চাঁদপুরে এক রাতে ২ গদিঘরে চুরি : ব্যবসায়ীদের প্রতিবাদ সভা

 মোহাম্মদ বিপ্লব সরকার, চাঁদপুর প্রতিনিধি: চাঁদপুরের প্রধান ব্যাবসায়ীক এলাকা পুরাণবাজার চাউল পট্টিতে এক রাতে দুটি গদিঘরে চুরির ঘটনা ঘটেছে। ২৯ আগস্ট রাতে পট্টির হাজী নাজমুল হোসেন পাটওয়ারীর ইউনাইটেড ট্রেডাস এবং ফারুক হোসেনের বোগদায়ী ট্রেডাসে এই চুরির ঘটনা ঘটে। রাতের কোনো এক সময়ে চোরের দল দুটি প্রতিষ্ঠানের সিন্দুকের তালা ভেঙ্গে নগদ টাকা নিয়ে যায়।
এ দিকে শনিবার দুপুরে চুরির ঘটনায় সম্মিলিত ব্যবসায়ীরা প্রতিবাদ সভা করেছে। চাউল পট্টির প্রবীণ ব্যবসায়ী হাজী সিরাজুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে ও হাজী ইউনুছ মাঝি এন্ড সন্সের স্বত্তাধীকারী মোশারফ হোসেন মানিকের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন চাউল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী নাজমুল আলম পাটওয়ারী, আড়তদার পট্টির হাজী লিয়াকত পাটওয়ারী, ব্যবসায়ী আ. রব মল্লিক শানু, পরেশ মালাকার, শম্ভুনাথ সাহা, খুকু পাটওয়ারী, দুলাল কাজী, মুস্তফা মুন্সি, জিতু মিয়া, খোরশেদ আখন্দ, আনিস বেপারী, সেলিম খান, জাকির গাজী, খলিল বেপারী, স্বপ্নন পাটওয়ারী, শহিদ উল্লাহ শেখ।
ব্যবসায়ীরা বলেন, চাঁদপুর জেলার প্রধান ব্যবসায়ীক এলাকা পুরাণবাজার। এখানে বাজারের ব্যবসায়ীদের গদিঘরে প্রতিনিয়ত চুরির ঘটনা ঘটে চলেছে। গত ১ বছরে প্রায় ৮/১০টি ছোটবড় চুরি সংঘটিত হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো চোর আটক কিংবা রহস্য উদঘাটন হয়নি। বাজারের দায়িত্বে থাকা কমিউনিটি পুলিশে প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে ব্যবসায়ীরা বলেন, আমরা প্রায় আড়াইশ’ গদি ঘর থেকে কমিউনিটি পুলিশকে ১শ’ পাকা থেকে ২শ’ টাকা করে চাঁদা দেই। বেতন-বোনাস দেই। অথচ তারা কোনো প্রকার সঠিক দায়িত্ব পালন করে না। শুধু তাই নয়, কমিউনিটি পুলিশ সদস্যরা ট্রাকঘাট থেকে ট্রাক প্রতি ২০ থেকে ১শ’ টাকা, খেয়াঘাটের মালবাহী ট্রালা ও যাত্রীবাহী ট্রলার থেকে ৭০ টাকা থেকে ২০০ টাকা করে চাঁদা তোলে।
এমনকি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও কমিউনিটি পুলিশ টাকা তোলে। আমাদের প্রতিষ্ঠানে চুরি হয়, তারা চোর ধরতে পারে না, অথচ আমাদের ধমকায়। ব্যবসায়ীরা বলেন, চুরির বিষয়ে চাঁদপুর চেম্বার আমাদের কোনো সহযোগীতা করছে না। কিমিনিটি পুলিশের দায়িত্বে অবহেলার কোনোরূপ ব্যবস্থা নেয় না। তাই এ অবস্থাতে আমরা কমিউনিটি পুলিশিং এর অঞ্চল-২ এর সংস্কার চাই। ব্যর্থতার দায়ে কেবলমাত্র কিমিউনিটি পুলিশ সদস্যই নয়, নেতৃত্বের সংস্কার চাই। প্রয়োজনে আমরা নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ দিবো। এদিকে চুরির খবর পেয়ে পুরাণবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. মামুদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। খতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা অভিযোগ দিলে অমরা চোর ধরার সরর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। তবে পূর্বের চুরির ঘটনায় ব্যাবসায়ীরা আমাদের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নিবো।