চাঁদপুরে করোনা ঝুঁকি মাথায় নিয়েই লঞ্চযাত্রা; যাত্রীদের উপচে পরা ভীড়

 মোহাম্মদ বিপ্লব সরকার, চাঁদপুর প্রতিনিধি: করোনা ঝুঁকি মাথায় নিয়েই যাত্রা করছেন যাত্রীরা। সকালে চাঁদপুর লঞ্চঘাটে যাত্রীদের মাঝে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা গেলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে তা রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে যাত্রী সংখ্যা, উপেক্ষিত হয়েছে সামাজিক দূরত্ব। এতে করে করোনা সংক্রমনের ঝুঁকি মাথায় রেখেই গন্তব্যে রওনা হচ্ছে যাত্রীরা। লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বহন ও স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হওয়ায় রোববার চাঁদপুর নদী বন্দর কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।
তার স্থলে নতুন কর্মকর্তা হিসাবে আবুল বাশার মজুমদারকে তাৎক্ষনিক নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু কর্মকর্তা পরিবর্তন হলেও লঞ্চঘাটে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখায় কিঞ্চিত পরিবর্তন আসেনি। চাঁদপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলার যাত্রীরা চাঁদপুর লঞ্চঘাট ব্যবহার করে রাজধানী ঢাকায় যাত্রা করায় ভিড় বৃদ্ধি পেয়েছে কয়েকগুণ। সকাল ৬টায় চাঁদপুর ঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় যাত্রীবাহী লঞ্চ এমভি রফ রফ।৯১৫যাত্রির স্হলে ৪৩০জন যাত্রি নিয়ে ছেড়ে যায়।
সকাল ৭টা ২০মিনিটে ৭৭৭জন যাত্রীর পরিবর্তে ৪৩০জনযাত্রী এমভি সোনার তরী ও ৭টা ৪০মিনিটে ৭১৫ জন যাত্রির পপরিবর্তে ৩৬৫জন যাত্রি নিয়ে ছেড়ে যায় এমভি ঈগল ৭।সকাল ৯টা ৪৫মিনিটে ৭৭৪ জন যাত্রির পরিবর্তে ৪০৯ জন যাত্রি নিয়ে ছেড়ে যায় প্রিন্স অব রাসেল ৩।সকাল সাড়ে ১০টায় বোগদাদিয়া ১৩ লঞ্চটি ৬৫০জন যাত্রির পরিবর্তে ৪২৫ জন যাত্রি নিয়ে ছেড়ে যায়।সকাল ১১টায় রফ রফ ৭ লঞ্চটি ৭৭৯জন যাত্রির পরিবর্তে ৪২০জন যাত্রী নিয়ে ছেড়ে যায়।সকাল সোয়া ১১টায় সোনার তরী ৪লঞ্চটি ৩৮৪জন যাত্রির পরিবর্তে ২২০জন যাত্রি নিয়ে ছেড়ে যায়।দুপুর ১২টায় ইমাম হাসান লঞ্চ ৫০৫জন যাত্রির স্হলে ১৮৪জন যাত্রী, সাড়ে ১২টায় সোনার তরী ২লঞ্চ ৫২৯ জন যাত্রির স্হলে ৩৫০জন ও সোয়া ১টায় প্রিন্স সাকিন ৩১০ জন যাত্রির পরিবর্তে ২৫০জন যাত্রি নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে চাঁদপুর ঘাট ত্যাগ করে।
এসকল লঞ্চগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রী পরিবহন করতে সমর্থ হয় পুলিশ বিভাগ, প্রশাসন ও বন্দর কর্তৃপক্ষ। সামাজিক দূরত্ব বজায়ে রেখে পরিমিত যাত্রী নিয়ে লঞ্চগুলো ঢাকার উদ্দেশ্যে চাঁদপুর ঘাট থেকে ছেড়ে যায়। কিন্তু বেলা বাড়ার সাথে সাথেই পাল্টে যায় দৃশ্যপট। হাজার হাজার যাত্রীর উপস্থিতিতে কতৃপক্ষ কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে। সকালে যাত্রী নিরাপত্তায় জীবাণুনাশক স্প্রে প্রদান করা হলেও, পরবর্তীতে ঘাটে যাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় করোনাভাইরাস রোধে কোনো ধরনের জীবাণুনাশক ঔষধ স্প্রে বা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হয়নি।ঘাটে প্রবেশের টিকেট কাউন্টারের সামনে যাত্রিরা সামাজিক দূরত্ব বজায় ছিলনা।
ঘাটে দায়িত্ব পালনকারী নবনিযুক্ত বিআইডব্লিউটিএ- চাঁদপুর এর বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা আবুল বাশার মজুমদার বলেন, যাত্রীদের নিয়ন্ত্রণ করতে আমরা হিমশিম খাচ্ছি। লোকজন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে লঞ্চে উঠছে। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু ঘাটে প্রচুর পরিমাণে যাত্রী থাকায় আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাদেরকে কোন অবস্থাতেই কথা শুনানো যাচ্ছেনা তারপরও আমরা সচেতনতায় কাজ করে যাচ্ছি। রামগঞ্জের ঢাকাগামী যাত্রী সালাহ উদ্দিন বলেন,অনেক দিন পর গার্মেনস খোলা হয়েছে, আমাদের কাজে যোগদানের জন্য বলা হয়েছে। তাই বাধ্য হয়েই জীবিকার প্রয়োজনে ঢাকায় যেতে হচ্ছে। ঘাটে প্রচুর ভিড় থাকা সত্ত্বেও ভিড় ঠেলেই লঞ্চ উঠতে হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে কোনো ধরনের সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না। রায়পুর থেকে আসা আক্তার হোসেন নামের এক পোশাক শ্রমিক বলেন, আল্লাহ পাক ভাল জানে কপালে কি আছে। করোনা সংক্রমণ ঝুঁকি আছে যেনে ও পেটের খিদা মেটাতে হলে কাজে তো যাওয়াই লাগবে। চাঁদপুর নৌ থানার ওসি মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় আমরা কাজ করে যাচ্ছি। তবুও আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রীদের পরিবহনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এ দিকে সল্প সংখক যাত্রি নিয়ে ঢাকা থেকে চাঁদপুর ঘাটে আসা লঞ্চ গুলো হলোঃ ইমাম হাসান, সোনার তরী ৪,সোনার তরী ২,বোগদাদিয়া ৭,আবে জম জম ১ ও মিতালী ৪।