চলছে দিল্লির বিধান সভার নির্বাচনের ভোটগ্রহণ

দিল্লির বিধান সভার নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে। সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া ভোট গ্রহণ চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।

৭০ আসনবিশিষ্ট দিল্লি বিধানসভার মোট ১ কোটি ৪৭ লক্ষ ৮৬ হাজার ৩৮২ জন ভোটদাতা এ দিন প্রার্থীদের ভাগ্য নির্ধারণ করবেন। পরীক্ষায় কোন দল উত্তীর্ণ হল, কারা হল না তার উত্তর জানা যাবে ১১ ফেব্রুয়ারি।

নির্বাচন উপলক্ষে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মুল প্রতিদ্বন্দ্বীতা হবে রাজ্যে ক্ষমাতাসীন আম আদমি পার্টির সাথে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপির। যদিও প্রায় সবকটি জরিপ বলছে এবারেও ক্ষমতায় আসতে চলেছে আম আদমি পার্টি।

দিল্লি ভোটের হাল হকিকত—

• সকাল ১১টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে প্রায় ৭ শতাংশ।

• স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ এ দিন বলেন, “দিল্লিবাসীদের কাছে আমার আবেদন, দিল্লিকে মিথ্যা এবং ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি থেকে মুক্ত করুন।” পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, “স্বচ্ছ বাতাস, স্বচ্ছ পানীয় জল এবং প্রত্যক গরিবকে নিজের ঘরের ব্যবস্থা করে দিল্লিকে বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর রাজধানী বানাতে পারে দূরদৃষ্টিসম্পন্ন এবং প্রবল ইচ্ছশক্তিসম্পন্ন সরকার।”

• সকাল ৯টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৪.৯ %।

• এ বারের নির্বাচনে প্রায় ২ লক্ষ ১০ হাজার নতুন ভোটার রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভোট ফ্যাক্টরের অনেকটাই নির্ভর করছে এই নতুন ভোটারদের উপর।

• ২ হাজার ৭০০টি পোলিং স্টেশন তৈরি করা হয়েছে। গঠন করা হয়েছে ১৩ হাজার পোলিং বুথ।

• শনিবার সকালেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী টুইট করে নতুন প্রজন্মকে ভোটদানের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আজ দিল্লির বিধানসভা নির্বাচন। সব ভোটারের কাছে আমার আবেদন, আপনারা গণতন্ত্রের এই উত্সবে অধিক সংখ্যায় অংশগ্রহণ করুন। বিশেষ করে আমার নতুন প্রজন্মের বন্ধুরা।”

• আপ সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরীবাল আবার দিল্লির মহিলা ভোটারদের ভোটদানের আহ্বান জানিয়ে টুইটে লিখেছেন, “আপনারা যেমন ঘরের সমস্ত দায়িত্ব সামলান, তেমনই দেশ ও দিল্লির দায়িত্বও রয়েছে আপনাদের কাঁধে। আপনারা নিজেরাও ভোট দিতে যান। সঙ্গে ঘরের পুরুষদেরও ভোট দিতে নিয়ে যান। ঘরের পুরুষদের সঙ্গে আলোচনা করুন কাকে ভোট দেওয়া উচিত।”

• শাহিন বাগ ও জামিয়া মিলিয়া— এই দুটো জায়গাকে আগেই নির্বাচন কমিশন ‘অত্যন্ত সংবেদনশীল’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। তাই ভোট শুরুর আগে থেকেই এই দুই জায়গায় নিরাপত্তার বহর বাড়ানো হয়েছে। তবে এ দিন সকাল থেকেই শাহিন বাগের বুথগুলোতে যথেষ্ট পরিমাণে ভোটারদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

• সকাল সকাল ভোট দিয়েছেন বিজেপি নেতা রাম মাধব। ভোট দিয়েছেন কেন্দ্রীয় বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

এই নির্বাচনে বিজেপি এবং আপ— দুই দলের মধ্যেই শাহিন বাগের আন্দোলন নিয়ে  রীতিমতো তরজা চলেছে। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ), জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) এবং জাতীয় জনসংখ্যা পঞ্জি (এনপিআর)-র বিরুদ্ধে গত ডিসেম্বর থেকে আন্দোলনে নেমেছেন শাহিন বাগ মহিলারা। সেই শাহিন বাগের আন্দোলনকে হাতিয়ার করে এ বারের দিল্লি বিধানসভার ভোট-যুদ্ধে নেমেছেন  রাজনীতির কারবারিরা। এক দিকে যেমন বিজেপির বিরুদ্ধে এ নিয়ে মেরুকরণের রাজনীতি করার অভিযোগ তুলেছে আপ। অন্য দিকে, রাজধানীর উন্নয়নের বদলে কেজরীর বিরুদ্ধে শাহিন বাগের আন্দোলনকারীদের সমর্থনের অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। তবে শেষমেশ কার পাল্লা ভারী হবে, তা ঠিক করবেন রাজধানীর ভোটাররাই!