চাঁদপুরে গভীর রাতে নতুন আরো ৭ জন করোনায় আক্রান্ত

মোহাম্মদ বিপ্লব সরকার, চাঁদপুর প্রতিনিধি: চাঁদপুর জেলায় নতুন করে সোমবার গভীর রাতে আসা রিপোটে জানা গেছে, আরো ২৭ জনের করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট এসেছে। এর মধ্যে সোমবার বিকেলে আক্রান্ত ৩জন ছাড়াও সাত জনের রিপোর্টই পজেটিভ। আগের ২২জনসহ এখন আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯ জন। করোনা উপসর্গ নিয়ে সোমবার হাজীগঞ্জে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত জেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ৪জন। ৪ জনেরই মৃত্যুর পরে করোনায় আক্রান্তের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন স্বাস্থ্য বিভাগ।

এদিকে হাজীগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের মৈশাইদ গ্রামের বাবুল গাজীর স্ত্রী সোমবার বিকেলে করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে হাজীগঞ্জ ভিআইপি হসপিটালে মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ওই নারীর করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করেছেন। হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এস এম শোয়েব আহমেদ চিশতি বলেন, করোনা সন্দেহে ওই নারীর নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। রিপোর্ট আসলেই বুঝা যাবে তিনি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন কিনা।

এর মধ্যে শুক্রবার (১ মে) রাতে চাঁদপুর সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে মারা যাওয়া হাজীগঞ্জের রাজারগাঁও গ্রামের গৃহবধূ ফাতেমা বেগম (৪০) রয়েছেন। তিনিসহ মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪জন।

সোমবার বিকেল বেলা পর্যন্ত ৭জনের রিপোট আসে আইইডিসিআর থেকে। এদের মধ্যে ৩জন পজেটিভ ও ৪জনের রিপোট আসে নেগেটিভ। সোমবার গভীর রাতে নতুন করে আরও ২৭ জনের রিপোর্ট আসে। এর মধ্যে নতুন সাতজনের আক্রান্ত নিশ্চিত হয় স্বাস্থ্য বিভাগ। দুইজন আগের পজেটিভ ছিলো। বাকীদের রিপোর্ট নেগেটিভ। নতুন আক্রান্ত অন্যদের মধ্যে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাও রয়েছে বলে জানা গেছে। চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. সুজাউদ্দৌলা রুবেল গনমাধ্যমকে জানান, মঙ্গলবার গভীর রাতে চাঁদপুরের আরো ২৭জনের নমুনা টেস্টের রিপোর্ট পাওয়া গেছে। ৯জনের রিপোর্ট করোনা পজেটিভ এসেছে। তবে এদের মধ্যে ২জন আগেই পজেটিভ ছিলেন। অর্থাৎ নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ৭জন। তাই এখন মোট আক্রান্তের সংখ্যা হবে ২৯জন। পূর্বে আক্রান্ত ১৯ জনের মধ্যে সুস্থ্য হয়েছে ১০জন।

তিনি জানান, ১ মে সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে মারা যাওয়া ফাতেমা বেগমের রিপোর্টও উল্লেখিত ৭জনের মধ্যে রয়েছে। তাই চাঁদপুরে করোনায় আক্রান্তে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪জন হয়েছে।

ডা. রুবেল আরো জানান, আগে আক্রান্ত যে ২জনের রিপোর্ট পুনরায় পজেটিভ এসেছে। তারা হলেন-চাঁদপুর সদরের কামরাঙ্গা গ্রামে করোনায় মারা যাওয়া ফয়সালের শালিকা এবং অপরজন সেই ব্যক্তি যে ঢাকায় শনাক্ত হয়ে চাঁদপুর এসে সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ড থেকে পালিয়েছিল। পরে পুলিশের সহযোগিতায় তাকে ফরিদগঞ্জের বাড়ি থেকে উদ্ধার করে পুনরায় সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার সকালে নতুন আক্রান্তদের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে সিভিল সার্জন অফিস থেকে। উল্লেখ্য, সোমবার বিকেল পর্যন্ত চাঁদপুর থেকে প্রেরিত করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট অপেক্ষমাণ ছিলো ৮৯ জনের। ২৭জনের রিপোর্ট চলে আসায় এখন অপেক্ষমাণ রয়েছে ৬২জনের।