্থলে এসে ফেলে যাওয়া জিনিসিগুলো পর্যবেক্ষণ করে।

এ বিষয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানার ওসি আবদুর রশিদ বলেন,পুলিশ সিসি টিভির ফুটেজ দেখছে। বিচারকরকরা আমাদের জানিয়েছেন যা যা খোয়া গেছে সেসব কিছুই উনারা পেয়েছেন। তারপরও আরও কিছু আছে কিনা তা খতিয়ে দেখছেন। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো প্রকারের এজাহার দাখিল হয়নি।

এ ঘটনায় চাঁদপুর জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ বলেন, কোর্টের বাইরে থেকে কিছু মালামাল আমরা উদ্ধার করেছি। চোর ধরার জন্য আমাদের পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রেয়েছে। এ ঘটনায় রাতে পাহারায় থাকা দুই নৈশ প্রহরীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।