চাঁদপুর অযাচক আশ্রমে দুইদিনব্যাপী ভাতৃ-দ্বিতীয়া অখন্ড সম্মেলন অনুষ্ঠিত

মোহাম্মদ বিপ্লব সরকার, চাঁদপুর প্রতিনিধি: শ্রী শ্রীস্বামী স্বামী স্বরূপানন্দ পরমহংসদেবের পুণ্য জন্মস্থান চাঁদপুর অযাচক আশ্রম প্রাঙ্গনে দুই দিনব্যাপী ভাতৃ-দ্বিতিয়া অখন্ড সম্মেলন অনুষ্ঠীত হয়েছে । চাঁদপুর অযাচক আশ্রম পরিচালনা পরিষদ, চাঁদপুর অযাচক আশ্রম বোর্ড-অব-ট্রাস্টি এবং বাংলাদেশ সম্মিলিত অখন্ড সংগঠনের আয়োজনে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া এই সম্মেলন শুক্রবার শেষ হয়েছে। দুই দিনব্যাপী এই কর্মসূচির প্রথম দিন বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটায় ভাতৃ-দ্বিতিয়া অখন্ড সম্মেলন উপলক্ষে সাংগঠনিক অধিবেশন শুরু হয়।

২০ নভেম্বর শুক্রবার দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি সকাল সাড়ে ৮টায় ভাতৃ-দ্বিতিয়া অখন্ড সম্মেলন উপলক্ষে বিশেষ সমবেত উপাসনা অনুষ্ঠীত হয়।  সকাল ১১ টায় ভাতৃ-দ্বিতীয়া অখন্ড সম্মেলনের শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র অ্যাডঃ জিল্লুর রহমান জুয়েল। সরকারের নির্দেশিত স্বাস্থ্য বিধি মেনে ভক্তরা অখণ্ড সম্মেলনে ভক্তরা অংশ গ্রহন করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র অ্যাডঃ জিল্লুর রহমান জুয়েল। তিনি বক্তব্যে বলেন, জগতে আমরা সকলেই বোধ। ধর্মে কোনো বোধ হয়না। মানবতাই হলো সেই ভাতৃত্ব বোধ। যার যার ধর্মে সেই বোধ আছে।আমি অন্য ধর্মের হলেও স্বরূপানন্দের বানী গুলো পড়তাম। তিনি চাঁদপুরে জম্মগ্রহন করেছেন। চাঁদপুরে এমন এক মহা পুরুষের জম্ম হওয়ায় আমরা গর্ববোধ করছি। শিক্ষা মন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি শুরু থেকেই এ মন্দিরের জন্য কাজ করছেন। এ ভূমি রক্ষায় আইনজীবী নিয়োগ করবেন। যদি কোনো সমস্যা দেখেন তাৎক্ষনিক আমাকে বলবেন। আমি চাই স্বরূপানন্দের জম্ম ভূমিতে মন্দির প্রতিষ্ঠা করা হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, জেলা পুজা উদ্ যাপন পরিষদের সভাপতি সুভাষ চন্দ্র রায়, সাধারন সম্পাদক তমাল কুমার ঘোষ, জেলা জম্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সভাপতি গোপাল সাহা,সদর উপজেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সাধারন সম্পাদক লক্ষণ চন্দ্র সূত্রধর, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খিস্ট্রান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অ্যাডঃ বিণয় ভূষন মজুমদার।, স্বাগত বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর অযাচক আশ্রম-বোর্ড অব ট্রাস্টের সচিব মৃণাল কান্তি দাস, বাংলাদেশ সম্মিলিত অখণ্ড সংগঠনের সদস্য সচিব সুজিত কুমার দে, পূর্ণ জন্মস্থান চাঁদপুর অযাচক আশ্রম পরিচালনা পরিষদের সচিব তাপস কুমার দাস,বোর্ড অব স্ট্রাস্টের সদস্য গৌতম সাহা, সভাপ্রধান রাধেশ্যাম কুড়ি ফরিদগঞ্জ ডিগ্রী কলেজ। সঞ্চালনায় ছিলেন বোর্ড অব স্ট্রাস্টের সদস্য দুলাল দাস। কোলকাতা থেকে মোবাইলে বক্তব্য রাখেন দাদামুনি তপন ব্রক্ষ্মচারী। এ সময় উপস্হিত ছিলেন ২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মালেক শেখ, ১০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইউনুস শোয়েব।

অন্যান্য বক্তারা বলেন, ১০৫ বছর আগে শ্রী শ্রী স্বামী স্বরূপানন্দ পরমহংসদেব এমন একটি দিন গঠন করতেই চরিত্র গঠণ আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন ঘোড়ামারার মাঠে। আজকে আমরা এখানে আনন্দের মাঝে ভ্রাতৃ দ্বিতীয়া অখণ্ড সম্মেলন হচ্ছে। কিন্তু যিনি এ মন্দিরের জন্য কাজ করে গেছেন তিনি হলেন অধ্যক্ষ কবিরাজ সুখরঞ্জন ব্রক্ষ্মচারী। তিনি আজ আমাদের মাঝে নেই।তিনি মানব সেবায় ব্রত ছিলেন। এখানে দেশ বিদেশের বহু ভক্ত এসেছে। একটি কুচক্রি মহল স্বরূপানদের পূর্ন জম্মস্হান দখলের পায়তারা করছে। বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এমপি অবগত আছেন। আমাদের চাঁদপুরের সম্পদ, অন্য জেলাকে কিছুতেই দেয়া যাবেনা। আজকে যে ভাতৃ দ্বিতীয়া সম্মেলন করা হচ্ছে সেই সময় আমরা পৌর মেয়রের কাছে আহবান করবো স্বরূপানন্দের মন্দির যেন এ পূর্ন জম্মস্হানে যেন করা হয়।ভাই বোন কেই ভাতৃ দ্বিতীয়া বলে। সকলের সাথে ভাতৃত্ব বন্ধন। স্বামী স্বরূপানন্দ পরমহংসদেব সবার সথে বন্ধুত্ব গঠন করেছেন তাই তার পূর্ন জম্ম ভূমিতে এ সম্মেলন করা হচ্ছে। এখানে ৫/৭টি ঘর ছিল ভাষানদের। গাঙ্গুলী পাড়ায় স্বামী স্বরূপানন্দের জম্মস্হান। রোকেয়া বেগম দখলে ছিল। তার কাছ থেকে জায়গা উদ্ধার করা হলো। জেলা প্রশাসক ছিলেন খালিদ আনোয়ার। তিনি এন ডি সি ছিলেন বিমল সর্বাত্রক সহযোগীতা করার জন্য নির্দেশ দেন ।

রহিমপুরে মন্দির কেন করা হবে, চাঁদপুরের জম্মভূমিতে মন্দির করা হবে, সেই মতে মন্দির করার কাজ শুরু।ঐ চক্রটি এখন আবার রহিমা নগরে মন্দির করার পায়তারা করছে। অখণ্ডা সংগীতা পাঠ করেন অরুন কুমার ঘোষ, অখণ্ড সংগীত পরিবেশন করেন মানিক রায়।