চাঁদপুরে করোনায় মৃত্যু বাড়ায় বিজ্ঞানীদের গবেষণা শুরু

মোহাম্মদ বিপ্লব সরকার, চাঁদপুর প্রতিনিধি: করোনায় চাঁদপুরে মৃত্যুহার বেড়ে যাবার কারণ অনুসন্ধানে নেমেছেন ড. সমীর কুমার সাহার নেতৃত্বে একদল বিজ্ঞানী। চাঁদপুর থেকে বেশকিছু নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলো নিয়ে চলছে পরীক্ষা নিরীক্ষা । এমনই নতুন গবেষণার কথা জানিয়েছেন দেশে করোনাভাইরাসের প্রথম জিন রহস্য আবিষ্কারক আন্তর্জাতিক অণুজীব বিজ্ঞানী ড. সমীর কুমার সাহা।

চাঁদপুর স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই জেলার বেশির ভাগ রোগীর নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয় ঢাকা চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনে। এমন পরিস্থিতিতে করোনায় মৃত এমন ১০ জনের নমুনা প্রতিষ্ঠানটির প্রধান ড. সমীর কুমার সাহার কাছে পাঠানো হয়েছে।

এই বিষয়ে শনিবার সিভিল সার্জন ডা. সাখাওয়াত উল্লাহ জানান, চাঁদপুরে মৃত্যুহার বেড়ে যাবার কথা শুনে ড. সমীর কুমার সাহা নিজেই উদ্যোগী হয়ে জটিল পরিস্থিতিতে মৃত্যু হওয়া এই ১০ জনের বিস্তারিত তথ্য এবং নমুনা চেয়ে নেন।

সিভিল সার্জন আরো জানান, প্রতিটি রোগীর মৃত্যুর জিনোম সিকোয়োন্সিং করাটা একটু সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। আর পুরো কাজটি সম্পন্ন হলে শুধু চাঁদপুরেই নয়, গোটা দেশে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর সঠিক কারণ এবং করোনাভাইরাস থেকে বাঁচার উপায়ও খুঁজে পাওয়া যাবে।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের জিন রহস্য আবিষ্কার সম্পর্কে চাইল্ড হেলথ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক, বিশ্বের অন্যতম অণুজীব বিজ্ঞানী ড. সমীর কুমার সাহা সাংবাদিকদের জানান, আমাদের দেশে যেভাবে এই সংক্রমণটি ছড়িয়েছে তার জিনোম সিকোয়েন্সিং করে করোনাভাইসের গতি প্রকৃতি, বৈশিষ্ট্য এবং ক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা অর্জন অনেকটা এগিয়েছে।

তিনি আরো জানান, রাজধানী ঢাকায় আক্রান্ত এবং মৃত্যুর কারণ এক রকম দেখালেও চট্টগ্রামে তার ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে। এখন চাঁদপুরের নমুনাও দেখা হচ্ছে। ফলে বাংলাদেশে এই ভাইরাসটি নির্মূলে কোন ধরণের ভ্যাকসিন বা প্রতিষেধক প্রয়োগ করতে হবে তা জানতে আক্রান্ত এবং মৃতদের এই নমুনা এবং তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

প্রসঙ্গত, এর আগে নিউমোনিয়া, মেনিনজাইটিজ এবং ডেঙ্গু‘র জিনোম সিকোয়েন্সিং করে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেন চিকিৎসা জগতের এই বিজ্ঞানী ও তার মেয়ে সেঁজুতি সাহা। এদের মধ্যে ড. সমীর কুমার সাহা ঢাকায় চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনে এবং তার মেয়ে ড. সেঁজুতি সাহা ইংল্যান্ডে গবেষণায় আছেন।

ড. সমীর কুমার সাহা বাবা-মায়ের সঙ্গে চাঁদপুরেই বড় হন। তার বাবা চন্দ্রকান্ত সাহা ছিলেন চাঁদপুরের একজন প্রসিদ্ধ ব্যবসায়ী এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। তার বাবার নামেই সংগীত নিকেতন, চাঁদপুর এর একটি ভবন নির্মাণ করে দেন ড. সমীর কুমার সাহা ও তার পরিবার। এমন তথ্য জানিয়েছেন, সংগঠনের অধ্যক্ষ স্বপন সেনগুপ্ত। তিনি আরো জানান, গুণী এবং বই পড়ুয়া বাবার সন্তান ড. সমীর কুমার সাহা, তার স্ত্রী সন্তান ছাড়াও এই পরিবারের আরো তিন ভাইবোন সবাই প্রতিষ্ঠিত।

প্রসঙ্গত, দেশে প্রথম বারের মতো ড. সমীর কুমার সাহা এবং তার মেয়ে ড. সেঁজুতি সাহা করেনোভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্সিং অর্থাৎ গতি প্রকৃতি, বৈশিষ্ট্য ও ক্ষমতা সম্পর্কে গবেষণা করে বেশ সফলতা অর্জন করেন। তবে এখন এর প্রভাবে মৃত্যুর কারণগুলোও চিহ্নিত এবং রোগীর জীবন বাঁচাতে ভ্যাকসিন বা প্রতিষেধক আবিষ্কারে আরো গবেষণা শুরু করেছেন বাবা এবং মেয়ে।