চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে পুলিশ জেলে সংঘর্ষে এএসপি সহ ১৫ পুলিশ সদস্য আহত, আটক ৫

মোহাম্মদ বিপ্লব সরকার, চাঁদপুর প্রতিনিধি: চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে জেলেদের হামলায় ১৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে মা ইলিশ রক্ষা অভিযানে আসা ঢাকা নৌ পুলিশ হেড কোয়াটারের শত সদস্যের একটি টিম শনিবার বিকেল থেকে চাঁদপুর ও শরিয়তপুরের জাজিরা এলাকায় জাহাজ, স্প্রীড বোর্ড ও হেলিকপ্টার নিয়ে অভিযান চালায়।

চাঁদপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাবার সময় দেখে পায় জেলেদের ধাওয়া,করে। এসময় ৭জেলে কে আটক করে। জেলেরা সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশের উপর সকাল সাড়ে ১০টায় হামলা চালায়। এ হামলায় নৌ পুলিশের সদর দপ্তরের সহকারী দু পুলিশ সুপার সহ ১৫ জন নৌ পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়।এদের কে চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ২৫ অক্টোবর রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় চাঁদপুর সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের মেঘনা নদীর লক্ষ্মীরচর এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন ঢাকা নৌ পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হেড কোয়াটার ফরিদা পারভীন (৩৬), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হেলাল উদ্দীন,ইন্সপেক্টর মুজাহিদুল ইসলাম,এস আই ইলিয়াস (৩০),নায়েক ইকবাল হোসেন,নায়েক শাহ জালাল, প্রসেনজিৎ (২৪), কনস্টেবল আল মামুন (২৮), ফেরদৌস শেখ (২৬), নীলয় দেব (২৫), আলামিন (২৫),কাউসার (৩০), মোনায়েম (২৬)।

এছাড়াও আরো বেশ কিছু নৌ পুলিশ কমবেশি আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। আহত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরিদা পারভিন জানান, শনিবার বিকেলে ঢাকা নৌ পুলিশ হেডকোয়ার্টার থেকে নৌ পুলিশ সুপার সফিকুল ইসলাম, ফরিদ আহমেদ, মিনা মাহমুদা এদের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরিদা পারভিন সহ শত সদস্যের একটি টিম নিয়ে মা ইলিশ রক্ষা অভিযানে নামেন। অভিযানের টিমটি ওই দিন বিকেলে মুন্সিগঞ্জ থেকে শুরু করে শরীয়তপুর জেলার জাজিরা এলাকার কাইজ্জার চর অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় তারা ২ শতাধিক জেলে নৌকা নদীতে ফুটো করে ডুবিয়ে দেন। বিপুল পরিমাণ কারেন্ট জাল জব্ধ করে নৌকার মধ্যে রেখেই আগুনে পুড়িয়ে দেন। বিপুল পরিমাণ মা ইলিশ জব্ধ করেন।

ঢাকার উদ্দেশ্যে ফেরার পথে চাঁদপুরের মেঘনা নদীর লক্ষ্মীচর স্থানে আসলে ওই এলাকায় জেলেরা নদীতে নামতে দেখতে পেয়ে তাদের ধাওয়া করে ৫ জন জেলেকে আটক করে। এসময় জেলেরা সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় জেলেরা ইট-পাটকেল ও বিভিন্ন লাঠি সোটা নিয়ে পুলিশ সদস্যদের উপর হামলা চালালে তারা মারাত্মক ভাবে আঘাত প্রাপ্ত হয়। অভিযানে থাকা অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পুলিশ আত্মরক্ষার্থে প্রায় অর্ধশত রাউন্ড শটগান ও টিয়ার সেলের ফাকা গুলি ছুরে। আহত ইন্সপেক্টর মুজাহিদ জানান, তারা শনিবার দিবাগত রাতে ঢাকা হেডকোয়ার্টার থেকে প্রায় শতাধিক পুলিশ সদস্য ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা নিয়ে শরীয়তপুর জেলায় অভিযানে আসেন। সেখান থেকে ফিরে যাওয়ার পথে চাঁদপুরের মেঘনা নদীর লক্ষ্মীচর স্থানে গেলে তারা দেখেন যে মেঘনা নদীতে অনেক জেলেরা মা ইলিশ নিধন করছে।

এ সময় তারা বিভিন্ন স্পিডবোট এবং ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও জেলেদেরকে আটক করেন। পরবর্তীতে ওই এলাকার সমস্ত জেলেরা একজোট হয়ে তাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। আটক ৫ জেলে হলো আমিরাবাদ এলাকার নবীর হোসেন (৩০), মাহফুজ (১৮), শাহজালাল (২০), খলিল (২৫), রুবেল (২০), কাবিল হোসেন (১৮) ও ওমর ফারুক (১৮)। গুরুতর আহত এ.এস.পি হেলাল উদ্দিন, ফরিদা পারভীন, নায়েক ইকবাল হোসেন, ইন্সপেক্টর মুজাহিদুল ইসলাম, নায়েক শাহজালাল কে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।