চাঁদপুরের ৩০ জন চিকিৎসক পরিবারকে দূরে রেখেই করোনার চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছে

মোহাম্মদ বিপ্লব সরকার, চাঁদপুর প্রতিনিধিঃ দেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্তের পর থেকে পর্যায়ক্রমে শনাক্ত ও মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। যেখানে সবাইকে করোনা আক্রান্ত রোগী থেকে দূরে থাকতে বলা হচ্ছে, সেখানে সংক্রমণ ঝুঁকি জেনেও চিকিৎসক ও নার্সরা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন আক্রান্তদের। এরূপ চাঁদপুরে ৩০ জনের একদল চিকিৎসক ঝুঁকি নিয়ে জেলার প্রধান চিকিৎসাকেন্দ্র ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে করোনা রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন। তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন চাঁদপুর মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষকরাও। এদের অনেকেই এক-দুই মাস ধরে পরিবারের সঙ্গে দেখা পর্যন্ত করতে পারেননি। সেবার ব্রত রয়েছেন তারা।

জানা যায়, চাঁদপুরে গত ২৪ মে পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়েছে শতাধিক মানুষ। আক্রান্তদের বেশিরভাগই চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এসব রোগীকে সেবা দিতে চিকিৎসকরা একটানা সাত দিন করে থাকছেন হাসপাতালে। এরপর থাকতে হচ্ছে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে। কোনও কোনও চিকিৎসক দুই মাস ধরে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে হাসপাতালেই রয়েছেন। চিকিৎসকদের পাশাপাশি নার্সসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও সমানতালে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. জামাল সালেহ উদ্দিনের নির্দেশনায় এই দুর্যোগকালে সদর হাসপাতালে চিকিৎসায় যুক্ত হয়েছেন চাঁদপুর মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষকরা। আর জেলার পুরো করোনা পরিস্থিতির সার্বিক বিষয় তদারকি করছেন সিভিল সার্জন ডা. মো. সাখাওয়াত উল্যাহ। সদর হাসপাতালে নমুনা সংগ্রহ থেকে শুরু করে আক্রান্তদের চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন অন্তত ৩০ জন চিকিৎসক।

এরমধ্যে করোনাকালে হাসপাতালের সার্বিক সেবা কার্যক্রম তদারকি করছেন তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. হাবিব-উল-করিম, বিএমএ সভাপতি ডা. এমএন হুদা, সহকারী পরিচালক ডা. একেএম মাহবুবুর রহমান। এছাড়া বিএমএ সেক্রেটারি ডা. মাহমুদুন নবী মাসুমও এই দুর্যোগকালে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।