চাঁদপুরে মাছের বাজার ও কাঁচা বাজার খোলা মাঠে বসার সিদ্ধান্ত

 মোহাম্মদ বিপ্লব সরকার, চাঁদপুর প্রতিনিধি: সারা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করছে মরণব্যাধি করোনাভাইরাস। প্রতিদিনই আক্রান্তের সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। এর ফলে এই মরণব্যাধি করনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে সকল প্রকার গণজামায়াত নিষিদ্ধ করেছে সরকার। চাঁদপুরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঔষুধের দোকান ছাড়া সকল প্রকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

তবে মাছের বাজার ও কাঁচা বাজারগুলোতে এই নির্দেশনা কিছুতেই বাস্তবায়ন করা যাচ্ছিল না। এসব হাট-বাজারগুলোতে প্রতিদিন হাজার হাজার লোকের সমাগম ঘটছে। ফলে এই স্থান থেকে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের সুযোগ রয়েছে বলে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রশ্ন উঠেছে। এটা করে জেলার সচেতন মহল থেকে দাবি ওঠে চাঁদপুর শহরের প্রধান কাঁচাবাজার গুলো পার্শ্ববর্তী খোলা মাঠে স্থানান্তরিত করার জন্য।

১৯ এপ্রিল রোববার চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সংক্রান্ত বিশেষ সভা অনু্ষ্ঠিত হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামানের সভাপতিত্বে সভায় এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্যে চাঁদপুর চেম্বার, পুলিশ বিভাগ, পৌরসভার সচিব, জেলা বাজার কর্মকর্তা, ৫ টি বাজারের সভাপতি/সেক্রেটারী ও ইজারাদারগণ উপস্থিত ছিলেন। সচেতন মহলের এই দাবির প্রেক্ষিতে চাঁদপুর সদর আসনের এমপি ও শিক্ষামন্ত্রী, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং বাজার ব্যাবসায়ীদের সম্মিলিত সিদ্ধান্তে অবশেষে চাঁদপুর শহরের বেশ কয়েকটি প্রধান হাট-বাজার পার্শ্ববর্তী মাঠে স্থানান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী কাল সোমবার থেকে চাঁদপুর শহরের বাবুরহাট বাজার, ওয়ারলেছ বাজার, বিপনিবাগ বাজার,পাল বাজার ও নতুন বাজারের কাঁচামাল, মাছ ও মাংসের দোকানগুলো যথাক্রমে বাবুরহাট কলেজ মাঠ, ওয়ারলেছ-গাছতলা ব্রীজ রাস্তার দুপাশে, চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠ, পৌর ঈদগাহ মাঠ, রাস্তার দুপাশে (পর্যাপ্ত দূরত্ব বজায় রেখে) বসবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এছাড়াও শহরের অন্যান্য স্থানে কোন কাঁচাবাজার বসতে পারবেনা, ভ্রাম্যমান দোকানগুলোকেও ঐ নির্ধারিত স্থানে বসতে হবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। চাঁদপুর জেলা প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে পৌরবাসীর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করে।