চরম দুর্ভোগ গার্মেন্টস-যাত্রায় প্রথম দিন

মোঃরাশেদ,চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ করোনা ভাইরাস প্রকোপের মধ্যেই চালু হয়েছে নগরীর বেশকিছু রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস। পরিবহন ব্যবস্থা না থাকায় খোলার প্রথম দিন আসা-যাওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে গার্মেন্টস শ্রমিকদের। এছাড়া অনেক গার্মেন্টসে সামাজিক দূরত্ব মানা হয়নি বলে অভিযোগ শ্রমিকদের। তবে বেপজার দাবি শ্রমিকদের শতভাগ স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে কারখানা চালু করা হয়েছে। গার্মেন্টসকর্মীরা জানান, ‘যাতায়াতে কোনো ধরনের ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে দূরের শ্রমিকদের আসা-যাওয়ায় পোহাতে হয়েছে চরম দুর্ভোগ। কেউ কিছু পথ হেঁটে, কিছু পথ রিকশায় চড়ে ২-৩ গুণ বেশি ভাড়া দিয়ে কর্মস্থলে পৌঁছেছে।
বিকালে গার্মেন্টস ছুটির পর শ্রমিকদের দুর্ভোগ বাড়ে আরো বহুগুণে। বিকাল সাড়ে ৩টা-৪টার মধ্যে ছুটি হয় ইপিজেডের কারখানাগুলো। দুপুর থেকে শুরু হওয়া গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে ভেজা হয়ে বহুপথ হেঁটে শ্রমিকরা ফিরেছেন বাসায়। নগরীর ইডিজেড এম জেড এম এর সিনিয়র অপারেটর বলেন, ‘আমাদের জন্য যাতায়াতের কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। আসা-যাওয়ায় খুব কষ্ট পেয়েছি। ভাড়াও ২-৩ গুণতে হয়েছে। বিকাল ৪টায় অফিস ছুটির পর হেঁটে সিমেন্ট ক্রসিং পর্যন্ত আসতে হয়েছে বৃষ্টিতে ভিজে। আমার মত শত শত শ্রমিক ভিজে হেঁটেই এসেছে বহুপথ। পরবর্তীতে ২০০টাকা দিয়ে দু’জনে মিলে একটি রিকশা নিয়ে কোতোয়ালী আসি।’ এ বিষয়ে সিইপিজেডের দায়িত্বে থাকা বেপজার মহাব্যবস্থাপক খুরশীদ আলম বলেন, ‘যেসব শ্রমিক কারখানার আশপাশে থাকবে আমরা শুধু তাদের আনতে বলেছি কারখানা মালিকদের।
বিষয়টা আমরা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি। কারণ কারখানাগুলোতে মাত্র ৫-৬টি লাইন চালু হয়েছে। এ কারণে আমরা ২০-২৫ শতাংশ শ্রমিক অনুমোদন করেছি।’ জানা গেছে, সরকারি নির্দেশনা মেনে গতকাল রোববার নগরীর তিন ইপিজেড, কর্ণফুলীর ইপিজেড, আনোয়ারা কোরিয়ান ইপিজেড এবং নাসিরাবাদ, কালুরঘাট, নন্দীরহাট, বারিক বিল্ডিং এলাকার শতভাগ রপ্তানিমুখী কারখানাগুলো চালু হয়েছে। ইপিজেডের দায়িত্বে থাকা বেপজার মহাব্যবস্থাপক খুরশীদ আলম বলেন, ইপিজেডে তৈরী পোশাক, তাঁবু, ফেব্রিক্স, জুতাসহ বিভিন্ন পণ্যের কারখানা রয়েছে ১৫৮টি। শ্রমিক সংখ্যা প্রায় ২ লাখ। খোলার প্রথম দিন ৩৫-৪০ হাজার শ্রমিক উপস্থিত ছিল। ৬৫টি কারখানা ২০-২৫% শ্রমিক নিয়ে কাজ শুরু করেছে।
আর বাকি ১০-১৫ কোম্পানি সকালে শিপমেন্ট করে এক্সপোর্ট কন্টেইনার বের করে দিয়ে ‘লে আউট’ করে ওরা ওদের মত শ্রমিকদের ছেড়ে দিয়েছিল।’ এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নগরীর কালুরঘাট এলাকার একটি কারখানায় কর্মরত একজন মহিলা শ্রমিক জানান, কারখানায় শুধু হাত ধোয়া ও মাস্ক পরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু সামাজিক দূরত্বের নিয়ম মানা হয়নি।’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেপজার মহাব্যবস্থাপক খুরশীদ আলম বলেন ‘শ্রমিকদের সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে প্রতিটি কারখানায় একটা মেশিন গেপ দিয়ে দিয়ে বসানো হয়েছে। এজন্য মনিটরিংও বাড়ানো হয়েছে। কারখানায় ওদের একটি টিম ও আমাদের একটি টিম কাজ করছে। আমার মনে হয় এ বিষয়ে আমরা কারখানাগুলোকে বাধ্য করতে পারব।