চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে চা বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন বিধবা ফাতেমা বেগম

মোহাম্মদ বিপ্লব সরকার, চাঁদপুর প্রতিনিধ: চাঁদপুরে জেলার শাহরাস্তি উপজেলার ও পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ড উপলতা গ্রাম। পূর্ব উপলতা গ্রামের ব্যাপারি বাড়ির স্বামীহারা বিধবা নরী ফাতেমা বেগম (৪৫)। ১ ছেলে ৩ মেয়ে নিয়ে তার সংসার। ফাতেমা বেগম স্বামীর অবর্তমানে সন্তানদের নিয়ে মাথা উঁচু করে বাঁচতে চান।

ফাতেমা বেগম মৃত স্বামী তাজুল ইসলামের বসতঘর লাগোয়া চা দোকান দিয়ে কোন রকমে সংসার চালাচ্ছেন।২০১৯সালের ১মে তাজুল ইসলাম মৃত্যুবরণ করেছেন। স্বামীর মৃত্যুরপর তার গড়া চা দোকান চালিয়েই দিন যাপন করে আসছেন ফাতেমা বেগম। তিনি জানান, স্বামীর জীবদ্দশায় বড় শখ করে ছেলের বিয়ে দিয়েছেন। ছেলের বৌ সহ আমরা একই সাথে বসবাস করছি। সংসারে ছেলে, ছেলের বৌ ও তিন মেয়ে ও আমিসহ পরিবারে সদস্য সংখ্যা ৬ জন। বড় মেয়েকে বিয়ে দেয়ায় এখন পরিবারে সদস্য সংখ্যা ৫জন।

ছেলে ভ্যানগাড়ি চালিয়ে যা উপার্জন করে তাতে সংসার চলে না। তাই বাধ্য হয়ে আমি স্বামীর গড়া চা দোকানের হাল ধরেছি। মেজো মেয়ে তানিয়া আক্তার কে স্থানীয় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করিয়েছি। ছোট মেয়ে সুলতানা আক্তার(৭)স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে লেখাপড়া করে। ফাতেমা বেগম আরো জজানান, টাকার অভাবে দোকানে মালপত্র তুলতে পারিছি না। তাই এলাকার মানুষের চাহিদা থাকা সত্বেও সদাই সরবরাহ দিতে পারিনা।

এখন সারাদিনে চা-পান ও অন্যান্য সদাই বিক্রি করে দিনে ১শ থেকে দেড়শ টাকা থাকে। যদি পণ্য সামগ্রী দোকানে তুলতে পারতাম তবে দৈনিক ৪শ ৫শ টাকা আয় করা সম্ভব হতো । আমি গরিব মানুষ এতটাকা পুঁজি কৈ পামু? এখন করোনা মহামারির সময় সবারই আয়-রুজি কম। কে দিবে আমাকে এতটাকা ধার ? ৪০-৫০ হাজার টাকা হলে মোটামুটি দোকান চালানো সম্ভব। বিধবা ভাতা পর্যন্ত তিনি পাচ্ছেন না।ফাতেমা বেগম জানায়, মৃত্যুর আগে নুরু কমিশনার সকল তথ্যাদি নিয়েছেন শুনেছি সহসা বিধবা ভাতা দিতে পারে।

আনমনে তিনি বলতে শুরু করলেন নুরু কমিশনার লোকটা বড় বালা মানুষ ছিলো। সময়-অসময়ে আমাদের খোঁজ-খবর নিতেন। সুখে-দুঃখে তিনি আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু এতবালা মানুষটা চলে গেলেন। মানুষে বলে বালা মানুষ বেশিদিন বাঁচে না। নূরু কমিশনার বালা মানুষ তাই তারেও আল্লাহ্ নিয়া গেছে। তবে কমিশনারের ছেলে জয়নাল এখন মাঝেমধ্যে আমাদের খোঁজ-খবর নেয়।এ ভাবেতো সংসার চালানো কষ্ট সাধ্য হয়ে পরেছে।