চাঁদপুরে মারজানার পর এখন তার ভাই মারুফকে হত্যার চেষ্ঠার অভিযোগ

মোহাম্মদ বিপ্লব সরকার, চাঁদপুর প্রতিনিধি: ছোটবোন মারজানা যখন তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী, তখন একই বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়তো বড় ভাই মারুফ। ২০১৭ সালের ২২ ডিসেম্বর শিশু মারজানাকে ধর্ষণ শেষে গলা টিপে হত্যা করে একই গ্রামের একদল বখাটে যুবক। এলাকার প্রভাবশালীদের সহযোগীতায় জ্বীনে মেরেছে বলে দাফন করা হয় শিশুটিকে। পরে এই ঘটনায় শিশুটির বাবা মোকশেদ মামলা করেন আদালতে।

গত ৭ জুন চাঁদপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ আলোচিত এই মামলার ৩নং আসামীকে আটক করেন। হতভাগা মারজানার কিশোর ভাই মারুফের দোষ কি । গত রবিবার রাতে এশার নামাজ পড়তে মসজিদে যাবার পথে আটক আসামীর পরিবারের লোকজন মারুফকে ধরে নিয়ে বেদম প্রহার করে। হাত ভেঙ্গে দেবার চেষ্টা করে। তার গলা চেপে ধরে বলে ‘আমাগো ছেলের যদি ফাঁসি হয়, তইলে তোরে আমরা মাইরা ফালামু’। এক পর্যায়ে ছোট্ট মারুফ ওদের হাত থেকে কোনোরকম নিজেকে ছাড়িয়ে দৌঁড়ে বাড়িতে আসতে সক্ষম হয়।

বিষয়টি তাৎক্ষনাত চাঁদপরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হলে দ্রুত ব্যাবস্থা নেয় প্রশাসন।

মারুফ এখন ৯ম শ্রেণীতে পড়ে। বাবা-মা ছোট্ট শিশু মারজানার খুনিদের ভয়ে ১বছর আগেই ছেলেকে দূরের গ্রামের স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিয়েছেন। সেখানে এক আত্মীয়র বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করে মারুফ। করোনা পরিস্থিতিতে স্কুল বন্ধ হওয়ায় মারুফ এখন বাড়িতেই থাকে। তাই অসহায় বাবা মায়ের ভয়, মেয়ের মতো ছেলেকেও না জানি খুন করে নরপশু হায়নার দল।

কিশোর মারুফ কান্নামাখা কণ্ঠে বলে, আমার ছোট্ট বোনেরনেরে ওরা খারাপ কাজ কইরা মাইরা ফালাইছে। দরকার হইলে আমারেও মাইরা ফেলুক, তবুও আমি আমার বোনের হত্যাকারীদের ফাঁসিচাই।